বিদেশ পাঠানোর কথা বলে এতিম ভাতিজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কুমিল্লার আদালতে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার:
বিদেশ গিয়ে চাকুরী করার কথা মুখে আনলে মানুষ “আদম” হয়ে যায়। এই আদমরা নিজেদের ভাগ্য ফেরানোর জন্য ত্রাণ কর্তা হিসেবে বেছে নেয় আদম ব্যপারীদের। বাপের ভিটা, স্ত্রীর নোলক, মায়ের হাতের সোনার বালা আর হালের বলদ বিক্রি করে এবং আত্মীয় স্বজন সহ বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে সংগৃহিত পুরো টাকাটাই তুলে দেয় আদম ব্যাপারীদের হাতে। আর সে টাকা যদি চিট হয়ে যায় তা হলে পরিস্থিতিটা কি দাঁড়ায়, ভাবতেই মাথা ঘুরে যায়। আদম ব্যাপারীরা আপন-পর চিনে না শুধু বুঝে প্রলোভন দিয়ে বিদেশ পাঠানোর নাম করে সহজ সরল মানুষকে সর্বশান্ত করা। আশ্চার্য হলেও সত্য যে, আপন ভাতিজার কাছ থেকে মেয়ের জামাইয়ের মাধ্যমে বিদেশ নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে কুমিল্লার ১নং আমলী আদালতে বি-বাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার বর্তমান হাল সাং কুমিল্লা শহরের দক্ষিণ চর্থা এলাকার বশির আহাম্মদ বাদি হয়ে একই জেলার জজু মিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ বাহাউদ্দিন মামলাটি কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট আগামী ১৮ই আগষ্ট এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। মামলার বিবরনে জানা যায়, বাদীর ছোট বোন জামাই আঃ হান্নানকে বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলে বিবাদী জজু মিয়া ও তার মেয়ে শাহানা জানতে পেরে বাদীকেসহ তার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখায় যে, বিবাদীর মেয়ে শাহানার স্বামী বাহরাইন থাকে। এদের নিকট ভাল ভিসা আছে। তাদের মাধ্যমে বিদেশ গেলে মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকুরী করতে পারবে। বাদী এতেও রাজী না হলে জজু মিয়া বাদী বশিরের কুমিল্লা শহরের বাসায় আসা যাওয়া করতে থাকে। এক পর্যায়ে বাদীর সহপাঠিদের সাথে কথা হলে সহপাঠিদের পরামর্শে জজু মিয়ার এলাকার কয়েকজন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে ১৪ই জুন,০৯ইং লিখিত ভাবে নগদে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ ও বিদেশ নেওয়ার সময় ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের মাধ্যমে মোট ৩ লক্ষ টাকা চুক্তিপত্র হয়। কিন্ত পরে জজু মিয়া বিদেশ না পাঠিয়ে বিভিন্ন টাল-বাহানা শুরু করে। এ বিষয়ে এলাকায় একাধিক শালীশ মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত ১৮ই জুন এক শালিশ দরবারে বাদীর পাওনা দাবীকৃত ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো বাদীকেসহ তার পরিবারের লোকজনদের হুমকী-ধমকী দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে জানতে জজু মিয়ার মেয়ের জামাই মিজানুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন চেষ্টায় আছি ভিসা দিতে না পারলে আমরাই টাকা ফেরত দিয়ে দিব তবে মামলার বিষয়ে অবগত নন। বাদী বশির আহাম্মদের অভিযোগের সত্যতা জানতে কুমিল্লা শহরের দক্ষিণ চর্থায় গিয়ে একাধিক সমস্যা প্রমাণ মিলে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস, আই মহিউদ্দিন জানান, বিষয়টি তদন্ত চলছে যথা সময়ে আদালতে রিপোর্ট দেয়া হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...