স্কুল কলেজে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন ও কিছু প্রাসংগিক ভাবনা


স্কুল কলেজে কম্পিউটার ল্যাবরেটরী আমাদের দেশের জন্য মোটেও ফলপ্রসু সমাধান নয় । একটা কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করতে অন্তত দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা প্রয়োজন। এ টাকা দিয়ে কম্পিউটার ল্যাব করার চেয়ে দুইটি ল্যাপটপ ক্রয় করে স্কুলের ডিজিটাল কর্মকান্ড চালু করা যায় । প্রথম এক বছর স্কুল কলেজে দুইটি করে ল্যাপটপ দেয়া যেতে পারে। একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে অন্যটি দেয়া হবে কম্পিউটার শিক্ষককে। যদি স্কুলে একটিমাত্র কম্পিউটার দেয়া হয় স্বাভাবিক ভাবেই তা স্কুল প্রধানের নিয়ন্ত্রনে থাকাটাই স্বাভাবিক এবং সে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসাবে ব্যবহার করবে, এটা খুবই ভাল এতে সে এবং তার পরিবার আইটি লিটারেট হবে। অন্য ল্যপটপটির দেয়া হবে কম্পিউটার শিক্ষককে যে কিনা তার ল্যপটপটি দিয়ে তার অর্ধসমাপ্ত কম্পিটার বিদ্যা ঝালাই করে নিতে পারবে । কারন দেশের আধিকাংশ কম্পিউটার শিক্ষক চাকুরী ধান্ধায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সাটিফিকেট যোগাড় করে । তারা ধ্যান ও জ্ঞান কম্পিটারে নিয়োজিত না করায় তারা দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হয় । এছাড়াও আমাদের স্কুল কলেজের অদিকাংশ কম্পিউটার শিক্ষকের কম্পিটার নাই। তাই তাকে ল্যাপটপ দিলে ল্যাপটপটি স্কুলের বাইরে ব্যক্তিগত সময়েও বিদ্যা আর্জন করতে পারবে। কম্পিউটার শিক্ষকের কাজ হল ক্লাসে ক্লাসে ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া এবং কম্পিউটারে কি কি করা যায় এটা ডিসপ্লে করা । এভাবে সে সবার মাঝে কম্পিউটার ব্যবহারের একটা আগ্রহ সৃষ্টি করতে থাকবে। এভাবে দুইটি ল্যাপটপ ব্যবহার করে দুইটি লাভ পাব।
১। প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যাক্তিগত পযার্য়ে কম্পিউটার ব্যবহার করে কম্পিউটার সম্পর্কে তার আগ্রহ বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবে কম্পিউটার প্রসার বাড়বে । তাই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ব্যক্তিগত পযার্য়ে ব্যবহারের জন্য ল্যাপটপ দেয়া অতন্ত্য জরুরী।
২। কম্পিটার শিক্ষক ল্যাপটপ ব্যবহারের ফলে সে নিজের উন্নতি করে আরোও সবাইকে কম্পিউটার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে পারবে।
৩। ডেক্সটপের বদলে ল্যাপটপ ব্যবহার করলে বিদ্যুত সমস্যা মিটানো যাবে। কারন গ্রামান্ঞলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুত থাকে না।
প্রথম বছর দুই ল্যাপটপ দিয়ে সকল শিক্ষক ও সকল ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে উদ্বুদ্ধকরন কাযক্রম চালানোর পর দ্বিতীয় বছর একলক্ষ টাকায় যে কয়টি কম্পিউটার পাওয়া যায় সে কয়টি দিয়ে একটি মিনি কম্পিউটার ল্যাব চালু করা যেতে পারে। এতে ক্রমান্বয়ে পূরবে কম্পিউটার শিক্ষককে দেখে অনেক ছাত্র/ছাত্রীর আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল তারা ল্যাবে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করবে।
তৃতীয় বছর ছাত্র/ছাত্রীর আগ্রহ দেখে তাদের প্রয়োজন ও চাহিদা মোতাবেক কম্পিউটার ল্যাবে কম্পিউটার সংখ্যা বাড়ানো যাবে।
এভাবে বছর বছর কম্পিউটার ল্যাবে কম্পিউটার সংখ্যা ও ব্যবহারকারী দুই বাড়তে থাকবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সরকার বিভিন্ন স্কুল কলেজে কম্পিটার ল্যাব করে দিচ্ছে। এতে অনেক টাকা খরচ করে ক্রমান্বয়ে একের পর এক স্কুলকে দিচ্ছে। এভাবে না করে প্রথম বছর দুইটি করে ল্যাপটপ আনেক স্কুল কলেজে দেয়া সম্ভব একই কম্পিইটার ল্যাব করার বাজেট দিয়ে।
দ্বিতীয় বছর আনেক স্কুল কলেজে মিনি ল্যাব স্থাপন করা সম্ভব।
অনেক রাজনীতিবিদ হয়ত ভাবতে পারেন, এতে হয়ত রাজনৈতিক প্রচারনার ক্ষতি হতে পারে এবং কম্পিউটার ক্রয়ের টেন্ডার ও ব্যাবসার ক্ষতি হতে পারে। মোটেই তা হবে না। সরকার ১০০ স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করতে যে টাকা খরচ করত সেরুপ একই টাকা দিয়ে সহস্রাধিক স্কুলে ল্যাপটপ দিতে পারবে।তখণ ১০০ এর স্থলে ১০০০ সংবাদ ল্যাপটপ বিতরনের ছবিসহ প্রচার করতে পারবে । কম্পিটার ল্যাব স্থাপনের স্থলে ল্যপটপ ক্রয় করার টেন্ডার হবে, কোন আর্থির্ক ক্ষতি হচ্ছে না। শুধুমাত্র কেনার প্রক্রিয়া বদল করে ডিজিটাল বাংলাদেশের কযর্ক্রম দ্রুত ও গতিশীল করা সম্ভব। সে সাথে রাজনৈতিক প্রচারনাও বৃধ্ধি করা সম্ভব।
লেখক—–মো: তারেক মাহমুদ সরকার

Check Also

দেবিদ্বারে মাদ্রাসার ফলাললে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে : পিছিয়ে কলেজ

দেবিদ্বার প্রতিনিধি :– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় এবারের এইচ এস সি ও আলিম পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ ...

Leave a Reply