স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও কথা বলার স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা লাভ না করা খুবই দুঃখজনক : নিউইয়র্কে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক


ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২৬ জুন, (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :
২৪ জুন বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বাংলা মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পরও মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা তথা গণতন্ত্রের চর্চা প্রতিষ্ঠা লাভ না করা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন এই প্রথম সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটা পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হল। সরকারের এক্সিকিউটিভ অর্ডারে প্রত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু এক্সিকিউটিভ অর্ডারের বিরুদ্ধে হাইকার্টের রায়ের পরও সুপ্রিম কোর্টে অল্পসময় শুনানি করে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত পূনর্বহাল করা হয়।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন আমরা হতাশ হলেও দেশের বাইরে আমাদের দেশের ব্যাপারে যথেষ্ট ইতিবাচক ধারণা রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারসহ সকলেরই বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি সংরণে সচেষ্ট হতে হবে। তিনি আরও জানান, ইন্টারন্যাশনাল পলিসি ইনস্টিটিউট কিছুদিন আগে বাংলাদেশের প্রাইভেট সেক্টর সম্পর্কে বলেছে যে, বাংলাদেশের এই সেক্টর খুবই ভাইব্র্যান্ট এবং সেখানে সরকারের অবদান খুবই সামান্য। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতেও পারে।
সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক জানান প্রত্রিকা বন্ধের বিরুদ্ধে তাৎণিকভাবে আমরা হাইকোর্টে আবেদন জানানোর পর আড়াইদিন হাইকোর্টে শুনানি হল তারপর হাইকোর্ট সরকারী আদেশ স্থগিত করে রায় দিলেন।কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার জাজ ১২ মিনিট শুনে সেই রায় স্টে করে দিলেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখানে মাহমুদুর রহমান কে, আমার দেশ কার পত্রিকা -সেটা বড় কথা না। বড় কথা হল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা বাংলাদেশে যত তাড়াতাড়ি তা পুনর্বহাল করতে পারব ততই আমাদের দেশের জন্য ভাল, বর্তমান সরকারের জন্যও তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, গত বছর মাহমুদুর রহমান একটা খবর ছাপিয়েছিলেন তার পত্রিকায়। তিনি লিখেছিলেন শেভরনের সাথে ড. তৌফিক এলাহি চৌধুরীর একটা ডিল হয়েছিল যার সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও সংশ্লিষ্ট ছিলেন। হতে পারে খবরটা সত্য, বা হতে পারে খবরটা মিথ্যা। কিন্তু মাহমুদুর রহমান তার পত্রিকায় সেব্যাপারে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এজন্য তাকে যথেষ্ট খেসারত দিয়ে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২২ টা জেলায় ২৩ টা মামলা হয়েছে একই ঘটনায়। একটা ঘটনায় একটা মামলা হতে পারে। আর মামলার বাদী হতে পারে তৌফিক এলাহি চৌধুরী। কিন্তু তৃতীয় কোন ব্যক্তির দ্বারা এতগুলো উড়ো মামলা হওয়ার যৌক্তিকতা নেই। তারপরে এন্টিকরাপশন কমিশন তার পিছু নিল। শেষ পর্যন্ত তার পত্রিকারই পাবলিশারকে দিয়ে একটা মামলা করিয়ে তাকে গ্রেফতার করে নেয়া হল। এসবও বুঝলাম, তারা করেছে তাদের জিঘাংসা চরিতার্থ করতে। কিন্তু এভাবে তাকে টর্চার করাটা কতবড় অন্যায় কাজ হয়েছে। তিনি একজন ৫৭ বছরের বয়স্ক লোক। একজন সিনিয়র সিটিজেনকে এভাবে শুধুমাত্র সাংবাদিকতার কারণে এ ধরনের রিমান্ডে নেয়া বা টর্চার করা দেশের জন্য খুবই ভয়াবহ এক সংবাদ। রিমান্ডের যৌক্তিকতা প্রশ্নে তিনি বলেন, রিমান্ডে নেয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে। একজন আইনজীবি থাকতে হবে, রিমান্ডের আগে পরে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হবে ইত্যাদি। কিন্তু কোন কিছুই মানছে না আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসহ অনুসন্ধান বা জিজ্ঞাসাবাদকারী সংস্থাগুলো। কোর্টের অর্ডার সত্ত্বেও মাহমুদুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে উপর্যুপরি নির্যাতন করলে তিনি মারাও যেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জনাব আব্দুর রাজ্জাক।
“তিনি বলেন বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার ইসু্য নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে আমেরিকার প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন দেশে সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, টেলিভিশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরগুলোয় তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
যুদ্ধাপরাধের প্রসঙ্গে তার দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সম্পৃক্ততার প্রশ্ন করলে তিনি জানান আমাদের দলে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই। চিহ্নিত যে ১৯৫ জনকে বিচার করার জন্য ১৯৭৩ সালের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুন্যাল এ্যাক্ট করা হয়েছিল তাদেরকে ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিলের শিমলা চুক্তি অনুযায়ী তখন ফরগিভ এন্ড ফরগেট করা হল। তাদের সকলেই পাকিস্তানি আর্মির অফিসার ছিল এবং বিশেষভাবে শুধু তাদের বিচার করার ক্ষেত্রে সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার তারা পাবেনা বলা হয়েছিল। কিন্তু সিভিলিয়ান পাকিস্তানি প্রশাসনের পাবলম্বনকারীদের জন্য কোলাবরেটরস্ এ্যাক্ট করা হয়েছিল। এখন ঐ বিশেষ আইনটি ২০০৯ সালে কসমেটিক এমেন্ডমেন্ট করে এখন সিভিলিয়ান কোলাবরেটরদের বিচার করার যে প্রক্রিয়া চলছে তাতে মানবাধিকার ব্যাহত হবে বলে জানান ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।
নিয়মিত অবকাশ ভ্রমনে লন্ডন ও আমেরিকা সফরের অংশ হিসেবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ওয়াশিংটন ডিসি ও নিউইয়র্ক সফর করেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে ওআইসি তে নিযুক্ত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্পেশাল এনভয় রাশেদ হুসেইন, ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট (সাউথ এশিয়া) ড. কেশাব এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাছাড়া এককালে ঢাকায় আমেরিকান রাস্ট্রদূত হাওয়ার্ড শেফার্ড ও তার স্ত্রী সহ বন্ধুবান্ধব ও বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে তিনি মতবিনিময় করেন। আলোচনায় মুসলিম বিশ্বের ও বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে ইতিবাচক বিষয়বস্তুর উপর আলোকপাত করা হয় বলে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। ইসরাইল, মধ্যপ্রাচ্য ও বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও বারাক ওবামার প্রশাসনের সাথে মত বিনিময় করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের সাপ্তাহিক ঠিকানা, এখন সময়, সাপ্তাহিক বাঙ্গালী, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ, বাংলাপত্রিকা, বর্ণমালা, বার্তা সংস্থা এনা, প্রবাসীবাংলা ডটকম, ঢাকার দৈনিক যুগান্তর ও নয়া দিগনত্মের সাংবাদিক সহ অন্যান্য বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply