মুরাদনগরের বাঙ্গরা গ্যাস ক্ষেত্রে উৎপাদন চালু হলেও লোডশেডিং কমছে না


মো.হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর :
মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা গ্যাস ক্ষেত্রটিতে গ্যাস উৎপাদন চালু হলেও বিদ্যুতের লোডশেডিং কমছে না। তবে দু-এক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন।
এ দিকে পেট্্েরাবাংলার উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বাঙ্গরা গ্যাস ক্ষেত্রটি আবারো গ্যাস উৎপাদন চালু করেছে। মাত্র ২ ঘন্টার মধ্যে এর গ্যাস আশুগঞ্জে পৌঁছেছে। ওই রাতেই বন্ধ থাকা ৩টি গ্যাস কুপ এবং বৃহস্পতিবার সকালে আরো ১টি গ্যাস কুপ চালু করা হয়েছে। এ থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে ১২ কোটি ঘনফুট। বাঙ্গরা গ্যাস ক্ষেত্রটি গত ৭জুন সন্ধ্যায় একটি বিকট শব্দ হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এটি পরিচালনায় রয়েছেন বিদেশী কোম্পানী তাল্লো। এ দিকে বুধবার রাতে বাঙ্গরা গ্যাস ক্ষেত্র উৎপাদনে ফিরলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়েনি। সংশ্লিষ্টরা ধারনা করছেন, দু-এক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানায়, শুধু যান্ত্রিক ত্র“টির কারনে এ সংকট নয়, কমিল্ল¬ার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা গ্যাস ক্ষেত্র বন্ধ হওয়ায় এ সংকট আরো তীব্রতর হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পিডিবি’র হিসেবে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫ হাজার ৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট। পিডিবি’র হিসাবেই ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৬০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ। তবে বে-সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬ হাজার মেঘাওয়াট। এ হিসেবে লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৩৬০ মেঘাওয়াট। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকটি ইউনিট এখনো বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ ঘাটতি বেশী হওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারো শুরু হয়েছে ‘বিদ্যুতের মিস কল’। আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি’র সমস্যার কারনে বিদ্যুতের লুকোচুরি চলছে। লোডশেডিং আর বিদ্যুতের লুকোচুরিতে মানুষের ভোগান্তি অনেক বেড়ে গেছে। হাতে গোনা দু-একটি এলাকা ছাড়া গোটা দেশবাসীই তীব্র লোডশেডিংয়ে অসহনীয় দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা থেকেও জনগন বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সব এলাকায় প্রায় সারা দিনই লোডশেডিং হচ্ছে। অথচ গত বছরও পরিস্থিতি এত খারাপ ছিল না। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ অনেক কম পাওয়ায় বিতরন সংস্থা ও কোম্পানী গুলো লোডশেডিংয়ের সময়সূচি ঠিক রাখতে পারছেন না। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২০/২১ ঘন্টা লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি প্রায় পতিদিনই মুরাদনগর উপজেলার অধিকাংশ এলাকা ‘বিদ্যুতের মিস কল’র কবলে পড়ছে। এতে উপজেলার সব এলাকায় চলছে আলো- আঁধারির লুকোচুরি খেলা। আর অনেক গ্রামে ৩/৪ ঘন্টা পর পর ১০/১৫ মিনিটের জন্য বিদ্যুতের দেখা মিলে। বেশীরভাগ গ্রাম ২০/২১ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন থাকে। বিদ্যুতের এই লোডশেডিং হওয়ার যন্ত্রনায় মানুষ অতিষ্ঠ। বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূক্তভোগীরা প্রতিদিনই মুরাদনগর প্রেসক্লাবে ফোন করে তাদের দূর্ভোগের কথা জানায়।
মোচাগড়া এলাকার গৃহিনী তানিয়া আক্তার জানান, সারাদিনই ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুৎ চলে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ অবস্থার পাশাপাশি বিদ্যুতের ‘মিস কল’ সমস্যায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে কোলের শিশু সন্তান ছটফট করতে থাকে। শ্রীকাইল বাজারের শাহজাহান সওদাগর জানান, কিছুদিন আগেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর কয়েকদিন আগ থেকে শুরু হয় অসহনীয় লোডশেডিং। সারা দিন বিদ্যুৎ যাওয়া- আসার পর বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্তও একই অবস্থা চলতে থাকে। এ কারনে একটি খেলাও সম্পূর্ন দেখা যায় না। মুরাদনগর নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এ,এম,এম মুজিবুর রহমান জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারনে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়া দারুন ভাবে বিঘিœত হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি কম্পিউটার শিক্ষার প্রতি খুবই আগ্রহী, অথচ বিদ্যুতের অভাবে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বিষয়টির প্রতি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ী বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply