কুমিল্লায় যত্রতত্র কিন্ডার গার্টেন পড়ালেখার মান নিয়ে সংশয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা থেকে :
সন্তানরা স্কুলের ঘরের ভেতরে ক্লাশ করছে কিংবা পরীক্ষা দিচ্ছে। আর বাহিরে উদ্যোগ আর উৎকন্ঠা নিয়ে শত শত অভিভাবক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারীর বাহিরে কিংবা প্রাঙ্গনে অপেক্ষা করছে। এ দৃশ্য এক সময় মফস্বলের অভিভাবকরা টেলিভেশনের পর্দায় প্রত্যক্ষ করলেও এখন তারা নিজেরাই এ পরিস্থিতির স্বীকার। গ্রাম পর্যায়ে শহরের ন্যায় ব্যাঙের ছাতার মত বাহারি সব নামে কিন্ডার গার্টেন গড়ে উঠায় সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যত এর প্রত্যাশায় অভিভাবকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং কোন প্রকার যাচাই-বাচাই না করেই তাদের সন্তানদের কিন্ডার গার্টেন গুলোতে ভর্তি করে দিচ্ছেন। তবে কিন্ডার গার্টেন গুলোতে পড়ালেখার মান, অবকাঠামোগত অবস্থা ও ছাত্র-ছাত্রীদের বয়সের সাথে অসামঞ্জস্যতায় উদ্যোগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার গুটি কয়েকটি ছাড়া প্রায় সব কয়টি কিন্ডার গার্টেনই সংকীর্ণ স্থানে অবস্থিত। ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক উৎকর্ষ সাধন বা খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও খেলনা উপকরণ নেই, এমনকি কোন কোন কিন্ডার গার্টেনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ পর্যন্ত নেই। যা কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্থ করছে। কিন্ডার গার্টেন সমন্বয়ে ফলাফল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়েও তুলনা মূলকভাবে ভাল হওয়ায় অভিভাবকরা প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো থেকে তাদের সন্তানদের ছাড়িয়ে নিয়ে উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থিত কিন্ডার গার্টেন সমূহে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন। তবে যারা সচেতন তাদের অনেকেই আক্ষেপের সাথে বলেন কিন্ডার গার্টেনের ভাল ফলাফলের বিষয়টি শুভংকরের ফাঁকি। কারণ বিদ্যালয়ের ভর্তি করে দিয়ে রাখা হয়। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডার গার্টেন গুলো উক্ত ছাত্র-ছাত্রীরা সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে এবং উত্তীর্ণ হয়। উপজেলা সদরের কিন্ডার গার্টেনের পড়ালেখা করেও গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে বৃত্তি পরীক্ষাদানের সুযোগ-পাওয়ায় গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যালয় সমূহে ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা ছিনতাই করা হয়। যা কিন্ডার গার্টেন সমূহে তাদের সফলতা হিসাবে চালিয়ে দেন। কিন্ডার গার্টেন সমূহের এই প্রচারণায় অভিভাবকরা প্রয়োজনীয় খোঁজ-খবর না নিয়েই তথাকথিত সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের ভর্তি করে দেন। কিন্ডার গার্টেন সমূহে নিজস্ব পরিবহন ভ্যান থাকায় ৫/৭ কি. মি. দূর থেকে ছোট-ছোট শিশুদের নিয়ে আসে। যা ঝুকিপূর্ণও বটে। এদিকে পড়ালেখার মানও ছাত্র-ছাত্রীদের বয়সের সাথে পাঠের সংগতি না থাকার অভিযোগও রয়েছে অধিকাংশ কিন্ডার গার্টেনের বিরুদ্ধে মেধাকে মূল্যায়ন না করে মোটা অংকের ডুনেশন গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করায় শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ে শিক্ষকদের সাথে শিক্ষিত অভিভাবকদের মনোমালিন্য প্লে-গ্র“পের পরীক্ষার প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর কয়কি ও কি কি? অন্য একটি কিন্ডার গার্টেন প্রথম শ্রেণীর প্রশ্ন ছিল। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা কতটি? যে শিশুদের খেলনার মাধ্যমে শিক্ষালাভের জন্য নির্ধারিত বয়সের পূর্বে বিদ্যালয়ে পাঠনো হয়েছে তাদের জন্য এই প্রশ্ন কতটা যুক্তিযুক্ত এটা ভেবে দেখা উচিৎ। জেলার নামী ও স্বনামধন্য একটি কিন্ডার গার্টেন সন্তানদের ভর্তি করিয়েছেন এমন কয়েকজন অভিভাবকের কাছে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা বলেন বিদ্যালয়টির নাম ডাক শুনে অন্য বিদ্যালয় থেকে সন্তানদের ছাড়িয়ে এনে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন। শেষ পর্যন্ত তারা সন্তানদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রাখতে পারবেন কিনা সে বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও অনেক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্ডার গার্টেনগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কি হারে আদায় করে থাকে কি হারে তারা মোটেও ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকদের সেবা দিতে পারে না।
উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, কিন্ডার গার্টেন সমুহে সেনিটেশন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই এবং যা আছে সেগুলো ও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিদিন শত শত অভিভাবক বিদ্যালয় গেলেও তাদের শ্রেফ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে হয়। এ বর্ষা মৌসুমে সন্তানদের সাথে তারা কোথায় অবস্থান করবেন সে বিষয়ে ও অনেকে সংশয় প্রকাশ করেন। সন্তানদের বয়স ও মেধার সাথে পাঠের সংগতি সাধন ও সেবার মান উন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অভিবাবক মহল।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply