মুরাদনগরে বিদ্যুৎশাহী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রীকাইল হাইস্কুল ভাংচুর


মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা :
কুমিল্লার মুরাদনগরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎশাহী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রীকাইল কৃঞ্চ কুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোন মুহুর্তে সংঘর্ষের আশংকায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অবস্থা বেগতিক দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করেছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, শনিবার ১১টার দিকে শ্রীকাইল কৃঞ্চ কুমার উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভা শুরু হয়। এতে উপস্থিত সকলের মতামত নিয়ে বিশ্বজিত সরকারকে বিদ্যুৎশাহী নির্বাচিত করা হয়। এ সময় কমিটির সংখ্যাগরিষ্ট সদস্যদের মতামত রোয়াচালা গ্রামের এম এ মানিকের অনুকুলে না যাওয়ায় রোয়াচালা গ্রামের আলম ও ডেঙ্গা সবুজের নেতৃত্বে একদল বিপথগামী লোকজন উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এ সময় তারা পুলিশের সামনেই প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ ভাংচুর, শিক্ষকমন্ডলী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অশ্লীল গালমন্দ করেন এবং তান্ডবলীলা চালায়। তখন হাত কাটা সবুজকে আটক করার কথা বললেও পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। সভার এক পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বিদ্যুৎশাহী হিসেবে বিশ্বজিত সরকারের নাম ঘোষনা শেষে তড়িঘড়ি করে সভা শেষ করেন। অথচ ওই সভায় রোয়াচালা গ্রামের এম এ মানিকের নাম ছাড়াও ঘোড়াশাল গ্রামের আবু বকর ছিদ্দিক এর নাম বিদ্যুৎশাহী নির্বাচন করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। বেশীর ভাগ সদস্য বিশ্বজিত সরকারের পক্ষে সমর্থন দেওয়ায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে বিদ্যুৎশাহী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
শ্রীকাইল ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বশীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, হাইস্কুল ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎশাহী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শ্রীকাইল বাজার ও হাইস্কুল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এনেও কোন লাভ হয়নি। আমি জন্ম নিবন্ধনের কাজে অফিসে ব্যাস্ত ছিলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ ব্যাপারে ভাল বলতে পারবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সকল সদস্যরা বিদ্যুৎশাহী নির্বাচন করার জন্য সভাপতির উপর দায়িত্ব দেন। তিনি সকলের মতামত নিয়ে শ্রীকাইল গ্রামের বিশ্বজিত সরকারকে বিদ্যুৎশাহী নির্বাচিত করার ঘোষনা দেয়ার পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। কমিটির সংখ্যাগরিষ্ট সদস্যদের মতামত রোয়াচালা গ্রামের এম এ মানিকের অনুকুলে না যাওয়ায় রোয়াচালা গ্রামের আলম ও ডেঙ্গা সবুজের নেতৃত্বে একদল বিপথগামী লোকজন উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এ সময় তারা পুলিশের সামনেই প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ ভাংচুর, শিক্ষকমন্ডলী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অশ্লীল গালমন্দ করেন এবং তান্ডবলীলা চালায়। তখন হাত কাটা সবুজকে আটক করার কথা বললেও পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে সকল সদস্যদের মতামত নিয়ে শ্রীকাইল গ্রামের বিশ্বজিত সরকারকে বিদ্যুৎশাহী নির্বাচিত করা হয়। কমিটির সদস্যদের মতামত রোয়াচালা গ্রামের এম এ মানিকের অনুকুলে না যাওয়ায় তাকে বিদ্যুৎশাহী বানানো সম্ভব হয়নি। এ ধরনের উদ্ভুট ঘটনার জন্য একটি চক্র দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত রোয়াচালা গ্রামের এম এ মানিক কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তবে রোয়াচালা গ্রামের অভিভাবক প্রতিনিধি আল আমিন সরকার জানান, সভাপতি সকল সদস্যদের সম্মতি ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে শ্রীকাইল গ্রামের বিশ্বজিত সরকারকে বিদ্যুৎশাহী নির্বাচিত করায় এ ঘটনা ঘটে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply