কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ি ঢলে নিহতের সংখ্যা ৪৫


কক্সবাজার, ১৫ জুন, (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :
কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কমপক্ষে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাটিচাপা পড়ে ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে নিখোঁজ রয়েছে অনেকেই। স্থানীয়রা জানিয়েছেন,সোমবার সকাল থেকেই টেকনাফে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে ব্যাপকভাবে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন টুইন্ন্যার পাহাড় এলাকায় দুই পরিবারের সাতজন মাটিচাপা পড়ে। পরে আজ সকালে আবদুল জলিলের তিন সন্তান রাজ্জাক (১১), শিউলি (৮), শারমিন (৩) এবং মো. হাসিমের দুই সন্তান কুলসুমা (৭) ও নুরুলের (৩) লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজ রয়েছেন আবদুল জলিল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী শাহানা (২৫) এবং মো. হাসিম ও তাঁর মেয়ে হালিমা।
টেকনাফে দুই দিনের টানা বর্ষণে মঙ্গলবার পাহাড় ধসে ৪০ জন এবং পানিতে ভেসে গিয়ে একজন মারা যায়। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় ধসে মারা গেছে চারজন। আহত হয়েছে অন্তত সাত জন। কক্সবাজার শহরেও পাহাড় ধসে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র হিমছড়ি এলাকায় ৬ জন সেনা সদস্যের মৃত্যুর আশংকা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ৫ জন মাটি চাপা পড়ে আছে। দুই সেনা সদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রামু থানার ওসি মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবি’র (ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন) ৮ জন সদস্য পর্যটন কেন্দ্র হিমছড়িতে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়েন। এদের মধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ওসি জানান, বেলা দেড়টার দিকে এক সেনা সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৫ জন মাটি চাপা পড়ে আছে।’
তিনি জানান, এই সেনা সদস্যরা কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ কাজে যুক্ত ছিলেন। তারা হিমছড়িতে পাহাড়ি ঢালে ক্যাম্পে থাকতেন। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম সাইদুল হক জানান, ৬২ জন সেনা সদস্য হিমছড়ি ক্যাম্পে থাকতেন। তাদের মধ্যে ৬ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি।
সারা জেলায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
সড়কের উপর দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হওয়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিপুল সংখ্যক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস সোমবার সকাল ৬ টা থেকে পরবর্তী ২৭ ঘন্টায় ২৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। শুধু মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘন্টায় ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরান পল�ান পাড়ায় ৩ পরিবারের ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন মোহাম্মদ হাশিমের দুই ছেলে মেয়ে কুলসুমা (৭) ও নুর কলিম (৩), আবদুল জলিলের পরিবারের মধ্যে আবদুল জলিল (৩৫), তার স্ত্রী শাহিনা আকতার (৩০), তিন ছেলে মেয়ে আবদুর রাজ্জাক (১১), শিউলি (৮) ও ডলি (৫) এবং মোহাম্মদ শফির এক বছরের শিশু পুত্র। এছাড়াও মোহাম্মদ হাশিমের স্ত্রী বেলুজা খাতুন (২৮) ও মেয়ে হালিমা খাতুনকে (৫) আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে�ক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল, আমতলী, কেরুনতলী, লাতুড়িকলা ও পানখালীর লেচুয়াপ্রাং এলাকায় পাহাড় ধসে নিহত ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো অনেকে মাটি চাপা পড়ে আছে। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তবে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা ২০টি লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউনুছ বাঙ্গালী জানান, হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদারপাড়ায় একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন নুর মোহাম্মদ (৪৫), তার স্ত্রী লায়লা বেগম (৪০), তাদের দুই ছেলে মেয়ে নাসিমা আকতার (৫) ও ৯ মাস বয়সি নুরুল আবছার।
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার চৌধুরী সিফাত জানান, ইউনিয়নের রহমতেরবিল এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাতে কোন এক সময় এদের মৃত্যু হয়। তারা হলেন জয়নাল আবেদীন (৩৫), তার স্ত্রী রাহেলা ইয়াছমিন ডেইজি (২৫), তিন ছেলে মেয়ে আরমান (৭), উম্মে হাবিবা (৫) ও আড়াই বছর বয়সী মোহাম্মদ সোহান।
ইউনুছ বাঙ্গালী জানান, একই ইউনিয়নের ধামনখালী এলাকায় মঙ্গলবার সকালে পানিতে ডুবে আবদুল গফুরের ছেলে নুরুল আমিন (১৪) মারা গেছে।
পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার চৌধুরী সিফাত জানান, পুরো ইউনিয়নের ২৭টি গ্রামের মধ্যে ১৯টি গ্রামই পানিতে ডুবে গেছে। পালংখালীর আড়াই হাজার একর চিংড়ি ঘেরও পানিতে তলিয়ে গেছে। চিংড়ি ঘেরের অন্তত ১০ কোটি টাকার চিংড়ি ভেসে গেছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...