প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানকে ধমকালেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান (শাহ আলম)


ঢাকা, ১৩ জুন (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :
বৃহত্তর ঢাকার পানিপ্রবাহের অঞ্চল চিহ্নিত করা নিয়ে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। আজ রোববার পূর্ত মন্ত্রণালয় ও রিহ্যাব এবং বিএলডিএর যৌথ সভায় পানিপ্রবাহ অঞ্চল চিহ্নিত করার বিষয়ে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত রিভিউ কমিটির প্রতিবেদন প্রদর্শনের কথা ছিল। কিন্তু পরস্পর স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।
পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানকে রীতিমতো ধমক দিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান (শাহ আলম)। আলোচনার একপর্যায়ে পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহান শাহ আলমের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। শাহ আলম এর আগে প্রতিমন্ত্রীর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আপনি বলেছেন, “ভূমিদস্যু অপবাদ নিয়ে আপনারা ঘুমান কী করে।” এই দুঃসাহস দেখানো আপনার উচিত হয়নি।’”এর আগেও আপনি আমাদের ডেকে অপমান করেছেন। আমরা রাতে ঘুমাতে পারি কিনা, আপনি জানেন! মন্ত্রী হয়েছেন বলে যা খুশি তাই বলবেন! এত বড় দুঃসাহস আপনি কোথায় পেলেন।”
উত্তরে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান বলেন, ‘হ্যাঁ বলেছি, লক্ষবার বলব। ওই কথার পরে আপনি আমার বাসায় একাধিকবার গেছেন। বলেছেন, “আপনি যা করছেন উত্তম কাজ করছেন। আপনার কথার পরে আমার হুঁশ হয়েছে।” আর এখন এখানে বলছেন উল্টো কথা। আমার মুখ খুলাবেন না। এখন বলছেন ১৬ মাসে সরকার কিছুই করতে পারেনি।’
এ পর্যায়ে শাহ আলম বলেন, ‘ সরকার বলিনি, বলেছি আপনি কিছুই করতে পারেননি।’
আব্দুল মান্নান খান বলেন, ‘যে জমি আপনার নয়, সে জমি বিক্রি করেন কেন? সেই জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন কেন?’
একই সভায় তিনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকেও বাক্যবানে জর্জরিত করেন। রাজধানীর উন্নয়নে ‘ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)’ নামে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে জামিলুর রেজার নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করেছিল। সভায় উপস্থিত শাহ আলমসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেন।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসে বেসরকারি আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভূমি উন্নয়ন সমিতি (বিএলডিএ)’র সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান আবাসন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে বলেছিলেন, “পানির নিচে মানুষকে স্বর্গ দেখান। অন্যের জমি দেখিয়ে মানুষের কাছে টাকা নেন। ভূমিদস্যু খেতাব নিয়ে আপনারা ঘুমান কী করে?” রোববারের সভায় বিএলডিএ সভাপতি শাহ আলম ওইসভার রেশ ধরে মন্ত্রীকে বলেন, “দেশের জিডিপিতে আমার যে অবদান সে রকম অবদান রেখে তারপর এমন করে কথা বলেন।” এ সময় মান্নান খান তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “হাত নামিয়ে কথা বলুন। আপনারা এভাবে কথা বললে আমি কঠোর হতে বাধ্য হবো।”
ড্যাপ প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়ে শাহ আলম বলতে থাকেন, “আমরা এ দেশের লোক। জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দিয়ে রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) এর এমন একটি পরিকল্পনা মেনে নেওয়া যায় না। এ পরিকল্পনা প্রণয়নে তাকে টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া হয়েছে।”সভায় উপস্থিত জামিলুর রেজা চৌধুরী তখন বলেন, “এখানে কেনাবেচার কোনো বিষয় নেই। রাজউক ও মন্ত্রণালয় থেকে রাজধানীর উন্নয়নে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নিজের কাছে যেটা যথাযথ মনে হয়েছে তাই করেছি। মন্ত্রণালয় ও রাজউক তা গ্রহণ করেছে। এখন সবার সঙ্গে আলোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
শাহ আলম বলেন, “ড্যাপ অনুযায়ী ঢাকার বিশাল এলাকাকে (প্রায় ২১ শতাংশ) জলাধার হিসেবে রাখা হয়েছে। এখানে ভূমি উন্নয়ন করা যাবে না। আমরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর এ প্লান মানি না। রাজউক এ পরিকল্পনা প্রণয়নের আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি।”জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রাজউক এ পরিকল্পনা প্রণয়নের আগে সবার সঙ্গে বৈঠক করেছে। রিহ্যাবের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। তাদের মতামত নিয়েই ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে।”
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আওয়ামী লীগ সাংসদ নসরুল হামিদ বিপু বলেন, “রাজউক এ পরিকল্পনা প্রণয়নের আগে রিহ্যাবকে দু’দফায় বৈঠকে ডাকলেও তাদের কোনো মতামত নেয়নি। এ পরিকল্পনা মেনে নেওয়া যায় না।”পূর্ত মন্ত্রণালয় ব্যর্থ এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গত ১৬ মাসে পূর্ত মন্ত্রণালয় কিছুই করতে পারেনি। পুরো ঢাকাকে জলাশয় বানিয়েছে।”
ড্যাপ প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, “আপনারা প্ল্যান করেন কিন্তু প্ল্যান ঝুলিয়ে রাখেন কেন ? তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিন।”তিনি বলেন, “আমরা না থাকলে দেশের হাজার হাজার লোক ভালভাবে বাস করতে পারতো না। আমরা মানুষের কাছ থেকে আবাসন খাতে ৭০ হাজার কোটি টাকা নিয়েছি।”মন্ত্রীর উদ্দেশে আলম বলেন, “আপনারা পারলে মানুষের কাছ থেকে পাঁচ টাকা নিয়ে দেখান।”
রিহ্যাব সভাপতি নসরুল হামিদ বিপু, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল, বিএলডিএ-এর সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন প্রমুখও বিতর্কে জড়িয়ে গেলে পরবর্তীতে আলোচনার কথা বলে বৈঠক শেষ করে দেন প্রতিমন্ত্রী।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...