মুরাদনগরে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, কুমিল্লা থেকে :
কুমিল্লার মুরাদনগরে অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসীর স্ত্রী প্রিয়াংকাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি সে আত্মহত্যা করেছে এ নিয়ে রহস্যের জট খোলেনি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভুতাইল গ্রামে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার ভুতাইল গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ আলমের সঙ্গে ২০০৮ সালের ২৫ জুলাই কুমিল্লা শহরের দক্ষিণ চর্থা এলাকার আবুল কালাম খন্দকারের মেয়ে কোহিনুর আক্তার প্রিয়াংকা (২২)’র বিয়ে হয়। বিয়ের মাসখানেক পর প্রিয়াংকার পিতার দেওয়া ১০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার গ্রাম এলাকায় চুরি-ডাকাতির ভয়ের অজুহাতে নিরাপদে রাখার কথা বলে তার স্বামী আলম অষ্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যায়। অষ্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর আলম প্রায়ই মোবাইল ফোনে স্ত্রী প্রিয়াংকাকে কটাক্ষ করে সে অন্য কোথাও বিয়ে করলে লাখ লাখ টাকা যৌতুক পেতো এমন মন্তব্য করে প্রায়ই মানসিক নির্যাতন করতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রবাসী আলমের প্ররোচণায় তার দেবর, ননদ ও একই গ্রামের অপর এক ভগ্নিপতিসহ পরিবারের লোকজন কারণে-অকারণে প্রিয়াংকার সাথে খারাপ আচরণ করতো এবং যৌতুক হিসেবে ঘরের ফার্নিচার, টিভি, ফ্রিজ পিতার বাড়ি থেকে নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। এছাড়াও তারা ঘুমন্ত অবস্থায় প্রিয়াংকার অপ্রীতিকর ছবি মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও করে রাখতো। অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ মে আলম অষ্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে ঢাকায় গ্রীণ টাওয়ার নামের একটি হোটেলে ছোট ভাই বনফুলসহ অবস্থান করে। পরদিন একটি কীটনাশক ওষুধের পেকেট কিনে বাড়িতে আসার সময় নিয়ে আসে। বাড়িতে আসার পর বনফুল ও ভগ্নিপতি তাজুল ইসলামের ক্যামেরায় উঠানো অপ্রীতিকর ছবিগুলো প্রিয়াংকার স্বামী আলমকে দেখায়। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয় এবং পরিবারের লোকজন দ্বারা এ ধরণের নির্যাতনের কথা প্রিয়াংকা তার পিতাকে মোবাইল ফোনে জানায়। এরই মধ্যে গত ৩০ মে প্রিয়াংকা বিষপান করেছে বলে পার্শ্ববর্তী লোকের মাধ্যমে খবর পায় তার পিতা। এদিকে, প্রিয়াংকার চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। খবর পেয়ে প্রিয়াংকার পিতা কুমেক হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের লাশ দেখতে পায়। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়না তদন্ত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রিয়াংকার পিতা আবুল কালাম খন্দকার বলেন, যৌতুকের লোভে জামাতা আলম ও পরিবারের লোকজন তার মেয়েকে মানসিক নির্যাতন করে কীটনাশক ওষুধ খাইয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ৩১ মে সোমবার তিনি বাদী হয়ে প্রিয়াংকার স্বামী আলম (২৮), দেবর বনফুল (২২), ননদ ডালিয়া (১৯) ও অপর ভগ্নিপতি তাজুল ইসলাম (৪০)কে আসামী করে মুরাদনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার খবর পেয়ে প্রিয়াংকার স্বামী গোপনে অষ্ট্রেলিয়া চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। আসামীদের পক্ষ হয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টায় অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিচ্ছে বলে গতকাল মঙ্গলবার প্রিয়াংকার পিতা সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগটি তদন্ত করছেন থানার এসআই হুমায়ুন কবীর।
উল্লেখ্য, প্রিয়াংকা মুরাদনগরের শ্রীকাইল কলেজ থেকে চলতি বছর মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও তার আর প্র্যাকটিকেল পরীক্ষা দেয়া হলো না।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...