মুরাদনগরের কুড়ের পাড় কলেজের ঘটনায় আ’লীগের দু’গ্রুপে চরম উত্তেজনা : মামলাতো না নিয়ে বিষয়টি এড়াতে নাটকীয় কায়দায় ওসি ছুটিতে


মুরাদনগর প্রতিনিধি :
মুরাদনগর উপজেলার কুড়ের পাড় আদর্শ কলেজের অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুক্রবার হামলা, ভাংচুর ও লুটের ঘটনার পর বর্তমানে আ’লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব ইউছুফ আবদুলাহ হারুন ও কুমিলা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার গ্রুপের মাঝে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে বিবাদমান দু’গ্রপে সংঘর্ষের আশংকায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। এতে শনিবার কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুপুরে কলেজে শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের জরুরী সভা অনুঠিত হয়। বিনা উস্কানীতে কলেজের সমাবেশে হামলা , ভাংচুর ও লুটের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যাবার হুমকী দিয়েছে। শনিবার থানা পুলিশ পূনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্নয় করেছে। এ দিকে ঘটনার ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও ঘটনার বিষয়ে পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়া তো দূরের কথা কলেজ কর্তৃপক্ষের জিডিও গ্রহন করেনি। তাই ওই ঘটনার বিষয়ে থানার ওসি আমিরুল আলমসহ অন্যান্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে।
এ দিকে শুক্রবার সকালে সভা মঞ্চ, গেইট, কলেজের কক্ষ, কম্পিউটার ও অন্যান্য মালামাল ভাংচুর, নগদ টাকাসহ মোবাইল ফোন লুটের ঘটনায় মুরাদনগর থানায় কলেজের পক্ষ থেকে সাধারন ডায়েরী করতে গেলে ‘থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন’ সেই কারন দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পুলিশ গ্রহন করেনি। থানার একটি সূত্র জানায় আ’লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকারের অত্যন্ত আস্থাভাজন ওসি আমিরুল আলম ওই হামলার ঘটনায় মামলা রেকর্ড করতে হবে, সেই আশংকায় তিনি নাটকীয়ভাবে ২ দিনের ছুটি নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে গেছেন। কলেজ অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম জানান, কলেজের অভিভাবক সমাবেশটি অরাজনৈতিক হলেও এখানে রাজনীতি টেনে এনে রাজনীতিবিদরা জড়িয়ে যাওয়ার ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারন করছে, এখনো এ বিষয়ে থানায় সাধারন ডায়েরী করাও এখনো সম্ভব হয়নি।
সহকারী পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) মোহাম্মদ আয়ুব জানান, থানা থেকে কলেজের অভিযোগ ফিরিয়ে দেবার বিষয়টি তিনি অবগত নন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই মামলা রেকর্ড করা হবে। শুক্রবারের হামলায় ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ, অধ্যাপক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ ২০ জন আহত হয়েছিল। ওই ঘটনার প্রতিবাদে কলেজ শিক্ষার্থী ও এলাকার বিক্ষুব্দ জনতা কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়ক ২ ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় দফায় হামলা ভাংচুরের সময় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আলমসহ উপস্থিত অন্যান্য পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। কলেজের
ওই সমাবেশে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ইউছুফ আবদুলাহ হারুন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নির্বাচনের কাজে চট্রগ্রামে অবস্থান করায় তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি। ওই অনুষ্ঠানে কুমিলা (উত্তর) জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে আমন্ত্রন না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার বেয়াই ও আওয়ামীলীগ নেতা মোখলিশপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম মাস্টারের নেতৃত্বে একটি সশস্র দল পরিকল্পিত ভাবে অনুষ্ঠানস্থল ও কলেজ অভ্যন্তরে তান্ডব চালায়।
বিষয়টি ইউছুফ আবদুলাহ হারুন সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করলেও জাহাঙ্গীর আলম সরকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে স্থানীয় জনগন ও অভিভাবকরা জানান, প্রকাশ্যে শত শত লোকের সামনে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে তান্ডব চালিয়ে কলেজ শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের উপর নির্বিচারে অতর্কিত হামলা চালানো হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে শনিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি।
সহকারী পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল ) মোহাম্মদ আইয়ুব ঘটনার পর থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের এ ঘটনার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেবার আশ্বাস দিলেও এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সচেতন জনমনে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...