খালেদার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন

জুন ০৭,২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডট কম)
বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন।

তিনি জাতীয় প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করেন।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর হোটেল শেরাটনের উইন্টার গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন তার এই বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন।

—-:খালেদার বাজেট প্রস্তাব :—–

বিসমিল¬াহির রাহমানির রাহিম
উপ¯ি’ত সহকর্মী, সুধী, সাংবাদিকবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
এক্সলেন্সিজ,
গুড আফটারনুন এণ্ড ওয়েলকাম টু অল।
রাজধানীর নবাবকাটরা ও বেগুনবাড়িতে দুটি মর্মাšি-ক ঘটনায় নানান বয়সের দেড় শতাধিক মানুষ শোচনীয় মৃত্যুবরণ করেছেন। আগুনে পুড়ে এবং আহত হয়ে আরো অনেকে এখনো যন্ত্রণায় কাত্রাচ্ছেন। দেশজুড়ে এক গভীর শোকবিধুর পরিবেশ বিরাজ করছে। আমি মুনাজাত করি, আল¬াহ্ রাব্বুল আলামীন যেন আমাদেরকে এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার তওফিক দেন।
এ দুটি দুর্ঘটনা আমাদের জন্য একটা বড় বিপদ সংকেত। আগামীতে যাতে এ ধরণের আরো ভয়াবহ কোনো বিপর্যয় না ঘটে তার জন্য এখনই আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। নিরোধক পরিকল্পনা নিতে হবে। যে কোনো বিপর্যয়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি যতদূর সম্ভব সীমিত রাখার পš’া বের করতে হবে।
এরজন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় লোকবল মোতায়েন ও সাজ-সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হবে। আগামী বাজেটে এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।

সুধীমণ্ডলী,
২০০৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব হ¯-াš-রের পর সবদিক থেকে বাংলাদেশের ক্রমঅধঃগতি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। পরি¯ি’তির অবনতি হতে হতে জাতি এখন এক গভীর সংকটের নাগপাশে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। একদিকে সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, স্বেচ্ছাচারিতা, কুশাসন, জুলুম, লুণ্ঠন, দুর্নীতি, এবং বিভাজন ও বিদ্বেষের নীতি, অপরদিকে আইন-শৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি আজ সংকটকে আরো গভীর ও অসহনীয় করে তুলেছে।
সবচেয়ে গুরুতর আশংকার বিষয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন ¯-ম্ভ ও প্রথা-প্রতিষ্ঠান আজ সরকারের নিষ্ঠুর আঘাতে একের পর এক ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে।
দলীয়করণ ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। ন্যায়বিচারের সুযোগ ও ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
প্রশাসনের অব¯’াও একই রকম। ভালো অফিসারেরা চাকরি হারাচ্ছেন, ওএসডি হচ্ছেন।
চরম অসহিষ্ণুতায় জাতীয় সংসদকে অকেজো এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলুষিত করে ফেলা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকতাও আজ সরাসরি আক্রাš-।
সরকারের মদতে তাদের দলীয় ক্যাডারদের অবাধ চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে শিল্প-কারখানা বন্ধ হচ্ছে, উৎপাদন মার খাচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্প প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে গেছে।
সরকারের ভুল নীতির কারণে আমাদের জন্য ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে আš-র্জাতিক শ্রমবাজার। বাংলাদেশীরা দলে দলে রিক্ত হাতে ফিরে আসছে।
শাšি–¯ি’তি-নিরাপত্তাহীনতা, দুর্নীতির ভয়াবহতা, আ¯’ার সংকট এবং সরকারের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতায় সব ধরণের বিনিয়োগ আশংকাজনক হারে কমে গেছে।
প্রিয় সুধী,
এই বিষয়গুলোর কোনোটিই শুভ লক্ষণ নয়। আগামীতে অর্থনীতি আরো বেশি মুখ থুবড়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি। মানুষ দুর্ভোগে পড়-ক, কষ্ট পাক, অর্থনৈতিকভাবে দেশ বিপর্য¯- হোক আমরা সেটা চাই না।
আর তাই অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার ব্যাপারে আগামী বাজেটে কী ধরণের পদক্ষেপ নেয়া দরকার, সে সম্পর্কে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্র¯-াবনা তুলে ধরার সিদ্ধাš- নিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই।
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে আমরা সরকারকে এর আগেও বিভিন্ন প্র¯-াব দিয়েছি। সহযোগিতা করতে চেয়েছি। তারা নেয়নি।
আমরা আশা করি, বাজেট সম্পর্কে আমাদের প্র¯-াবনা বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে তারা গ্রহণ করবে।
জাতীয় সংসদের পরিবেশ ও বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারি দলের আচরণ সম্পর্কে সারাদেশ জানে। সেখানে জাতীয় ও জনস্বার্থের কোনো বিষয়ে বিশদ আলোচনার সুযোগ বিরোধী দলের নেই।
তাই আপনাদের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্র¯-াবনা তুলে ধরছি।
আমরা জানি, বাজেটের মতো একটি জটিল বিষয় নিয়ে সুচিšি-তভাবে বা¯-বসম্মত ও দূরদর্শী ‘প্র¯-াবনা প্রণয়ন একটি দুরূহ কাজ। এ কাজে আমাদের দলের যে-সব সহকর্মী এবং বিশেষজ্ঞবৃন্দ আমাদেরকে সার্বিক সহায়তা করেছেন, আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আমাদের প্র¯-াবনা বা¯-বায়নের মতো সামর্থ, যোগ্যতা এবং উপযোগী প্রশাসনিক কাঠামো ও ব্যব¯’াপনা বর্তমান সরকারের আছে কি-না সে ব্যাপারে ঘোরতর সন্দেহ আমাদের অনেকের মধ্যেই রয়েছে। তবুও আমরা এই উপ¯’াপনা পেশ করছি। আমরা মনে করি, যদি সামান্যতম সদিচ্ছাও থাকে, তাহলে এই উপ¯’াপনার আলোকে পথভ্রষ্ট সরকার নিজেদেরকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে।
এখন আমি মূল বিষয়ব¯’তে যাচ্ছি।
১. বিএনপি’র অর্থনৈতিক দর্শন
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা-পরবর্তী প্রায় চলি¬শ বছরের মধ্যে আওয়ামী শাসনাধীন প্রথম সাড়ে তিন বছরকে বাংলাদেশের একজন অর্থনীতিবিদ আখ্যায়িত করেছিলেন, “দি লস্ট মোমেন্টস্” বা হারানো মুহূর্ত রূপে। সেই সময় বাংলাদেশ একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলেও পরিচিতি অর্জন করেছিল। সমাজতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের নীতি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনের অবাধ সুযোগ করে দেয়। গড়ে উঠে একটি উৎপাদনবিমুখ লুটেরা শ্রেণী। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উন্নয়ন ও উৎপাদনের অর্থনীতি প্রবর্তন করে এই ধারা রোধ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। কিš-ু, জেনারেল এরশাদের আমলে স্বৈরশাসনের সমর্থনের ভিত্ তৈরি করার প্রয়াস একটি ঈৎড়হু পধঢ়রঃধষরংস এর জন্ম দেয়, যার নেতিবাচক প্রভাব আজও অব্যাহত।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ব্যক্তি উদ্যোগ এবং গণসৃজনশীলতা-নির্ভর অর্থনৈতিক ব্যব¯’ায় বিশ্বাস করে। ব্যক্তি উদ্যোগ ও গণসৃজনশীলতাকে গতিশীল করার জন্যে বিএনপি রাষ্ট্রের সহায়ক ভূমিকায় বিশ্বাস করে। বিএনপি আরও বিশ্বাস করে যে, একটি সুঠাম এবং প্রতিযোগিতার শক্তিতে বলিয়ান ব্যক্তি-উদ্যোক্তা শ্রেণী ছাড়া একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ সম্ভব নয়। সম্ভব নয় এর জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শনের বা¯-বায়ন।
বাংলাদেশে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও একটি ব্যক্তি-উদ্যোক্তা গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। বিএনপির লক্ষ্য হলো, এদেরকে কার্যকর নীতি সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাবোধে বিশ্বাসী করে গড়ে তোলা। যথোপযুক্ত প্রণোদনার মাধ্যমে উৎপাদন ও উন্নয়নের পথে উত্তরণ ঘটানো। বিএনপি পরনির্ভরশীলতার অর্থনীতি থেকে দ্রুততম সময়ে বেরিয়ে আসতে চায়।
বিএনপি একটি কল্যাণমুখী, দরিদ্রবান্ধব, কর্মসং¯’ান সৃজনকারী অর্থনৈতিক ব্যব¯’ায় বিশ্বাস করে। আয়-বণ্টনে বৈষম্য হ্রাস করে দেশীয় বাজার সম্প্রসারণের নীতিতে বিশ্বাসী বিএনপি। বিএনপি কৃষি, শিল্প এবং সেবাখাত সমৃদ্ধ জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। এই লক্ষ্য দ্রুততম সময়ে পূরণের জন্য একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। বিএনপি তাই শিক্ষা, গবেষণা, কৃৎ-কৌশল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং গবেষণা ও উন্নয়নের প্রতি যথাসাধ্য রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রদানের নীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা মনে করি, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির অব্যবহৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে খাদ্যে স্বয়ম্ভর হওয়ার কোনো বিকল্প জনবহুল বাংলাদেশের নেই।
বিএনপি বাজার-প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রের ভূমিকার সর্বোত্তম সমন্বয়ে বিশ্বাসী। জাতীয় অর্থনীতিকে সর্বোত্তমভাবে সংগঠিত করতে ব্যক্তিমালিকানা, সমবায়ভিত্তিক মালিকানা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানার পারস্পরিক পরিপূরকতায় বিশ্বাসী বিএনপি।
সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠীসমূহকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ সহায়তা প্রদানের নীতিতে বিশ্বাসী বিএনপি। শিক্ষার বি¯-ার, স্বা¯’্যসেবা, আয়বর্ধন, সামাজিক বৈষম্য নিরসন প্রভৃতি নানামুখী কর্মসূচির বা¯-বায়ন করে সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠীগুলোকে সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার নীতিতে বিশ্বাস করে বিএনপি। নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারী ও পুরুষকে সমভাবে দেশগড়ার সৈনিকে পরিণত করতে চায় বিএনপি।
বিএনপি চায় এমন একটি আর্থ-সামাজিক ব্যব¯’া, যে ব্যব¯’া কোনো গোষ্ঠীকে এড়িয়ে যাবে না, প্রতিটি মানুষ মানুষের মর্যাদা পাবে। প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতা এবং বাছাই ও পছন্দের অধিকার (ঈযড়রপব) নিশ্চিত হবে। সম্পূর্ণ অবসান ঘটবে ধর্মীয় ও জাতিগত ভেদ-বৈষম্যের। বাংলাদেশের মাটিতে এবং এর উম্মুক্ত আকাশের নীচে প্রতিটি মানুষ হবে একে অপরের স্বজন। উন্নত জীবনবোধের নৈতিকতায় প্রত্যেক নাগরিক হবে মানুষের মতো মানুষ। সকল প্রকার বৈষম্য, শোষণ-বঞ্চণা এবং অবহেলার বিরুদ্ধেই বিএনপির রাষ্ট্রীয় নীতি পরিচালিত হবে।
২. অর্থনৈতিক ব্যব¯’াপনায় বিএনপি’র সাফল্য
বিএনপি’র প্রতিটি আমল অর্থনৈতিক ব্যব¯’াপনার ক্ষেত্রে সাফল্যে অভিসিক্ত।
২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যš- বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ উন্নয়নের উচ্চতরে উত্তরণের জন্য প্র¯-ুতি নিচ্ছিল। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় (২০০৫-০৬ অর্থ বছরে)। দারিদ্র্যের হার ৪৯ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে আসে। শিল্প উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ অর্জিত হয়। ফসল উৎপাদনে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ অর্জিত হয়। ২০০০-০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নেয়ার সময় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স-এর পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ১শ’৭০ কোটি টাকা। অথচ পরবর্তী বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম বছরেই (২০০১-০২) প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৩শ’৭৭ কোটি টাকা। বিএনপি সরকারের শেষ বছরে এর পরিমাণ ৩২ হাজার ২শ’ ৭৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
আওয়ামী লীগের বিগত সরকারের বিদায়ের বছরে বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয় ছিল ১৬ হাজার ১শ’৫১ কোটি টাকা। পক্ষাš-রে, বিগত বিএনপি সরকারের শেষ বছর অর্থাৎ ২০০৫-০৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৪শ’ ৭৩ কোটি টাকায়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বৈদেশিক অনুদান ব্যতিরেকে সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল জিডিপির শতকরা ৬ দশমিক ১ ভাগ।
পক্ষাš-রে বিগত বিএনপি সরকারের আমলে বৈদেশিক অনুদান ব্যতিরেকে সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ মাত্র।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়শঃই দাবী করেন যে, তাঁর বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। অথচ প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, ওই সরকারের আমলে গড়ে প্রতিবছর ২ হাজার ৪শ’ ৮ লক্ষ টন খাদ্য আমদানী করতে হয়েছে এবং ১৯৯৮-৯৯ সালে সর্বোচ্চ আমদানীর পরিমাণ ছিল ৫৪ লক্ষ ৯১ হাজার টন।
১৯৯৬ সালে আমরা যখন দায়িত্ব ছেড়ে যাই, তখন বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ছিল ২শ’ ৩ দশমিক ৯ কোটি ডলার। অপরদিকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয় তখন বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ছিল মাত্র ১শ’ ৩০ দশমিক ৭ কোটি ডলার। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল ৩শ’ ৪৮ দশমিক ৪ কোটি ডলারে।
প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ দ্রুততা ও দক্ষতার সঙ্গে তাদের পোষ্যদের হাতে সহজভাবে পৌঁছে দেবার ব্যব¯’া করার ফলে প্রবাসীরা বৈধ পথে স্বদেশে তাঁদের অর্থ প্রেরণে আমাদের সরকারের আমলে প্রবলভাবে উৎসাহিত হয়। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর এই পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা আজো অব্যাহত আছে এবং পরবর্তী সকল সরকারের জন্য স্ব¯ি-দায়ক হয়েছে।
এক কথায় বলা যায়, আমাদের সময় উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসং¯’ান বৃদ্ধি, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, সফলভাবে তৈরী পোষাক খাতে ২০০৫ সালে এম.এফ.এ-এর ‘ফেইজ আউট পর্ব’ উত্তরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিরাট মজুদ গড়ে তোলার সাফল্য জাতীয় অর্থনীতির বুনিয়াদকে একটি দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে।

৩. ১১ জানুয়ারির বিপর্যয়
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সারাদেশে জরুরি অব¯’া জারির মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দিনের সরকার দেশে চরম সর্বনাশ ডেকে আনে। দুর্নীতি উচ্ছেদের নামে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং ছাত্র-শ্রমিকসহ সমাজের বিভিন্ন ¯-রের মানুষদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও ধর-পাকড়ের মাধ্যমে দেশে চরম ভয়-ভীতি ও নৈরাজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা ও আ¯’াহীনতা সৃষ্টি হয়। বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। অনেক শিল্পপতি দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যান। বিনিয়োগ প্রায় শূণ্যের কোঠায় নেমে আসে। শহর ও গ্রাম-গঞ্জে হকার ও দোকানপাট, হাটবাজার উচ্ছেদ এবং ব¯ি- উচ্ছেদ করে গরিব মানুষদের বেঁচে থাকার অবলম্বন ‘অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির’ ধ্বংস সাধন করে। ফলে, দেশ প্রায় ২০ বছর পিছিয়ে পড়ে। আমাদের সরকারের সময় যে জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নীচ থেকে উপরে উঠে এসেছিল, তারা পুনরায় দারিদ্র্যের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়ে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ৪০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নিক্ষিপ্ত হয়। ওই সময় একদিকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসং¯’ান ও আয়ের অভাব, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে জনজীবন বিপর্য¯- হয়ে পড়ে। মোটা চালের কেজি ৪৫ টাকা পর্যš- উঠে। দরিদ্র মানুষতো বটেই, সাধারণ মধ্যবিত্তও এ সময় নিদারুন কষ্টের মধ্যে দিন কাটিয়েছে।
২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর আমাদের সরকারের দায়িত্ব হ¯-াš-রের সময় টিসিবির মূল্য তালিকা অনুযায়ী মোটা চালের কেজি ছিল ১৭ টাকা, ডালের কেজি ৪৫ টাকা এবং ভোজ্য তেলের লিটার ৫৫ টাকা। আর মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ১৭।
সেনানিয়ন্ত্রিত ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকারের সাথে আঁতাত করে ২৯শে ডিসেম্বর ২০০৮ এর একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে। এই সরকার ৬ জানুয়ারি ২০০৯ ক্ষমতায় এসে রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দিন বদলের এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে। গত নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে প্রতিশ্র“তি দিয়ে বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেবেন, বিনামূল্যে সার দেবেন। অথচ মানুষ এখন মোটা চাল খাচ্ছেন প্রতি কেজি ৩০ টাকার বেশি দরে, ভোজ্যতেল লিটার প্রতি ৮০-৮৫ টাকায় কিন্তে হয়, ডাল কিনতে হয় কেজি প্রতি ১১০ টাকা দরে আর সারের দাম আমাদের সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ এবং সার কারখানাগুলো গ্যাস-বিদ্যুতের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
৪. বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা
এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত ১৭ মাসে শাসনব্যব¯’া ও আইন-শৃংখলা পরি¯ি’তির চরম অবনতি ঘটেছে। এ পর্যš- প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মামলা তারা দলীয় বিবেচনায় প্রত্যাহার করেছে। বহু সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির মামলাও তুলে নেয়া হয়েছে। এমনকি খুন-জখমসহ বিভিন্ন ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত প্রায় ৫০ হাজার ব্যক্তিকে তারা মামলা প্রত্যাহার করে ছেড়ে দিয়েছে। তার মধ্যে বেশির ভাগই দুর্নীতির মামলা, এমনকি খুন-ধর্ষণের মামলাও আছে। সরকারি দলের একজন নেতার ১৭ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুত্রও আদালতে আত্মসমর্পন না করে বর্তমান সরকারের কৃপায় ক্ষমা পেয়েছে।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়েছে। আওয়ামী লীগের সোনার ছেলেরা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি, ভর্তিবাণিজ্য, দখল-বাণিজ্য ও কলেজ ছাত্রীদের দিয়ে মনোরঞ্জণ-বাণিজ্যে রেকর্ড ¯’াপন করেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনকে অকার্যকর করা, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ, জ্যেষ্ঠ্য বিচারপতিদের বাদ দিয়ে কনিষ্ঠদের দ্বারা রীট বেঞ্চ গঠন এবং জামিন সংক্রাš- বিষয়ে এটর্নি জেনারেলের অবৈধ ও অনৈতিক হ¯-ক্ষেপ মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশাকেও ধূলিসাৎ করেছে। উচ্চ-আদালতের মর্যাদাহানি লক্ষ্য করে এক সাবেক প্রধান বিচারপতি চরম আক্ষেপ ও হতাশার সঙ্গে সম্প্রতি মš-ব্য করেছেন, ‘বিচার বিভাগ এখন কাঁচের ঘরে বন্দী’।
এই সরকারের গৃহীত একপেশে ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ফলে আজ দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন। জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণে ব্যর্থতার ফলে প্রবাসীদের কর্মসং¯’ান সংকুচিত হয়ে এসেছে। বর্তমান অর্থবছরে প্রবাসীদের কর্মসং¯’ানের সংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজারে নেমে এসেছে। ব্যর্থ পররাষ্ট্রনীতির ফলে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের প্রবৃদ্ধির হার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লক্ষ বাংলাদেশী বেকার হয়ে দেশে ফিরে এসে চোখে অন্ধকার দেখছেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস সত্বেও সৌদি আরবে শ্রমিকদের ‘আকামা’ সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। অন্যদিকে মালয়েশিয়া, কোরিয়া, লেবানন, মরিসাসসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে বাংলাদেশী প্রবাসীদের কর্মসং¯’ান ভয়ানকভাবে নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষ বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগের প্রকৃত পরিমাণ (এফডিআই) নেমে এসেছে আশংকাজনক হারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারি-জুন সময়কালে দেশে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ প্রবাহ আগের ছয় মাসের তুলনায় ৪০ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে গেছে। (প্রথম আলো ১৭ মে ২০১০)
একই সাথে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশের অভাবে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য কোটি কোটি টাকার রোড-শো পর্যবসিত হয়েছে ব্যর্থতায়।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করে ভারতের সঙ্গে তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ চুক্তি এবং ৫০ দফা সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ভারতকে চট্রগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে করিডোর সুবিধা প্রদান, ভারতের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের জন্য আখাউড়া বন্দর দিয়ে করিডোরসহ নানামুখী সুবিধা প্রদান করেছেন।
অথচ ভারতের সঙ্গে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় নি। ভারতের সঙ্গে সীমাš- চিহ্নিতকরণ, তি¯-ার পানি বন্টন, ফারাক্কার পানির হিস্যা, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ এবং সীমাšে- বিএসএফ কর্তৃক নির্বিচারে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যার বিষয়ে কোনো ফয়সালা হয়নি।
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা হবেনা বলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস সত্ত্বেও ভারত এখন এই বাঁধ নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ সরকার নিশ্চুপ।
আমরা আশা করেছিলাম প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য স্বার্থ আদায় করে আসবেন। কিš-ু তার কিছুই হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে অপর পক্ষের চাহিদামত সব কিছুই দেয়ার প্রতিশ্র“তি তিনি দিয়ে এসেছেন। বিদেশী রাষ্ট্রের সংগে সম্পাদিত চুক্তি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও আজ পর্যš- ভারতের সংগে সম্পাদিত তিনটি চুক্তি সংসদে উত্থাপন করা হয়নি।
এই চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের পরিণতি নিয়ে এদেশের মানুষ শংকিত। কারণ ভারতের চাহিদা পূরণ করতে হলে চট্রগ্রাম ও মংলা বন্দরে আমাদের নিজস্ব পণ্যের আমদানি-রফতানির সুযোগ সংকুচিত হবে। তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রফতানি পণ্যের জাহাজীকরণ প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে ব্যাহত হবার আশংকা রয়েছে।
ভারতের ভারি পণ্যবাহী ট্রাক-লরির উপযোগী করে আমাদের দেশের সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ করতে হলে বাংলাদেশকে নিজস্ব উৎস থেকে বিনিয়োগ করতে হবে হাজার হাজার কোটি টাকা। ভারত সরকার এক্ষেত্রে ২০ বছরে পরিশোধযোগ্য এক বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদানের যে প্র¯-াব করেছে তার সুদের হারও বাংলাদেশ অন্যান্য সূত্র থেকে যে ঋণ পায়, তার চাইতে অনেক বেশী। আমরা সরকারকে শর্তযুক্ত এই ঋণের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়া থেকে বিরত থাকারও আহবান জানাচ্ছি।
ভারতের জনগণ আমাদের বন্ধু। স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতীয় জনগণের সহযোগিতা আমরা আš-রিকভাবে স্মরণ করি। আমরা চাই সমমর্যাদা, সার্বভৌম সমতা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বিশ্বাস ও আ¯’ার সম্পর্ক ¯’াপন করতে এবং ভারতের বৃহৎ অর্থনীতির ন্যায্য সুবিধা গ্রহণ করতে।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থনীতির চিত্র খুবই হতাশাব্যঞ্জক। রপ্তানী আয় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সোয়া ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
রপ্তানী হ্রাসে মন্দার প্রভাব থাকলেও বিদ্যুতের অভাবই মূল কারণ। বড় পোষাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজেল ও গ্যাস চালিত জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে রপ্তানী বাজার রক্ষা করার চেষ্টা করছে। বহু ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা¯-বায়নের হার মাত্র ৪৪ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারী অংশ গ্রহণে পিপিপি প্রকল্পের জন্যে ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার বরাদ্দের একটি টাকাও সরকারের সিদ্ধাš-হীনতা ও নীতিমালা প্রণয়ন না করতে পারায় খরচ করা সম্ভব হয়নি। জলবায়ু তহবিলের ৭শ’ কোটি টাকার মাত্র ৪৬ কোটি টাকা ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১০ শতাংশ, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, অথচ দরিদ্রজনগোষ্ঠীর জন্য কোনো নতুন কর্মসং¯’ান সৃষ্টি হয়নি।
গ্রামাঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসং¯’ান সৃষ্টির উদ্যোগ নেই বললেই চলে। ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসছে।
৫. ২০০৯ সালের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীর নিস্ফল প্রতিশ্র“তির কিছু দৃষ্টাš-ঃ

৫.১ বিগত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, তারা ২০১৭ সাল নাগাদ জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে উন্নীত করতে চান ১০ শতাংশে। কিš-ু বা¯-বতা হলো ঃ
ক) বর্তমান সরকারের নির্ধারিত মেয়াদ ২০১৩ সাল পর্যš-। অথচ তারা ২০১৭ সালকে সামনে রেখে পরিসংখ্যান দিয়েছেন। এটা জণগণকে বিভ্রাš- করার সামিল।
খ) গত বছর (২০০৮-০৯) প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০০৯-১০ সালে তা ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে যাবে বলে দাতাসং¯’াগুলো আভাস দিয়েছে।
৫.২ অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, জাতীয় আয়ে শিল্পের বর্তমান ২৮ শতাংশ হিস্যাকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
প্রকৃত চিত্র হলো, ২০০১ সনে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছরে শিল্পে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বিএনপি সরকারের শেষ বছর ২০০৬ সালে শিল্পে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশে। অথচ বর্তমান অর্থ বছরে এই হার ইতোমধ্যেই ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
৫.৩ অর্থমন্ত্রী গড় আয়ুষ্কাল ৭০-এর কোঠায় উন্নীত করার কথা বলেছিলেন।
দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির ফলে এই লক্ষ্য কিছুতেই বা¯-বায়ন হবে না বলে আমরা মনে করি।
৫.৪ বেকারত্বের হারকে ১৫ শতাংশে নামাতে চেয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।
শিল্পে বিনিয়োগ ছাড়া বেকারত্বের হার কমানো সম্ভব নয়। যেখানে ২০০৬ সালে জিডিপি/বিনিয়োগের অনুপাত ছিল ২৪ দমমিক ৬৫ শতাংশ সেখানে ২০০৯ সালে জিডিপি/বিনিয়োগের অনুপাত ২৪ শতাংশের নীচে নেমে আসে। বর্তমানে দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না বললেই চলে। বেকারত্বের হারও দিন দিন বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক সাম্প্রতিক তথ্যে জানা যায়, দেশে অতিরিক্ত ২৮ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে গেছে। এটা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের উল্টো চিত্র।
৫.৫ অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দুর্ভাগা মানুষ’ যাঁরা দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকবে তাদের হারকে ১৫ শতাংশে অবনমিত করা হবে।
একই কারণে এই লক্ষ্য অর্জনও সম্ভব নয়।
৫.৬ অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই তিনি অবকাঠামো বিনিয়োগ তহবিল গঠন ও এ খাতে ১শ’ কোটি টাকা বরাদ্দের প্র¯-াব করছিলেন।
অবকাঠামো বিনিয়োগ তহবিল বিষয়ে আজ পর্যš- কোনো সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ খাতে কোনো অর্থই খরচ করা হয়নি – এটা সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতা।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ কম রাখায় অর্থমন্ত্রী অজুহাত দিয়েছিলেন, পিপিপিতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অথচ এখাতে কোনো টাকাই খরচ করা যায়নি। অন্যদিকে বার্ষিক কর্মসূচির বা¯-বায়নও একেবারেই হতাশাব্যাঞ্জক।
অতএব বলা যায়, দেশে শুধু বিদেশী বিনিয়োগই নাজুক অব¯’ায় নয় বরং দেশি বেসরকারি ও সরকারি বিনিয়োগও শূণ্যের কোঠায়।
অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘পিপিপি সংক্রাš- তিনটি নতুন খাত খোলার প্র¯-াব করছি’’।
ক) ‘পিপিপি কারিগরি সহায়তা খাত’।
খ) ‘আগামী অর্থবছরে ১শ’ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের প্র¯-াব করছি’।
গ) ‘সেবার জন্য প্রয়োজনীয় যেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হাসপাতাল, স্কুল এবং রা¯-াঘাট নির্মাণে বেসরকারি উদ্যোগ আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে ভর্তুকি অথবা বীজ-অর্থ স্বরূপ ঠরধনরষরঃু এধঢ় ঋঁহফরহম খাতে ৩শ’ কোটি টাকা বরাদ্দের প্র¯-াব করছি’।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার সাথে আমরাও একমত যে, বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি ছাড়া কোনো অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। অথচ গত দেড় বছরে সরকারের ভ্রাš- নীতি, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোর অবনতি, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণে ব্যর্থতা, আইন-শৃংখলা পরি¯ি’তির অবনতি, একদলীয় শাসনের মতো দলীয় স্বেচ্ছাচার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে দেশ এখন উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগশূন্য।
সুতরাং একদিকে বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে আরও ৬০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে গেছে। (সূত্রঃ উন্নয়ন সমুন্নয়)।
৫.৭ অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘রপ্তানী প্রবৃদ্ধি ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১২ শতাংশে নেমে আসতে পারে’।
বা¯-বে এই সময়ে রপ্তানী প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৩১ শতাংশে নেমে আসে।
এর চাইতেও ভয়াবহ বিপর্যয়ের বিষয় হলো, বর্তমান অর্থবছরে রপ্তানী প্রবৃদ্ধির হার ঋণাত্মক (-৩ দশমিক ২৯শতাংশ)। উলে¬খ্য যে, বিগত বিএনপি সরকারের শেষ বছরের রপ্তানী প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২৩ দশমিক ১১ শতাংশ।
৫.৮ অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘বিদেশে শ্রমবাজার সংহত রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে’।
সরকারের ভ্রাš-নীতির কারণে বিদেশে শ্রম বাজার সংহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় জনশক্তি রপ্তানি সৌদি আরবে ২০০৮ সালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১শ’ ২৪ থেকে ২০১০ সালে ২ হাজার ২শ’ ৫৫, আরব আমিরাতে ২০০৮ সালে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩শ’৫৫ জন থেকে ২০১০ সালে মাত্র ৫৬ হাজার ২শ’ ৭৫ জনে নেমে এসেছে।
আরও বি¯-ারিত তথ্য নিম্মোক্ত সারণীতে দেয়া আছে।
সাল সৌদি আরব কুয়েত কাতার ওমান আরব আমিরাত
২০০৮ ১৩২১২৪ ৩১৯ ২৫৪৪৮ ৫২৮৯৬ ৪১৯৩৫৫
২০০৯ ১৪৬৬৬ ১০ ১১৬৭২ ৪১৭০৪ ২৫৮৩৪৮
২০১০ ২২৫৫ ১১ ২৪৯৪ ৬৯১০ ৫৬২৭৫
৫.৯ অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, ‘বিনিয়োগ বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ বিবেচনা করব’।
ক) বার্ষিক বাজেট প্রণয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়দুটো হ’ল সরকারি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি।
আগেই বলেছি বিনিয়োগের হার বৃদ্ধির পরিবর্তে আরো কমে গেছে।
৬. আমাদের প্র¯-াব
৬.১ বাজেটের লক্ষ্য
ক. বাজেট হবে মানুষের জন্য
খ. উন্নয়নের জন্য এবং
গ. উৎপাদনের জন্য
৬.২ বাজেট বরাদ্দের নীতি
ক. সামাজিক উৎপাদনশীলতার নিরিখে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে বাজেট বরাদ্দের নীতি।
খ. বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ণয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষাখাত, স্বা¯’্যখাত এবং ভৌত অবকাঠামো খাত বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার।
৬.৩.বিদ্যুৎ খাত
সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশাল পরিকল্পনার কথা বলছে। ক্ষমতায় আসার প্রায় দেড় বছরেও সরকারকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিন্দুমাত্র উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। বিদ্যুৎ পরি¯ি’তি সংকটজনক প্রমান করার জন্য সরকার এই ১৬ মাস নিশ্চুপ ছিল। এখন সংকটের তীব্রতার অজুহাত দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এমন সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে যার ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বোধহয় এই কারণেই ১৬ মাস নির্বিকার ছিল।
স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া ও ক্রয়-নীতি-অনুসরণ না করার ফলে এ খাতকে ঘিরে বিশাল দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য যদি ১৪ থেকে ১৬ টাকা হয়, তাহলে সামাজিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হবে। ভোক্তাদের সাধ্যের মধ্যে মূল্য বজায় রাখতে গিয়ে পিডিবি’কে বিপুল অংকের লোকসান (প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা) গুণতে হবে। এ লোকসান পূরণে ভর্তুকি দিতে হবে। ফলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ মারাত্মকভাবে কাটছাঁট করতে হবে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের ট্যারিফ বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বিদ্যমান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো যে কোনো সময় মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। উলে¬খ্য যে, বিদ্যমান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সংস্কারের অভাবে উৎপাদন-ক্ষমতা থেকে অনেক কম বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
এ সকল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রয়োজনীয় মেরামত সাপেক্ষে জাতীয় গ্রিডে আরও ৭শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগান দিতে পারত এবং এর জন্য ৭-৮ মাসের বেশি সময় প্রয়োজন হতো না। বিদ্যমান বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য নির্মিত সাব-স্টেশনগুলোর ক্যাপাসিটি কম থাকায় চাহিদার চাপ মোকাবিলা করতে পারছে না। এই সাব-স্টেশনগুলোর ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলে আরও মসৃনভাবে বিদ্যুতের সরবরাহ সম্ভব হতো।
বিদ্যুতের জন্য বর্তমান সরকার যে স¦ল্প-মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর কোনো ¯’ায়ী সমাধান নয়। অতি চড়া দামে বিদ্যুৎ ক্রয় অর্থনীতির জন্যে বিপদ ডেকে আনবে। আসলে প্রয়োজন প্রতিবছর বিদ্যুৎখাতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাড়তি হারে বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
বিদ্যুৎ এমন একটি পণ্য যার যোগান থাকলে চাহিদা স¦তঃফুর্তভাবেই সৃষ্টি হয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ ঘাটতি পুরণ করে প্রতি বছর ২০ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
সরকার সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ১ হাজার মেগাওয়াটের একটি আণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। নীতিগতভাবে আণবিক বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমি কেবল জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে কিছু মš-ব্য করতে চাই।
বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। কাজেই এখানে আণবিক কেন্দ্রে কোনো দুর্ঘটনা হলে ম¯-বড় বিপর্যয়ের আশংকা রয়ে যায়। তেজষক্রিয় পদার্থ ব্যবহারে যথাযথ প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা না থাকলে এধরণের কেন্দ্র খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে। বিষয়টি গুরত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস অনুসন্ধানের তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং জাতীয় স¦ার্থ সমুন্নত রাখার স¦ার্থে পেট্রোবাংলাকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জাতীয় সম্পদ কয়লার সর্বোত্তম ও লাভজনক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যব¯’া গ্রহণ করতে হবে। এখন থেকে কয়লা-নির্ভর ও আণবিক শক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ¯’াপনের উপর জোর দিতে হবে। নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং জিয়ো থার্মালশক্তি ব্যবহার করে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বৃদ্ধি ও সুসংহত করতে হবে। এই খাতকে উৎসাহিত করার জন্য পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত কর মওকুফ সহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করতে হবে।
৬.৪ শিক্ষাখাত৬.৪.১ বর্তমানে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ সমাজের অপেক্ষাকৃত বিত্তবানদের মধ্যে সীমিত হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিগত দুই-দশকে প্রশংসনীয় অগ্রগতি হলেও দরিদ্র শ্রেণীর ছেলে-মেয়েরা উচ্চতর সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার পথে অগ্রসর হতে পারছে না। একটি যুৎসই শিক্ষানীতি থাকলে শিক্ষাকে সামাজিক সচলতার (ঝড়পরধষ গড়নরষরঃু) হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। শিক্ষা মানব-সম্পদ সৃষ্টিরও হাতিয়ার। এই পরিপ্রেক্ষিতে কোনো মেধাবী ছেলে-মেয়ে যাতে নিছক দারিদ্র্যের কারণে উচ্চতর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। আমরা চাই, আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে অš-তঃ একজন সদস্য উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। আমাদের কর্মসূচি হলো কারিগরি ও বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতি পরিবারে অš-তঃ একজনকে উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত করা।
২০০১-২০০৬ পর্বে আমাদের সময়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ২০ বছর মেয়াদি একটি প্রেক্ষিত কৌশলপত্র তৈরী করা হয়েছিল। সরকার এই কৌশলপত্রটি ব্যবহার করতে পারে।
সকল ¯-রে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে। শিক্ষার উপকরণ সরবরাহ, শিক্ষক-প্রশিক্ষণ এবং ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত উন্নত করতে এই বিশেষ বরাদ্দ ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষাখাতে বিশেষতঃ মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তাকে সুসংহত করতে হবে।প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উত্তরণের হার কম। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক ¯-রে শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে, উচ্চ ¯-রে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।বাংলাদেশে ৮০টির অধিক বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি ও বেসরকারি খাতে রয়েছে। এইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষকের অপ্রতুলতার জন্য শিক্ষার যথাযথ মান অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। সšে-াষজনক মান অর্জনের জন্য আমাদের প্র¯-াব হলো গণচীন, মালয়েশিয়া ও কোরিয়ার দৃষ্টাš- অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানরত শিক্ষকদের ব্যাপক হারে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাগ্রসর শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। এর জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্র¯-াব করছি এবং এই বরাদ্দ দেশের অভ্যš-রে সক্ষমতা অর্জন না হওয়া পর্যš- অব্যাহত রাখতে হবে। বিদেশে প্রাগ্রসর শিক্ষালাভের পর এইসব শিক্ষকরা যাতে দেশে ফিরে আসে সেজন্য প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচ, প্রণোদনা ও কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের এই বিশ্বায়নের যুগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো উন্নততর জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জনে বিশ্বের অন্যসব দেশের সমকক্ষতা নিশ্চিতকরণ। এর জন্য চাই একটি বিশ্বমানের (ডড়ৎষফ ঈষধংং) বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা ডিগ্রিপ্রাপ্ত হবে, তারা বিশ্বের যে-কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ২০১০-২০১১ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার প্র¯-াব করছি।
৬.৪.২ বিজ্ঞান, গবেষণা ও উন্নয়ন খাত
বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষা এবং গবেষণা ও উন্নয়ন খাত নিদারুণভাবে অবহেলিত। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞানের ছাত্রের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। দেশে কিছু বিজ্ঞান ও কৃষি গবেষণাগার থাকলেও বাজেট বরাদ্দ মূলতঃ বেতন ও ভাতা পরিশোধেই ব্যয় হয়ে যায়। গবেষণা যন্ত্রপাতি ও উপকরণের জন্য বরাদ্দ অত্যš- অপ্রতুল। বিজ্ঞান শিক্ষা এবং গবেষণা ও উন্নয়ন খাতের বিকাশের জন্য আমাদের প্র¯-াব নিম্মরূপঃ
ক) দেশের জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদানের এক শতাংশ বিজ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরাদ্দ করার প্র¯-াব করছি। অনুরূপভাবে কৃষিখাতের অবদানের এক শতাংশ কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বরাদ্দ রাখার প্র¯-াব করছি।
খ) আমরা প্রতিটি উপজেলায় কম্পিউটার শিক্ষার সুযোগসহ অন্যান্য কারিগরি কোর্স সম্বলিত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্র¯-াব করছি। এর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য প্রতিটি বিভাগে একটি করে কারিগরি ট্রেনিং কলেজ ¯’াপনের প্র¯-াব করছি। সরকারি এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কারিগরি ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠার নীতি আমরা অনুসরণ করতে চাই।
গ) বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্র¯-াবিত একাডেমিক ইনোভেশন ফান্ডের ৬শ’ ৫০ কোটি টাকা শিক্ষকদের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন এবং জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণা এবং গ্রš’াগার উন্নয়নের জন্য ব্যয় করার প্র¯-াব করছি।
ঘ) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় ও উন্নত করে তোলার জন্য শিক্ষার্থীবান্ধব বিজ্ঞান পাঠ্যপু¯-ক রচনা, বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে সম্পর্কিত সিডি প্রকাশনা এবং বিজ্ঞান শিক্ষকদের জন্য মৌলিক বিজ্ঞান বিষয়ে অব্যাহতভাবে ‘রিফ্রেশার কোর্স’ চালু করার প্র¯-াব করছি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষা উন্নয়নের জন্য আমরা ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দের প্র¯-াব করছি।
৬.৪.৩ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দেশকে সম্পদশালী করে তুলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচনায় এনে আমরা ২০০২ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করি। ওই বছরই আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুষ্ঠু ও সাবলীল বিকাশের লক্ষ্যে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে আইসিটি পলিসি-২০০২ প্রণয়ন করি।
২০০৬ সালে দেশে প্রথম তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়। সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিশ্ব ইনফরমেশন হাইওয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম সংযোগ ¯’াপন করা হয়। মানব সম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। আমরা মনে করি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে ও মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য আরও ব্যাপকভাবে এই খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিৎ।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত সকল প্রকার উপকরণ সামগ্রীর উপর শূন্য শুল্ক সুবিধা বজায় ও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
দেশে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য বেসরকারী খাতে বিচিত্র মান ও আকারের বহু প্রতিষ্ঠান চালু আছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রযুক্তি সহায়তা প্রদানের প্র¯-াব করছি। প্রতিষ্ঠানগুলোর মানে সমতা আনয়নের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের উপর দায়িত্ব প্রদানের প্র¯-াব করছি।
৬.৪.৪ শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য টিভি চ্যানেল
দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার মান আশংকাজনকভাবে নেমে গেছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠার জন্যে জরুরিভিত্তিতে সৃজনশীল কর্মকৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে কারিকুলাম ও সিলেবাস অনুযায়ী সকল ¯-রে উন্নতমানের পাঠদান নিশ্চিত করতে দেশের সেরা শিক্ষক ও পন্ডিত ব্যক্তিদের দিয়ে মডেল পাঠদান সম্প্রচারের লক্ষ্যে সারা বছর একটি আলাদা সরকারী টিভি চ্যানেল ¯’াপনের প্র¯-াব করছি। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ই উপকৃত হবেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে মান-বৈষম্য কমে আসবে। ওই চ্যানেলে প্রচারিত মডেল পাঠদান সম্বলিত ঈউ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সাশ্রয়ী দামে বিতরণ করতে হবে।
৬.৫ স¦া¯’্য ও পরিবার পরিকল্পনা
গত বিএনপি সরকারের সময় বিভিন্ন ¯-রের হাসপাতালে সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি বেড বাড়ানো হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন ও এ্যামবুলেন্স বিতরণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়।
ক্যান্সার, কিড্নি রোগ, হƒদরোগ, অগ্নি-দগ্ধদের চিকিৎসার সুযোগ এই ব্যব¯’ার আওতায় সম্ভব হয়। এছাড়া বিপুল সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়। ইপিআই কভারেজ ৫২ শতাংশ থেকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩ শতাংশ উন্নীত হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ফোকাস হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে ঘরে ঘরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ ও উদ্বুদ্ধকরণ উপেক্ষিত হয়েছে। আমাদের সরকার ২০০৩ সালে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে ১৯৯৮ পূর্ববর্তী অব¯’ায় পুনর্বহালের সিদ্ধাš- গ্রহণ করে। এর ফলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী হƒত-গুরুত্ব ফিরে পায়।
আমাদের সময় শিশুমৃত্যুর হার ও মাতৃমৃত্যুর হার কমে এসেছিল। শিশুমৃত্যু ও মাতৃ-মৃত্যুর হার হ্রাস জনসংখ্যা কর্মসূচিকে জোরদার করে। বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার ১৬ শতাংশ এবং ওজন স্বল্পতার (টহফবৎ ডবরমযঃ) হার ৪৬ শতাংশ। এসব হার প্রমাণ করে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসই যথেষ্ট নয়।
আমাদের প্র¯-াব হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সেবাসামগ্রী সরবরাহ, ধারাবাহিকভাবে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার আরো কমিয়ে আনা এবং শিশুদের অপুষ্টি ও ওজন স্বল্পতা হ্রাসের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ। আমরা চাই আগামী দশ বছরের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উলে¬খযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে। সেই সঙ্গে আমরা চাই শহর ও গ্রামে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স¦া¯’্যসেবা সম্প্রসারিত করতে। সেই লক্ষ্যে একটি স্বা¯’্য-বীমা কর্মসূচি চালুর প্র¯-াব করছি।
৬.৬ভৌত অবকাঠামো, সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগঘনবসতিপূর্ণ এবং বিশাল জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশে যাতায়াত ও পরিবহণের জন্য রেল, সড়ক ও নৌ-পরিবহণের সুষম বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। দেশে সড়ক পরিবহণের উলে¬খযোগ্য অগ্রগতি হলেও রেল ও নৌ-পথের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। সড়ক পরিবহণের উপর যাত্রী ও মালামাল পরিবহণে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার ফলে সড়ক পরিবহণ দ্রুত অদক্ষ হয়ে পড়ছে। সড়ক পথে জট বাড়ছে, খরচ বাড়ছে এবং ভ্রমণ সময় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশের বাইরে উজানে বাঁধ নির্মাণ ও পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের নদীগুলো মৃতপ্রায়। বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানির চাপে নদী ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার জীবন-জীবিকা হারাচ্ছে এবং বিপুল কৃষিজমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে ।
এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্যে নির্বাচিতভাবে নদী খনন ও নদী শাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। বিদ্যমান নৌ-পথগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। দুর্ঘটনা জনিত উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার জন্য উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় নৌযান যথোপযুক্তভাবে বৃদ্ধি করতে হবে।
বিএনপি মনে করে, বর্তমানে যোগাযোগ সেবার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক যোগাযোগের পরিপূরক হিসেবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে উপেক্ষিত রেলওয়ের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা নিম্মোক্ত প্র¯-াবসমূহ উপ¯’াপন করছিঃ
ক) রেলের গতিবেগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান রেল লাইনগুলি সম্পূর্ণভাবে পূনঃনির্মাণ, পূনর্বাসন ও মজবুত করা। মালামাল পরিবহণে রেলওয়ের ব্যবহার বাড়ানো।
খ) সকল প্রধান রেল লাইনে ডাবল লাইন ¯’াপন করা।
গ) ঢাকা মহানগরের সাথে আশ-পাশের ছোট শহরগুলির সঙ্গে কমিউটার রেল যোগাযোগ ¯’াপন করা।
ঘ) রাজধানীর সঙ্গে অন্যান্য বিভাগীয় বড় শহর যেমন চট্রগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনায় দ্রুতগামী রেল সার্ভিস প্রবর্তন করা যেতে পারে।
ঙ) ঢাকা-লাকসাম ট্রাংক লাইন নির্মাণ করে ঢাকা-চট্রগ্রাম সংক্ষিপ্ততম সরাসরি রেল যোগাযোগ ¯’াপনের পরিকল্পনা নিতে হবে।
চ) যতদুর সম্ভব সকল জেলা সদরের সাথে রেল যোগাযোগ ¯’াপন করতে হবে।
ছ) রেলওয়ের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রেলের ইঞ্জিন এবং মালবাহী ও যাত্রীবাহী বগি সংগ্রহ করতে হবে।
জ) রেলের ইঞ্জিন ও বগি সংযোজনের ব্যব¯’াসহ পাহাড়তলি ও সৈয়দপুরে অব¯ি’ত রেলওয়ে ওয়ার্কশপগুলো সুষমকরণ ও আধুনিকীকরণ করতে হবে।
৬.৭ কৃষি ব্যব¯’াপনা
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন কৃষককে সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদনের উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ ছাড়া সার ও সেচের উপর ভর্তুকি প্রদান করে সাশ্রয়ী মূল্যে উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, অতীতে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য বেঁধে দিয়ে কৃষকের আয়ের ¯ি’তিশীলতা আনা সম্ভব হয়নি। গত বোরো ধান কাটার মওসুমে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে দেরীতে ধানের সংগ্রহ মূল্য ধার্য করেছিল। সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ক্রয় না করে ব্যবসায়ী, চাতাল ও মিল মালিকদের নিকট থেকে সরকার ধান-চাল ক্রয়ের ব্যব¯’া করেছিল।
এতে সরকার দলীয় ক্যাডার ও মিল মালিকেরা কৃষকের নিকট থেকে কম দামে ধান ক্রয় করে সরকারের নিকট বেশী দামে বিক্রি করায় কৃষকরা প্রতারিত ও ক্ষতিগ্র¯’ হয়েছিল, অথচ কৃষকরা পণ্যমূল্য সহায়তা থেকে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত হয়েছিল। আমরা মনে করি –
ক) সারের উপর ভর্তুকির পরিমাণ বাড়াতে হবে।
খ) ডিজেল-চালিত সেচ যন্ত্রের খরচ বিদ্যুৎ-চালিত সেচ যন্ত্রের তুলনায় অনেক বেশী। ডিজেল চালিত সেচ যন্ত্রের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভর্তুকি প্রদান করতে হবে এবং এই ভর্তুকির পরিমাণ হবে প্রতি একর জমিতে ডিজেল চালিত সেচ যন্ত্র ব্যবহারের খরচ ও বিদ্যুৎ চালিত সেচ যন্ত্র ব্যবহারের খরচের পার্থক্যের সমান।
সেচে ব্যবহƒত ডিজেলে ভর্ত্তুকি বিতরণ ব্যব¯’া এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে ডিজেলের চোরাচালান না হয়।
গ) ভাল বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে হবে এবং বীজ সংরক্ষণের জন্য উন্নত সংরক্ষণাগার ও মজুত ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
ঘ) কৃষি গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণার বরাদ্দ বাড়িয়ে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
ঙ) আগামীতে খাদ্য শস্য উৎপাদন এবং খাদ্য-শস্য ব্যতীত অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষির বহুমূখীকরনের কর্মকৌশল গ্রহণ করতে হবে। এই কর্মকৌশলের চালিকাশক্তি হবে গবেষণা ও উন্নয়ন।
চাষের নিবিড়তা বৃদ্ধি, অব্যবহৃত জমি চাষের আওতায় আনা, কৃষকদের প্রযুক্তি সহায়তা দেয়ার জন্য মডেল চাষী প্রশিক্ষণ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মসূচী জোরদারকরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীল ফসলের উদ্ভাবন, কৃষকদের প্রণোদনা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে মার্কেট চেইনের ওপর কৃষকের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টিতে ঋণ সহায়তা প্রদান, কৃষকদের সংগঠিত করা প্রভৃতি কর্মকৌশলের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে হবে এবং প্রতিটি কর্মসূচির জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।
চ) আমিষ জাতীয় খ্যদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে মাথাপিছু মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের সরবরাহ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
দরিদ্র জনসাধারণের সুস্বা¯’্য নিশ্চিতকরণ ও রক্ষার জন্য সুলভ মূল্যে পুষ্টির যোগান ও সরবরাহের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি সরকারের সময়ে এই উপলব্ধি থেকে দেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে মাছ, মাংস, ডিম ও দুধের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি করে আমিষের যোগান বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
এই সরকার দেশীয়ভাবে আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধিতে পর্যাপ্ত সহায়তা না দিয়ে প্রতিবেশি দেশ থেকে আমিষ সরবরাহের ব্যব¯’া গ্রহণ করেছে। যেমন ডিম আমদানীর অনুমতি।
ফলে পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে । এতে হয়তো শেষ পর্যš- দেশের সর্ব¯-রের মানুষ আমিষের জন্য পরনির্ভর হয়ে পড়বে। আমরা সকল নাগরিকের পুষ্টি চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে চাই।
দেশের নাগরিকদের পুষ্টির চাহিদা মিটাতে প্রয়োজনে পর্যাপ্ত দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য গরুর খামার প্রতিষ্ঠা করা দরকার। একই লক্ষ্যে আমরা দেশে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিশেষতঃ উপকূলীয় অঞ্চলে মহিষ পালনের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যব¯’া নেয়ার প্র¯-াব করছি।
বিএনপির আমলে কয়েক লক্ষ পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে পোল্ট্রি খামারগুলো মারাত্মক সংকটাপন্ন। পোল্ট্রি শিল্প পুনরুজ্জীবনে ঋণ সুবিধা ও প্রযুক্তি সহায়তা দিতে হবে।
৬.৮ কৃষিবীমা
ক) গ্রামে প্রাšি-ক চাষীদের সহযোগিতা প্রদান ও কৃষিপণ্য উৎপাদনে ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে আমরা তিন ধরণের কৃষিবীমা চালু করার প্র¯-াব করছি।
১. শস্যবীমা
২. মাছ ও পোল্ট্রি বীমা
৩. পশু-সম্পদ বীমা
কৃষিবীমা হলে কৃষিঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।
খ) সরকারী ও বেসরকারী খাতের সমন্বয়ে নতুন কৃষি বীমা কোম্পানী প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রমের শুরুতে সরকার কর্তৃক ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে এ বীমা অনতিবিলম্বে চালু করার প্র¯-াব করছি।
গ) এ লক্ষ্য বা¯-বায়নে ১শ’ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্র¯-াব করছি।
হিমাগার ¯’াপন
ক) কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণে আলু, শাক-সবজি ও ফলমূলের জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি বা প্রয়োজনে একের অধিক হিমাগার ¯’াপনের প্র¯-াব করছি।
খ) এ লক্ষ্য বা¯-বায়নে সহায়তাদানের জন্য আমরা ২শ’ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্র¯-াব করছি।
৬.৯ সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত জনবসতি কেন্দ্র গড়ে তোলা
প্রতিবছর আনুমানিক ১ শতাংশ হারে দেশে আবাদী জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ পরি¯ি’তি সামাল দিতে বেশ কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যাবশ্যক। এ সবের মধ্যে থাকবে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরগুলিতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ।
দুই তিনটি গ্রাম মিলিয়ে একটা নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত থাকবে গৃহ নির্মাণের জন্য “নির্ধারিত আবাসন এলাকা” হিসেবে। নির্ধারিত আবাসন এলাকাতে বাড়িঘর নির্মাণের জন্য নিম্নে বর্ণিত সুপারিশগুলি প্র¯-াব করা হলো:
ক) এ ধরনের প্রতিটি আবাসন এলাকা (পল¬ীশহর) উপজেলা শহরের সাথে ৫০ বছরের গড় বন্যা¯-র বা সীমার উর্ধে পাকারা¯-া তৈরি করে সংযুক্ত করে দিতে হবে।
খ) নির্ধারিত আবাসন এলাকাতে জমি কেনা ও বহুতল বাড়ি তৈরি খাতে কম সুদে ঋণ প্রদান করতে হবে।
গ) এসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়, পল¬ীস্বা¯’্য পরিচর্যা কেন্দ্র, খেলার মাঠ, পুকুর, পার্ক, ব্যায়ামাগার, পাঠাগার, কমিউনিটি সেন্টার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, শৌচ পরিচ্ছন্নতা ব্যব¯’া, উপযুক্ত নর্দমা ব্যব¯’া, বন্যা থেকে রক্ষা ব্যব¯’া, টেলিযোগাযোগ ব্যব¯’া ও অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
ঘ) নির্ধারিত আবাসন এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ধারায় ঋণ প্রদান নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি জেলায় থাকবে একটি করে আবাসন ব্যাংক। এই ব্যাংক শুধু ঐ জেলার ভৌগোলিক সীমার মধ্যে কাজ করবে এবং সুবিধাজনক হারে ঋণ দেবে।
ঙ) পর্যায়ক্রমে এ লক্ষ্য বা¯-বায়নে চলতি অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্পের জন্য ২শ’ ৫০ কোটি টাকার নতুন তহবিল গঠনের প্র¯-াব করছি।
চ) কৃষিজমিতে সকল ধরণের নির্মানাদি নিরুৎসাহিত করতে হবে।
৬.১০ জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশ বিপর্যয়
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের একটি বিশাল অংশ সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলাসমূহের নিুাঞ্চল নিমজ্জিত হবে, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ঘটবে, সুপেয় পানির অভাব ঘটবে, ফসলী জমির উৎপাদনশীলতা নষ্ট হবে এবং ঐ অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্য¯- হয়ে পরিবেশ উদ্বা¯-ুর উদ্ভব ঘটতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমগ্র দেশে খরা ও বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা এবং ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাবে এবং সেই সাথে দেশের ক্ষতিগ্র¯’ অঞ্চলে সুপেয় পানির অভাব ও পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে প্রাণ বৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। জলবায়ু পরিবর্তনের যে সব ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আমরা এখন উৎকণ্ঠিত তার ৩৫ বছর আগেই ফারাক্কা বাঁধ চালু করার ফলে দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল পরিবেশ বিপর্যয়ে পড়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব মোকাবেলার জন্য সরকার গত অর্থবছরে ৭শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও সরকারের সিদ্ধাš-হীনতার জন্য ঐ বরাদ্দ থেকে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪৬ কোটি টাকা। পরিবেশ বিপর্যয় রোধকল্পে যে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার তাও প্রণয়ন করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আমরা মনে করি, পরিবেশ বিপর্যয় রোধেঃ
ক) একটি সমন্বিত একশন প¬্যান তৈরি করা। এই একশন প¬্যানের কাঠামো রচিত হবে ভূমি পুনরুদ্ধার, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ রোধ এবং বেড়ি বাঁধ সুদৃঢ়করণ প্রক্রিয়াকে সমন্বিত করে।
খ) অধিক লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের বীজসহ অন্যান্য কৃষি ফসলের বীজ উদ্ভাবনে কৃষি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়া।
গ) পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যাপক কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বা¯-বায়ন করা।
ঘ) পরিবেশ বিপর্যয় রোধে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী, গবেষক ও মানব সম্পদ তৈরী করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নতুনতর কোর্স প্রবর্তনে ব্যাপক অর্থ বরাদ্দ দেয়া।
ঙ) উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িবাঁধে পর্যাপ্ত বনায়ন সৃষ্টি করা ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করা।
চ) অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভূমিহীন ও প্রাšি-ক চাষী ও দু¯’ মহিলাদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক বনায়নের কর্মসূচি প্রণয়ন ও বা¯-বায়ন করে দেশের অধিক পরিমাণে পতিত জমিতে বনায়ন সৃষ্টি করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।
ছ) প্রাণ-বৈচিত্র্য রক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সুন্দরবনসহ সকল বনভূমি সুরক্ষিত ও উৎপাদনশীল রাখার স্বার্থে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা।
জ) উপকূলীয় ভূমি উদ্ধারের জন্য ক্রস ড্যাম নির্মাণের প্রয়াস নেওয়া।
ঝ) ইছামতী ও গড়াই নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
৬.১১পরিবেশসুপেয় পানি ও চাষাবাদের জন্য ভূ-গর্ভ¯’ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একারণে ভূ-উপরিভাগের পানির ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। খাল খনন, জলাধার নির্মাণ, সুপেয় পানির জন্য পানি পরিশোধন এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ছোট ও মাঝারি ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। ঢাকার চারপাশের নদী এবং ঢাকার মধ্যকার খালগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এ্যাকশন প¬্যান নিতে হবে। ঢাকার পানি সংকট নিরসনের জন্য মেঘনা ও যমুনা নদীকে উৎস হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। বাংলাদেশে চামড়া শিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে বিকশিত হবার বিরাট সুযোগ রয়েছে।
হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে সরিয়ে নেওয়ার বহুল আলোচিত প্রকল্পটি নানা জটিলতার ফলে পূর্ণ বা¯-বায়নের মুখ দেখছে না। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ঊ.ঞ.চ চষধহঃ ¯’াপন করে ট্যানারি শিল্প ¯’ানাš-রের প্রকল্পটি এই বাজেটে গ্রহণ করতে হবে।
৬.১২সরকারি খাস জমি, খাল-বিল ও বনভূমি সংরক্ষণ ও তার সর্বোত্তম ব্যবহার (ঈচজ)
সরকারি মালিকানার জমি, খাল-বিল ও বনভূমির একটি বৃহৎ অংশই আজ ভূমি-দস্যুদের দখলে। কোথাও কোথাও নদীর তীর দখল করে বালি উত্তোলন করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করে ভাঙ্গণের সৃষ্টি করা হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও বনভূমি উজাড় হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার অভিন্ন সম্পদ জলাভূমি যথা খাল-বিল যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে মৎস্য সম্পদ দারুনভাবে ক্ষতিগ্র¯’ হচ্ছে।
এ সকল সম্পদের অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে প্রাণ-বৈচিত্রের অনুকুল স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশ আজ বিঘিœত এবং দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। বৈশিষ্টগতভাবে অভিন্ন সম্পদ অবলুপ্তির শিকার হয়। গোষ্ঠীগতভাবে ব্যবহারের নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করতে পারলে অভিন্ন সম্পদ রক্ষা করা যায়। এ সকল সম্পদের সংরক্ষণ ও সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য কোনো সমন্বিত নীতি-কৌশল গ্রহণ করা হয় নি। আমরা মনে করি যে, এ সকল সম্পদ প্রথমে দখলদারমুক্ত করতে হবে এবং দেশের ভূমিহীন কৃষক, দিনমজুর, প্রাšি-ক চাষী, দু¯’ মহিলাদের সমন্বয়ে সমবায় গঠন করে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এ সকল সম্পদ সংরক্ষণ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
৬.১৩ পানি সম্পদ ব্যব¯’াপনা
কৃষি, শিল্প, পানীয় জল, মৎস্য ও প্রাকৃতিক জলজ সম্পদ, পরিবেশ রক্ষা ও লবনাক্ততা দূরীকরণের জন্যে পানির ব্যবহার ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ ভূ-গর্ভ¯’ ও ভূ-উপরি¯’ পানির সরবরাহ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। সেচের জন্য কৃষিতে ভূ-গর্ভ¯’ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারে ভূ-গর্ভ¯’ ¯-র আশংকাজনকভাবে নেমে যাচ্ছে। এমতাব¯’ায় পানি সম্পদ ব্যব¯’াপনায় একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার প্রয়োজন। আমরা মনে করি-
ক) যেসব ¯’ানে ভূ-উপরি¯’ পানি ব্যবহার করে সেচ সুবিধা বাড়ানো সম্ভব সেসব ¯’ানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। উলে¬খ্য যে, আরও প্রায় ২ মিলিয়ন হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব।
খ) শীতকালে পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য নদ-নদী, খাল বিলসমূহ খনন করে গভীরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পানির ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যা প্র¯-াবিত গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
গ) প্রয়োজনে ভূ-গর্ভ¯’ ও ভূ-উপরি¯’ পানির পরিপূরক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ঘ) পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির প্রয়োজনে গঙ্গা-ব্রক্ষ্মপূত্র ও মেঘনা অববাহিকায় ভারত, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীনের সমন্বয়ে অববাহিকাভিত্তিক পানি সম্পদ ব্যব¯’াপনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
ঙ) বৃষ্টির পানি ধরে রেখে পানীয় জলের সরবরাহ পরিপূরণ করা।
৬.১৪সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী
দরিদ্র ও বিশেষ করে হত-দরিদ্র মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অনুসৃত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বি¯-ৃত করতে হবে এবং মূল্যস্ফীতির নিরিখে এর মাথাপিছু পরিমাণ শতকরা ২০ ভাগ বৃদ্ধি করতে হবে।
৬.১৫ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ (ঝগঊ) উন্নয়ন
শ্রম নিবিড় ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ কৃষি ও শিল্পখাতের পাশাপাশি কর্মসং¯’ান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই খাত মূলতঃ দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে। ফলে এর বিশাল পশ্চাতসংযোগ রয়েছে যে কারণে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে আমদানি নির্ভরতা থেকে দেশকে রক্ষা করে।
অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে এই খাত বিশ্বমন্দার অভিঘাতে ক্ষতিগ্র¯’ হয়নি বরং এই সংকটকালে দেশীয় চাহিদা মেটাতে এর জোর প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও নীতি-সমর্থন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং সহজশর্তে ঋণ সুবিধা এই খাতকে প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তিতে পরিণত করবে। সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঝগঊ খাতকে সমৃদ্ধ করতে পারলে রাজধানী ঢাকা নগরীসহ প্রধান নগরগুলোর উপর বর্তমানে যে চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তার বিপরীতমুখী প্রবাহ সৃষ্টি হবে। এ সকল বিবেচনায় এই খাতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্ভাবনা অত্যš- বিশাল।
ঝগঊ খাতের উন্নয়নে আমাদের প্র¯-াব –
ক) অবিলম্বে উদ্যোক্তা ও কারিগরদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারজাতকরণ, ব্যব¯’াপনা ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ব্যব¯’া গ্রহণ করা
খ) বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ঋণদানের কর্মসূচিকে আরও বি¯-ৃত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বীজ তহবিল দ্বিগুণ করা এবং পূনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি আরো জোরদার করা।
গ) উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের শর্ত আরো শিথিল করা এবং পরিশোধ করার সময়সীমা বৃদ্ধিকরণ
ঘ) নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান
ঙ) এই খাতের সুষম উন্নয়নের জন্য গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা।
৭. এ.ডি.পি. বা¯-বায়নদেখা যাচ্ছে যে, বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প বা¯-বায়নের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা বা¯-বায়নে ধীরগতির ফলে কয়েক মাসের মধ্যে কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে এখন চলছে নৈরাজ্যকর অব¯’া। মন্ত্রী পরিষদ ও উপদেষ্টামন্ডলীর দ্বৈত শাসনের ফলে সিদ্ধাš-হীনতা, দলীয়করণ, ¯’বিরতা এবং সরকারের অভ্যš-রে চিš-ার ঐক্যের অভাব প্রশাসনকে এমন ¯-রে নিয়ে গেছে যে এর দ্বারা জনগণের কোনো মঙ্গল আশা করা যায় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিও তালিকা নির্ধারণ নিয়ে কেলেঙ্কারী তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এ.ডি.পি. বা¯-বায়নে এই অদক্ষতার অবসান ঘটাতে হবে। বর্তমান সরকারের কর্মকর্তারা ভয়ভীতি ও ত্রাসের মধ্যে থাকার ফলে এ.ডি.পি. বা¯-বায়নে আশানুরূপ উদ্যোগ গ্রহণে সাহস পাচ্ছে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর অবাঞ্ছিত রাজনৈতিক খবরদারি ও হ¯-ক্ষেপ বন্ধ করে তাদের মধ্যে আ¯’ার মনোভাব ফিরিয়ে আনতে হবে।
সময়মত অর্থ ছাড় না করার ফলেও বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প বা¯-বায়ন মš’র হয়ে পড়ে। বছরের প্রথম দিকে আনুপাতিকভাবে রাজস¦ সংগ্রহ না হওয়াও বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা-এর অন্যতম কারণ।
বৎসরব্যাপী সুষমহারে রাজস¦ আদায়ের জন্য রাজস¦ প্রশাসনকে সক্রিয় করে তুলতে হবে। রাজস¦ প্রশাসনের কাজটি যেহেতু সরকারের অন্য যে কোনো বিভাগের তুলনায় ভিন্নধর্মী সেহেতু রাজস¦ প্রশাসন পরিচালনা নীতিতেও পরিবর্তন ও সংস্কার এখন সময়ের দাবি। এই লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কিভাবে একটি ‘পারফরমেন্স ওরিয়েন্টেড’ রাজস¦ প্রশাসন চালু করা যায় সে জন্য দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুস¤পন্ন করতে না পারার ফলে একদিকে যেমন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে তেমনি মূল্যস্ফীতির চাপও বৃদ্ধি পায়।
এই দ্বি-মুখী নেতিবাচক চাপ প্রতিহত করার লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রশাসনকে সক্রিয় ও তৎপর করে তোলা উচিত। রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্পের বাহুল্য ইপ্সিত উন্নয়ন অর্জনের পরিপšি’। সংসদ সদস্যদের উদ্যোগে এলাকা ভিত্তিক উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার সুষ্ঠু ব্যহারের জন্য যথাযথ ব্যব¯’া গ্রহণ করতে হবে।
৮. বার্ধক্য পেনশনবাংলাদেশে গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে জনসংখ্যা। বার্ধক্যে কোন রকম আয় রোজগারের সুযোগ না থাকার ফলে, এমনকি দেখভাল করার মতো মানুষ না থাকার ফলে অনেক প্রবীণের শেষ সময়টুকু দুঃখ, কষ্ট ও গ¬ানিময় হয়ে ওঠে। এই দুর্দশা লাঘবের জন্য আমরা একটি ‘পেনশন ফান্ড’ গঠনের প্র¯-াব রাখছি।
সমগ্র কর্মজীবন জুড়ে সকল শ্রেণীর আয়কারীরা যাদের পেনশন সুবিধা নেই তাদের আয়ের একটি ক্ষুদ্র্র অংশ স্বেচ্ছামূলক ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে এই পেনশন ফান্ডে জমা রাখবে। কর্মজীবনের শেষে তাদের জমা করা সমুদয় অর্থ এককালীন কিংবা কি¯ি- আকারে মুনাফাসহ পরিশোধ করা হবে। পেনশন ফান্ডটি হতে পারে লাভজনক উন্নয়ন অবকাঠামো গড়ে তোলার একটি হাতিয়ার। পেনশন ফান্ডটি প্রবীণদের কল্যাণের জন্য ব্যবসায়িক ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। পেনশন ফান্ডের মাধ্যমে সঞ্চয় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে। যারা পেনশন পায় না অথচ আয় করে তারা সবাই পর্যায়ক্রমে এই পেনশন ফান্ডের অš-র্ভূক্ত হবে। ন্যাশনাল আইডি থাকার ফলে এই ফান্ডের ব্যব¯’াপনা সহজ হবে। এই পেনশন ফান্ড গড়ে তোলার জন্য আসন্ন বাজেটে ১শ’ কোটি টাকা বরাদ্দের প্র¯-াব করা হচ্ছে ।
৯. নগর পরিবহণ ব্যব¯’া
যানজট ঢাকার নাগরিক জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। যানজটের ফলে জ্বালানী ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নগর অর্থনীতি যে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা সৃষ্টি করে তাও শুষে নিচ্ছে। যানজট নিরসনে গণপরিবহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। নাগরিকদের জন্য বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য শোভন বাস পরিবহণ বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।
ঢাকা ও চট্রগ্রাম নগরীতে বহুসংখ্যক দ্বিতল বাস চালু ও ঢাকার চারদিকে বৃত্তাকার নৌ-পথ গড়ে তুলতে হবে। ঢাকার নগর জীবনকে বেশ ক’বছরের জন্য বিপর্য¯- করে তুলবে না এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও লাভজনক স্কাইরেল বা এরকম ম্যাস্-ট্রানজিটের কথাই ভাবতে হবে।
১০. আইলা বিধ্ব¯-দের পুনর্বাসন
ঘূর্ণিঝড় আইলা বিধ্ব¯-রা চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এপর্যš- সরকার এদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের কোনো ব্যব¯’া গ্রহণ করতে পারেনি। বিভিন্ন এলাকায় এরা সমুদ্রের নোনা পানিতে বন্দী হয়ে পড়েছে। পানীয় জলের অভাবে এরা তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারছে না।
উপকূলীয় বাঁধগুলো পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করণের কোন উদ্যোগ নেই। আসন্ন বাজেটে আইলা দুর্গত এলাকায় পানি নিষ্কাশন, জ্বলোচ্ছাস প্রতিরোধ বাঁধ এবং এলাকার কৃষি উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে এবং ইতোমধ্যে বরাদ্দকৃত অব্যবহৃত অর্থেরও দ্রুত সদ্ব্যবহার করতে হবে। আইলা বিধ্ব¯- এলাকায় পুনর্বাসন কর্মসূচি রাজনীতিকিকরণ ফলে অগ্রসর হতে পারেনি বলে অভিযোগ আছে। এই সব বাধা অপসারণের জন্য দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ দিতে হবে।
১১. যুব ও মহিলা উন্নয়ন
বেকারত্ব ও সুশিক্ষার অভাবে যুব সমাজের একাংশ চরম হতাশায় ভুগছে। জাতীয় উন্নয়নে যুবসমাজের প্রাণশক্তিকে ব্যবহারের জন্য বা¯-ব পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যুব উন্নয়নের জন্য আমাদের প্র¯-াব নিম্মরূপ ঃ
ক) বিদ্যমান সরকারী ও বেসরকারী যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো আরও শক্তিশালী করতে হবে। এইসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দেশ ও বিদেশের চাহিদা বিবেচনায় রেখে কারিগরি কলাকৌশল শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশী ভাষা শেখানোর ব্যব¯’া করার প্র¯-াব করছি।
খ) যুব মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যুবক-যুবতীদের সংগঠিত করে বিভিন্ন সমাজহিতকর কার্যক্রম গ্রহণের প্র¯-াব করছি যারা ¯’ানীয়ভাবে এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে।
গ) মাদকসেবন ও সকল প্রকার বখাটেপনা থেকে যুবসমাজকে মুক্ত করার জন্য কমিউনিটি কাউন্সেলিং এর ব্যব¯’া গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার প্র¯-াব করছি।
এসব কাউন্সেলিং এ শিক্ষাবিদ, সামাজিক নেতা ও ধর্মীয় নেতাদের সামিল করতে হবে।
ঘ) যুব সমাজের নৈতিকতার মান উন্নয়নের জন্য পারিবারিক বন্ধন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ দৃঢ়করণের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
ঙ) আত্মকর্মসং¯’ানের জন্য যুবকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করতে হবে।
১২. নারী উন্নয়নের জন্য আমাদের প্র¯-াব নিুরূপ ঃ
ক) গরীব ও দুঃ¯’ নারীদের জন্য বিনামূল্যে স্বা¯’্যসেবা সম্প্রসারণ।
খ) কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় নারীদের জন্য বিশেষ কোটা প্রবর্তন।
গ) শ্রমজীবী নারীদের জন্য বিশেষ বাস-সার্ভিস প্রবর্তন।
ঘ) মাতৃত্বকালীন স্বা¯’্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা স্বা¯’্যকেন্দ্রসমূহে আউটডোর চিকিৎসা ও গাইনি ওয়ার্ড চালু করা।
ঙ) যেসব দরিদ্র নারী এক সš-ানের অধিক সš-ান নেবে না, তাদেরকে মাসিক ৫শ’ টাকা হারে ৫ বছরের জন্য ভাতা প্রদান।
১৩. একটি যৌক্তিক করনীতি প্রণয়নে সামগ্রিক নীতি নির্দেশনা
বিএনপি বিশ্বাস করে যে একটি যৌক্তিক করনীতির উদ্দেশ্য হবে এমন যাতে করদাতারা কর প্রদানে নিরৎসাহিত না হয়ে বরং কর প্রদানে উৎসাহিত হবেন। উপরš-ু, সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিৎ কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, কর আদায়ে উচ্চ হার নির্ধারন করে করদাতাগণকে নিরুৎসাহিত না করা। করের উচ্চ হারের ফলে রাজস্ব সংগ্রহ হ্রাস পায়। বিএনপি এ বিষয়ে নিম্মলিখিত প্র¯-াব করছেঃ
ক) তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কোনো নতুন কর ধার্য করা প্রযুক্তি উন্নয়নে ক্ষতিকর হবে ।
খ) করের হার না বাড়িয়ে কর আদায়ের ব্যব¯’াপনাকে উন্নত করতে হবে ও প্রয়োজনে সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে কর প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে।
গ) বর্তমান বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের হ্রাসমান ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনা করে ব্যক্তিগত আয়করের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্র¯-াব করছি। একইসঙ্গে আয়করের হারকে অধিকতর যৌক্তিকীকরনের প্র¯-াব করছি।
মহিলা করদাতা এবং প্রতিবন্ধী বা অবসর ভোগী ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই ছাড়ের পরিমাণ হবে যথাক্রমে ২ লাখ ৭০ হাজার এবং ৩ লাখ টাকা।
ঘ) সেভিংস সার্টিফিকেট, ৫ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র এবং বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের উপর আরোপিত উৎস কর কর্তন প্রত্যাহার করতে হবে।
ঙ) বই জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। বিদেশ থেকে আমদানীকৃত পাঠ্য ও রেফারেন্স গ্রš’, শিক্ষা ও গবেষণামূলক জার্নাল এবং সাময়িকীর উপর বিদ্যমান আমদানী কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। এই কর প্রত্যাহার করলে যে রাজস্বের ক্ষতি হবে, তা অত্যš- নগণ্য, কিš-ু সামাজিক উপযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
চ) বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী এবং বিদেশীদের অর্জিত বিদেশী মুদ্রার জন্য একটি বিনিয়োগ বন্ড প্রবর্তন করা হোক। এই বন্ডের মাধ্যমে সৃষ্ট তহবিল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হোক।
ছ) বাজেটে থোক-বরাদ্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চিত করতে হবে।
১৪. পুলিশ ও আইন-শৃংখলা
একটি সৎ ও দক্ষ পুলিশ বাহিনী ব্যতিরেকে দেশে আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং আইন-শৃংখলার উন্নতি সাধন সম্ভব নয়। আইনের শাসনের অনুপ¯ি’তিতে এবং জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী পরি¯ি’তিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন অসম্ভব। আমাদের দেশে পুলিশ ও জনসংখ্যার অনুপাত অত্যš- হতাশাব্যঞ্জক। এই অনুপাত বৃদ্ধির জন্য পুলিশ বাহিনীতে কন্সস্টেবল থেকে কর্মকর্তা পর্যায়ে নিয়োগবৃদ্ধির জন্য এই বাজেটে সুযোগ রাখতে হবে ।
সকল ¯-রের পুলিশ কর্মচারী ও কর্মকর্তার মান-সম্মত প্রশিক্ষণের জন্য পুলিশ ট্রেনিং একাডেমী ও পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারসমূহকে উন্নত করতে হবে। পুলিশকে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। পুলিশের রেশনের মান ও পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে। পুলিশকে আধুনিক যান-বাহন, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং অস্ত্র-শস্ত্রে সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। পুলিশ বাহিনীর উপর অনাকাঙ্খিত রাজনৈতিক হ¯-ক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
১৫. সামরিক বাহিনী
বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অখন্ডতা রক্ষার জন্য একটি কার্যকর শক্র-প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে সম্প্রসারিত ও উন্নত করতে হবে। সামরিক বাহিনীর প্রতিটি শাখার জন্য আধুনিক সমর-সম্ভারের ব্যব¯’া করতে হবে। বিডিআর বিদ্রোহের ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা পুরণের জন্য বর্ধিত হারে সেনা-অফিসার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যব¯’া করতে হবে।
সেনা অফিসারদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য তাঁদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিরাপোষ দেশ-প্রেমিক যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সামরিক বাহিনীর ক্ষতিসাধনকারী তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা ব্যব¯’াকে যোগ্য, দক্ষ ও কর্মতৎপর করে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার গুরুত্ব অনুধাবন করে নৌ-বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ত্রি-মাত্রিক নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যব¯’া গড়ে তোলার জন্য আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সামরিক বাহিনীর জন্য যথাযথ বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। এই বরাদ্দ ব্যয়ে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
১৬. বিডিআর
ক্ষিপ্রতা ও দ্রুততার সঙ্গে বিডিআর বিদ্রোহ দমনে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা জাতীয় ইতিহাসের এক কলংকজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বিদ্রোহের ফলে বিডিআর বাহিনী প্রায় সম্পূর্ণ বিপর্য¯- হয়ে পড়েছে। সীমাš- নিরাপত্তা বলে আর কোন কিছু অবশিষ্ট নেই। বিডিআর বাহিনীর দ্রুত পূনর্গঠন, চোরাচালান রোধ, মাদক আমদানি রোধ এবং সীমাšে- ভারতীয় বিএসএফের বেআইনি ও বেপরোয়া তৎপরতা রোধ আজ সময়ের দাবী। আমরা চাই, সেনা অফিসারদের দ্বারা যথাযথ ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই বাহিনীকে দ্রুত পূণর্গঠন করা হউক এবং এর জন্য বাজেটে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রয়োজনের নিরিখে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ দেয়া হোক। বিডিআরকে আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র এবং যোগাযোগ সরঞ্জামে সুসজ্জিত করা হোক। সীমাš- ফাঁড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি ও মজবুত করা হোক।
১৭. সংকট ঘণীভূত হচ্ছে
২০০৯-১০ সালে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৯ হাজার ৪শ’ ৬১ কোটি টাকা যা জিডিপি এর ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। একই বছরে মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১লাখ ১৩ হাজার ৮শ’ ১৯ কোটি টাকা যা জিডিপির ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এরমধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩০ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা যা জিডিপির ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ইতোমধ্যেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ৭ শতাংশ কমিয়ে ২৮হাজার ৫শ’ কোটি টাকায় সংশোধন করা হয়েছে।
আমরা লক্ষ্য করেছি যে, ইতোমধ্যে (মার্চ ২০১০) এই অর্থের মাত্র ৪৪ শতাংশ উন্নয়ন বাজেটে ব্যবহৃত হয়েছে। বা¯-বায়িত বাৎসরিক উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষিখাতে এই সময় ব্যয় হয়েছে যথাক্রমে মাত্র ১৯ দশমিক ৩ এবং ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।
আমরা মনে করি, যেখানে সরকারি খাতে ব্যয় বাড়ানো দরকার সেখানে এই বছর সহ বিগত ৩ বছরের মতই সরকারের বিনিয়োগ কমে আসছে। সরকারি বিনিয়োগ কমে আসায় সামগ্রিক বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সরকারের ব্যয় বিশে¬ষণ করলে দেখা যায় বেতন ভাতা ও সরকারের দেশী বিদেশী ঋণের উপর সুদ প্রদান করেই রাজস্ব আয়ের প্রায় ৪০শতাংশ ব্যয় হয়। অধিকš-ু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি আরও ৭ হাজার কোটি টাকা বেড়ে গেলে রাষ্ট্র ভয়াবহ রাজস্ব আয় সংকটে পড়বে। ফলে, দেশী ও বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নিয়ে এই ঘাটতি মোকাবেলা করতে হবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, বেসরকারি খাত ঋণ-দুর্ভিক্ষে নিক্ষিপ্ত হবে, সামগ্রিক উৎপাদন ব্যহত হবে।
আমরা মনে করি, এই ভয়াবহ সংকট এড়াতে রাজস্ব হার বৃদ্ধি না করে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারের অনুৎপাদনশীল ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে। অস্বচ্ছ পš’ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা পরিত্যাগ করে আশুগঞ্জ ও এলেঙ্গাতে কম্প্রেসার বসিয়ে গ্যাস উৎপাদন ও সঞ্চালন বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
সরকারের ঘাটতি অর্থায়ন ৪ শতাংশে বজায় রাখতে হবে। ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে বিএনপি সরকারের আমলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়। একই বছরে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৮ শতাংশ উন্নীত হয়। দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশে নেমে আসে। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে গতিশীলতার সঞ্চার হয়। মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
কিš-ু ১১ই জানুয়ারি, ২০০৭ এর অবৈধ হ¯-ক্ষেপের ফলে জাতীয় অর্থনীতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। যদি এই অস্বাভাবিক ও অবাঞ্ছিত হ¯-ক্ষেপের ঘটনা না ঘটতো তাহলে পরবর্তীতে প্রবৃদ্ধির হার আরও বৃদ্ধি পেত, কর্মসং¯’ান বাড়তো, বিনিয়োগ বাড়তো, বেসরকারি খাত আরও জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করতো। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বহুলাংশে অর্জন সম্ভব হতো। সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতি টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেত। দেশে জরুরি অব¯’া জারির মাধ্যমে অদৃশ্য হ¯ে-র ইন্ধনে জাতীয় অগ্রগতির চাকাকে থামিয়ে দেয়া হয় এবং দেশকে ২০ বছরের জন্য পিছিয়ে দেয়।
১৮. কী রকম বাংলাদেশ দেখতে চাই
সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে উঠে আসা তরুণ গণযোদ্ধা ও সৈনিকেরা দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলন। কিš’ স্বাধীনতার পরপর তাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে গিয়েছিল। অগণিত মানুষের রক্ত, অশ্র“, শ্রমের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে রচিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় বাকশালী স্বৈরশাসন জাতির কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। সেই স্বৈরব্যব¯’ার ভস্ম¯’প থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে উত্তরণ করেছিলেন। তবে ১৯৮২ এবং ২০০৭ সালে এই গণতন্ত্র ব্যাহত করে স্বৈরশাসন প্রবর্তিত হয়েছিল। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে সংগ্রামের পথে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে হয়েছে।
শহীদ জিয়ার লক্ষ্যই ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নির্যাস-সঞ্জাত। সেটা হচ্ছে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথে সমৃদ্ধি অর্জন।
আমাদের ভবিষ্যত স্বপ্ন ও লক্ষ্য হচ্ছে, পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যব¯’ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষম এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে ক্ষুধা, অপুষ্টি, অশিক্ষা, সামাজিক অবিচার, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং শোষণ, বঞ্চনা ও কোনো ধরণের বৈষম্য থাকবে না। আমরা আগামী দশকের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্ব সভায় সম্মান ও মর্যাদার আসনে আসীন দেখতে চাই। সেই লক্ষ্য ও স্বপ্ন বা¯-বায়নকল্পে :
আমরা সত্যিকারের বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও সংহতকরণ চাই।
এজন্য আমরা চাই :
ক্স বিশ্বাসযোগ্য এবং পক্ষপাতহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা
ক্স কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক সংসদের নিশ্চয়তা
ক্স একটি স্বাধীন, দক্ষ, রাজনৈতিক হ¯-ক্ষেপ বিবর্জিত এবং দুর্নীতিমুক্ত বিচার ব্যব¯’া
ক্স মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং আইনের শাসনের নিশ্চয়তা
ক্স দক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত এবং দল-নিরপক্ষ গণ এবং পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলা।
প্রশাসনিক
আমরা একটি দক্ষ, গতিশীল, যুগ-উপযোগী ও গণমুখি প্রশাসন গড়ে তুলতে চাই।
সেই লক্ষ্যে ঃ
ক্স স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক নীতি-নির্ধারনী প্রক্রিয়া চালু
ক্স স্বচ্ছ এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত সরকারি ক্রয় ব্যব¯’াপনা নিশ্চিত করা
ক্স সকল পর্যায়ে ব-মড়াবৎহধহপব চালু
ক্স স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা।
অর্থনৈতিক ব্যব¯’াপনা
আমরা এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যব¯’াপনা ও নীতি কাঠামো গড়ে তুলতে চাই যার মাধ্যমে ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দ্রুত দারিদ্রমুক্ত একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবার পথে এগিয়ে যাবে।
সেই লক্ষ্যে :
ক্স কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যিকীকরণ এবং বহুমুখীকরণ
ক্স শিল্পখাতে অধিকতর প্রবৃদ্ধি অর্জন
ক্স সেবাখাতকে দরিদ্র মানুষের নিছক টিকে থাকার আশ্রয়¯’ল থেকে সর্বাত্মক সমৃদ্ধির বাহনে রূপাš-রিত করা
ক্স রপ্তানী খাতের বহুমুখীকরণ
ক্স বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষের চাহিদার নিরিখে বিশ্বায়নের বা¯-বতার সংগে সঙ্গতি রেখে দেশীয় বাজারমুখী শিল্পায়ন।
বৈদেশিক শ্রমবাজার
আমরা এমন একটি মানব সম্পদ উন্নয়ন নীতি চাই যার মাধ্যমে সম্ভব হবে ঃ
ক্স বিদেশে রপ্তানিযোগ্য শ্রমিকদের দক্ষ শ্রমিকরূপে গড়ে তোলা
ক্স বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ নার্সদের বিরাট চাহিদার সুযোগ গ্রহণের জন্য দেশে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে উচ্চ মানের নার্সিং ইনস্টিটিটিউট গড়ে তোলা
ক্স এক কথায় বিদেশে প্রেরণযোগ্য শ্রমশক্তির কারিগরি ও প্রযুক্তিগত মান উন্নয়ন।
স্বা¯’্যবান জাতি
আমরা একটি স্বা¯’্যবান জাতি গঠনকল্পে জনগণের স্বা¯’্যসেবা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি বা¯-বসম্মত স্বা¯’্য ও পরিবার কল্যাণ নীতি প্রণয়ন করতে চাই।
যার লক্ষ্য হবে ঃ
 আগামী দশকের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আরো উলে¬খযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য প্রণোদনা ও ব¯’গত সহায়তা প্রদান
 গরিব ও বঞ্চিত শ্রেণীর মানুষদের অগ্রাধিকার দিয়ে নাগরিকদের জন্য নিবারণ ও নিরাময়মূলক স্বা¯’্যসেবার সুযোগ, আওতা ও পরিধি এবং মান উন্নত করা
 শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার আরও নামিয়ে আনাতে এবং তাদেরকে অপুষ্টি থেকে বাঁচাতে শিশু ও মাতৃসেবার উন্নয়ন।

প্রতিরক্ষা বাহিনী
জাতীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সুরক্ষায় আমরা একটি দক্ষ, শক্তিশালী ও আধুনিক সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তুলতে চাই। যে বাহিনী :
 দেশে-বিদেশে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখবে
 সর্বশক্তি দিয়ে যে কোনো ধরণের বৈদেশিক হুমকি থেকে ভৌগোলিক অখণ্ডতা সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সম্পদ ও বাংলাদেশের জনগণকে সুরক্ষা দেবে।
মোটকথা, আমরা এমন এক বাংলাদেশ দেখতে চাই, যে-রাষ্ট্রটি বিশ্বসভায় মাথা উচু করে দাঁড়াবে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যে-রাষ্ট্র আঞ্চলিক ও আš-র্জাতিক সম্পর্ক নির্নয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌম সমতাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ঠাই দেবে।
প্রিয় দেশবাসী, আসুন সে রকম একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমরা আমাদের চিš-া, চেতনা, ধীশক্তি, মেধা, উদ্যোগ ও উদ্যমকে সমন্বিত করি।

আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।
আল¬াহ হাফেজ-বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...