কুমিল্লায় এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: রাষ্ট্রপতির নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থ লোপাট

সাকিল মোল্লা,কুমিল্লা থেকে:
‘আমি রাস্ট্রপতির লোক, আমার ইচ্ছে মতো কুমিল্লা এলজিইডি চলবে, কেউ আমার কিছু করতে পারবে না’ এমনই দম্বোক্তি কুমিল্লা এলজিইডি অফিসের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী কাজী আবদুস সামাদের। অভিযোগ রয়েছে বিগত ৮ বছর পূর্বে তিনি কুমিল্লা এলজিইডিতে দায়িত্ব পালনকালীলন সময়ে তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে তাকে কুমিল্লা থেকে বিতাড়িত করার পর বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তদবীর করে ‘টাকার খনি খ্যাত’ কুমিল্লা এলজিইডিতে যোগদান করেন। তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছ।
দরপত্র কমিটির সভাপতি এ প্রকৌশলী তার নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ দিতে গিয়ে ভূয়া কাগজপত্র, দরপত্র ওপেনিং শিট পরিবর্তন ও পে-অর্ডার লম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে জাল-জালিয়াতি করেছেন। ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরের ৪৫ নম্বর দরপত্রের তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি কাজ ২০ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে ময়নামতি টেড্রার্স এর নামে কার্যাদেরশ দিতে চাইলে অন্যান্য ঠিকাদারা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেন নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ) মো: রওশন কবির তদন্তের অভিগের সত্যতা পেয়েছেন। তিনি ৯ মে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর তদন্ত পতিবেদন দাখিল করেছেন। যার স্মারক নং এলজিইডি/নিঃপ্রঃ(রঃ)এম ৬৫/২০০৯/৮০৫। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে অসম্মান ও কটাক্ষ ভাষায় কথা বলার অভিযোগও রয়েছে ওই প্রতিবেদনে। প্রধান প্রকৌশলী ওয়াজিদুর রহমান কর্তৃক কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টেন্ডার হলো তার আসল বানিজ্য। টেন্ডারে টাকা পয়সা না দিলে মাসের পর মাস নিজের কাছে টেন্ডার ফেলে রাখে এমনকি টাকা পয়সা না দিলে বাদ দেওয়ার হুমকি দেয়। আবার কোন কোন সময় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও কাগজপত্র নাই দেখিয়ে রি-টেন্ডার করে দেয় আবার কোন কোন সময় কাগজপত্র না থাকলেও মোটা অংকের টাকা দিয়ে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে কাজ দিয়ে দেন। জানা গেছে কাজী আবদুস সামাদ কুমিল্লায় যোগদানের আগে দুই বছর সুনামগঞ্জ চাকুরী করেছিলেন। সুনামগঞ্জ থাকা কালীন সময়ে সেখানকার নির্বাহী প্রকৌশলী সহিত ও তার মিল ছিলো না। সেখানকার নির্বাহী প্রকৌশলীকে পাত্তান না দিয়ে তার খেয়ালখুশি মত টেন্ডারের কাজকর্ম করতেন। এমনকি কোন কিছু বললে রাষ্ট্রপতির নাম বলে বদলীর হুমকি দেখাতেন। বর্তমানে কাজী আবদুস সামাদ কুমিল্লা এসেছেন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কারণ ৭/৮ বছর আগে কুমিল্লা থেকে তাহাকে এসব অপকর্মের জন্য বদলী করে দেওয়া হয়েছিল তখন সে চার্জ না দিয়ে কুমিল্লা এলজিইডি থেকে পালিয়ে গেছেন। পরে ম্যাজিষ্ট্রেট এসে তার রুমের তালা ভেঙ্গে নতুন যোগদানকারী সহকারী প্রকৌশলীকে চার্জ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন কাজী আবদুস সামাদ বলেছিলেন জিল্লুর রহমান (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) বেঁচে থাকলে আমি আবার কুমিল্লায় আসবো। যেসব ঠিকাদার তখনকার সময়ে তাহাকে বদলীতে সহযোগিতা করেছিল বর্তমানে তারা কাজী আবদুস সামাদ এর আতংকে ভুগছে। তাহার কয়েকজন ঘনিষ্ট ঠিকাদার ছাড়া বাকী সকলের কাজের সাইটে গিয়ে অযথা কাজের মান খারাপ বলে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন এবং হয়রানি করেন। কিন্তু তার ঘনিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ দেখতে সাইটে না গিয়ে ফাইল সই করে দেন। ঠিকাদারগন কাজী আবদুস সামাদের ভয়ে সকল কাজ কর্ম বন্ধ করে দিয়েছেন এবং টেন্ডারের সিদ্ধান্ত করে দেন। ঠিকাদারগন কাজী আবদুস সামাদের ভয়ে সকল কাজ কর্ম বন্ধ করে দিয়েছেন এবং টেন্ডারের সিদ্ধান্ত সময়মত না পাওয়ায় কুমিল্লা এলজিইডির সকল উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হওয়ার পথে। কাজী আবদুস সামাদের নিকট কোন কথা বলতে গেলে সে বলে আমি আগামী ৪ বছর কুমিল্লায় থাকবো এবং রাষ্ট্রপতি বেঁচে থাকলে আমাকে আগামী ৪ বছর কুমিল্লার কোন এমপি বা নেতা আমাকে বদলী করতে পারবে না। কারণ এসব এমপি ও নেতা আমার পকেটে থাকে। সম্প্রতি জানা গেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (রনাবেন) মোঃ রওশন কবিরকে কাজী আবদুস সামাদের বিভিন্ন অপকর্মের তদন্ত করার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হইয়াছে এবং গত কয়েকদিন আগে মোঃ রওশন কবি, কাজী আবদুস সামাদের বিভিন্ন অপকর্মের দিক গুলো ফুটে উঠেছে। সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা বিভিন্ন দরপত্র কাজী আবদুস সামাদের বিভিন্ন অপকর্মের দিকগুলো তদন্ত রিপোর্টে স্থান পেয়েছে এবং তাহার অপকর্ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হইয়াছে।

তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশের আলোকে কাজী আবদুস সামাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি পরায়নতার দায়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু কাজী আবদুস সামাদ এখন তদন্ত কর্মকর্তার চাকুরী খাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। কাজী আবদুস সামাদের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেখিয়ে একচেটিয়া কুমিল্লা এলজিইডিতে দুর্নীতি করে যাচ্ছন। তাহার ক্ষমতার দাপটে কুমিল্লা এলজিইডির কর্মকর্তা/কর্মচারীরা ভয়ে ও আতংকে দিন কাঁটাচ্ছে। কাজী আবদুস সামাদ সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন অল্প কিছু দিনের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীকে সরিয়ে তিন কুমিল্লা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করবেন তাই কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তাহার আদেশ পালন না করলে চাকুরী থেকে বিদায় নিতে হবে। কাজী আবদুস সামাদের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছারিতার বিষয়ে এলজিইডির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাধারণ ঠিকাদারের সহিত আলাপ করে জানা যায় কাজী আবদুস সামাদ যেখানে চাকুরী করতে যায় সেখানেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেখিয়ে অফিসের প্রধানকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন রকম অপকর্মে লিপ্ত হন। জনৈক ঠিকাদার আরো জানান যে, যদি কাজী আবদুস সামাদ কুমিল্লা এলজিইডিতে চাকুরী করেন তাহলে কুমিল্লা এলজিইডির কাজের মান বলে কিছু থাকবে না যেমনটি হয়েছিল আরো প্রায় ৮ বছর আগে মজিবুর রহমান-সামাদ-নুরুল ইসলামের আমলে।
এ ব্যাপারে কাজী আবদুস সামাদের সেল ফোনে (০১৮১৯-৮৪০০৫৩) বার বার চেষ্টা করে ও তার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...