ঢাকা মহানগর জামায়াতের রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ : ৬ জুন দেশের প্রতিটি জেলায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে


১৪৪ ধারা জারি করে রাজধানীর পল্টন ময়দানে জামায়াতের জনসভা বানচাল এবং সরকারের ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে কেন্দ্রঘোষিত ৬ মহানগরীতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর জামায়াত। বিকালে রাজধানীর কাকরাইল নাইটিংগেল মোড় থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ মোড় হয়ে মৌচাক মোড়ে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, জামায়াতের সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি ও পল্টন মাঠ ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করার মাধ্যমে সরকারের স্বৈরাচারী ও বাকশালী চরিত্র নতুন করে উন্মোচিত হয়েছে। তারা অবিলম্বে আটক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
গতকাল বিকালে কাকরাইল নাইটিংগেল মোড় থেকে জামায়াতের মিছিলটি শুরু হলে হাজার হাজার জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে অংশগ্রহণ করে। এ সময় রাস্তার দু’ধারে থাকা জনগণও হাত তালি দিয়ে মিছিলকে অভিনন্দন জানায়। বাসযাত্রী, পথচারী, রিকশারোহী জনসম্পৃক্ত স্লোগানকে স্বাগত জানায়। এ সময় গ্যাস, পানি, বিদ্যুত্ সমস্যা সমাধানে মিছিলে স্লোগান দেয়া হয়।
মিছিল শেষে মৌচাক মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পল্টন ময়দানে সমাবেশ করার জন্য আগেই অনুমতি নেয়া হয়েছিল। এ জন্য দেড় লাখ টাকা ভাড়াও পরিশোধ করা হয়। কিন্তু সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে সমাবেশ করতে দেয়নি। এভাবে সভা-সমাবেশে বাধা দিয়ে জনগণের রোষানল থেকে সরকার নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না। জামায়াতের সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি ও পল্টন মাঠ ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করার মাধ্যমে সরকারের স্বৈরাচারী ও বাকশালী চরিত্র নতুন করে উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার দেশকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি এর বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।
সরকার কার্যত জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা এখন পুলিশনির্ভর হয়ে পড়েছে। তিনি গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বলেন, গ্রেফতার, মামলা, জুলুম, নির্যাতন করে জনগণের আন্দোলন থামানো যাবে না। সরকারের বিরুদ্ধে এমন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে যাতে তারা পালানোর জায়গাও পাবে না।
মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেন, সরকার ন্যক্কারজনকভাবে জামায়াতের জনসভায় বাধা দিয়ে জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। মূলত সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধী দলের সঙ্গে অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে। তারা প্রকারান্তরে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করতে চায়। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে দলন-পীড়ন, জুলুম-নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। সরকার পুলিশ দিয়ে জনগণের কণ্ঠরোধ করতে চায়। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে গণআন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না বলে তিনি সরকারকে সতর্ক করে দেন। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল ও মাওলানা আবদুল হালিম প্রমুখ। উল্লেখ্য, পল্টনের জনসভা বানচালের প্রতিবাদে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৬ জুন দেশের প্রতিটি জেলায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...