দেবিদ্বারে ভয়ঙ্কর এক ভন্ড পীরের কাহিনী নুরের সন্তানের প্রলোভনে করতো অবৈধ মেলামেশা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে অভিযুক্ত ভন্ডপীরের আলিশান আস্তানা, ইনসেটে সেই বহুল আলোচিত ভন্ডপীর আঃ মতিন
দেবিদ্বার প্রতিনিধি :
কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ইউছুফপুর গ্রামে আবদুল মতিন নামের এক ভন্ডপীর আমেরিকা প্রবাসী এক মহিলাকে ‘নুরের সন্তান’ জন্ম দেবার প্রলোভনে পীরের গোপন আস্তানায় অবৈধ মেলামেশা করাসহ প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়াগেছে। এ বিষয়ে গত ২৪ মে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করার পর আস্তানা ছেড়ে পালিয়েছে ভন্ড পীর ও তার সহযোগীরা। গতকাল শুক্রবার ওই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে ওই ভন্ড পীরের নানা অপকর্ম বেড়িয়ে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় 2 যুগ যাবৎ ওই ভন্ডপীর তার আস্তানায় অসংখ্য মহিলাকে নুরের সন্তান জন্ম দেবার প্রলোভনে অবৈধ মেলামেশা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান আবদুল মতিন (৫৮) প্রায় ২ যুগ যাবৎ এলাকায় নীজকে পীর দাবী করে প্রতারনা করে অর্থ লোপাট করে কোটিপতি হয়েছেন। নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ভক্তদের নিকট থেকে লুটে নিয়েছেন বিপূল পরিমান অর্থ। ইউছুফপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ব্যয় বহুল আস্তানা। ওই আস্তানার গোপন কক্ষেই দিবা রাত্রি চলতো ওই ভন্ডপীরের অনৈতিক যতো কর্মকান্ড। সর্বশেষ এক আমেরিকা প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অবৈধভাবে মেলামেশা করে তাকে অন্তস্বত্বা করার পরই ওই ভন্ড পীরের সকল অপকর্ম এলাকায় ফাঁস হয়ে যায়। গত ২৪ মে একই গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী আলমগীর আবদুল মান্নান (৫০) বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় ওই ভন্ডপীরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায় তিনি (মামলার বাদী) ও তার স্ত্রী পারভীন আক্তার (৩৮) কে নানা প্রলোভনে ওই ভন্ডপীর তার নিকট মুরিদ হতে বাধ্য করে। গত ১০ এপ্রিল ওই আমেরিকা প্রবাসীর স্ত্রী পারভীন আক্তার দেশে এসে পর দিন ওই ভন্ডপীরের আস্তানায় তার সাথে দেখা করতে গেলে তাকে বেহেস্তের টিকেট পেতে হলে ৬ লাখ টাকা দাবী করে। ভন্ডপীরের প্ররোচনায় ১৭ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ভন্ড পীরের আস্তানায় ওই মহিলাকে রেখে তার সাথে অবৈধ মেলামেশা করতে বাধ্য করা হয়। এসময় ওই পীর সুকৌশলে ওই মহিলার নিকট থেকে ৫ লাখ ৫২ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়। ২৭ এপ্রিল সে আমেরিকায় ফিরে গিয়ে নুরের সন্তান জন্ম লাভের আশায় ওই ভন্ড পীর তার সাথে ৫ দিন- ৫রাত অবৈধ মেলামেশা ও অন্তস্বত্বা হওয়ার বিষয়টি স্বামীর নিকট প্রকাশ করে। প্রতারনার শিকার ওই মহিলার স্বামী আলমগীর গত ১৯ মে বাংলাদেশে আসার পর ওই ভন্ডপীরের মুখোশ উন্মোচিত করে ফেলায় এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভন্ড পীরের বিচারের দাবীতে এনিয়ে ইতিমধ্যে এলাকায় বিক্ষোভ, সমাবেশ, প্রতিবাদ সভা ও পোষ্টিারিং করা হয়েছে। থানায় দায়েরকৃত মামলায় আরো অভিযোগ করা হয় ভন্ড পীর ওই প্রবাসী ও তার স্ত্রীর নিকট থেকে বিভিন্ন সময় প্রতারনার আশ্রয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও ওই পীর তার নিকট আসা মহিলাদেরকে নুরের সন্তান জন্ম দেবার প্রলোভন দেখিয়ে গোপন আস্তানার একটি সংরক্ষিত কক্ষে এনে অবৈধ মেলামেশা করেছেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে মামলা দায়ের করার পর ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন ভন্ড পীর ও তার সহযোগিরা। এ ব্যাপারে ইউছুফপুর গ্রামের জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা ওমর ফারুক জানান ওই ভন্ডপীর কখনো নামাজ পড়তো না, রোজা রাখতো না, তাই মসজিদে আযান হলে সে উলুধ্বনি হিসেবে অবহিত করতো, সে ইসলামের অপব্যখ্যা দিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আর্থিক ফায়দা লুটে নেয়াসহ মহিলাদের সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো। কুমিল্লা জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক হাজী রশিদুল হক জানান ওই ভন্ডপীর তার আস্তানায় বসে থেকে মহিলাদেরকে নেক ও বেহেস্ত পাবার জন্য তার চারদিকে পবিত্র কাবা শরীফের ন্যায় তাওয়াফ করাতো। ওই গ্রামের আবদুল হালিম জানান ওই ভন্ডপীর মহিলাদেরকে বিভ্রান্ত করাসহ তাদের সাথে নানা অপকর্ম করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গ্রামের ভেতর সুরক্ষিত ও আধুনিক আলিশান আস্তানা তৈরী করেছেন। বাহির থেকে তার অনুমতি ছাড়া কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারতো না। মামলার বাদী আমেরিকা প্রবাসী আলমগীর জানান ওই ভন্ডপীরের প্রতারনার মুখোশ খুলে দিয়ে মামলা দায়ের করার কারণে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি, যে কোন সময় আমার প্রাণনাশ করা হতে পারে। মামলার বাদীর ভাগিনা একই গ্রামের কামরুজ্জামান মিঠু জানান পীর নামধারী ওই ভন্ড প্রতারক তার নিকট আসা অসংখ্য মহিলার সর্বনাশ করেছেন, কিন্তু কেউ লজ্জায় ও সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকায় এতোদিন তার অপকর্ম ফাঁস করেনি। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের একজন সুইপার জানান গত এপ্রিল মামের প্রথম দিকে তিনি ভন্ড পীরের বাথরুম পরিস্কার করতে গিয়ে বাথরুমের ট্রাংকির ভেতর অসংখ্য ব্যবহৃত কনডম পাওয়া যায়। প্রতারক পীরের বেয়াই একই গ্রামের হাজী আঃ বারেক জানান আমার ছেলের সাথে ওই ভন্ড পীরের মেয়ে বিয়ের পরই তার অনেক অপকর্ম প্রত্যক্ষ করেছি,যা লোক সমাজে প্রকাশ করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে মহিলাদের সাথে তার নানা অপকর্ম দেখে লজ্জায়-ঘৃনায় তার সাথে আমার সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের এক গৃহবধূ জানান পর পর ৩টি কন্যা সন্তান জন্মের পর আমি একা ওই পীরের আস্তানায় গেলে সে আমাকে একটি গোপন কক্ষে বিছানায় নিয়ে জানায় চোখ বন্ধ কর, মনে কর তুমি তোমার স্বামীর সাথে একই বিছানায় মিলিত হচ্ছো….,এই বলে ওই ভন্ড পীর আমার সাথে মেলামেশা করে। এর পর এভাবে আমাকে পর পর সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার তার আস্তানায় যেতে বললে আমি সরল বিশ্বাসে একটি পুত্র সন্তানের আশায় সেখানে গিয়ে অবৈধ মেলামেশা করি।’’ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার এস.আই আনোয়ার জানান নিজকে পীর দাবী করে অভিযুক্ত আবদুল মতিন এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য মানুষের সাথে প্রতারনা করেই ক্ষান্ত হননি মহিলাদেরকে ‘নুরের বাচ্চা’ জন্ম দেবার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক মেলামেশায় মিলিত হয়েছে। মামলার পর ওই ভন্ড প্রতারক পীর আস্তানা ছেড়ে পালিয়েছে বলেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...