ভারতে বিমান বিধ্বস্ত নিহত ১৬০

India Plane
দুবাই থেকে ১৬৯ আরোহী নিয়ে রানওয়েতে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান। এতে মারা গেছেন কমপক্ষে ১৬০ জন। বিমানের ভিতর সিটবেল্ট পরা অবস্থায়ই পুড়ে মারা গেছেন তারা। যে যেখানে বসা ছিলেন সেখান থেকে এতটুকু নড়ার সুযোগ হয়নি।
এ ঘটনা ঘটেছে কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোর বিমানবন্দরে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে একটি উপত্যকায় আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাতে আগুন ধরে যায়। এ সময় বিমানের ভাঙা জানালা দিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে এসে জীবন রক্ষা করেন ৭ জন। এ ঘটনায় সারা ভারতে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। কর্ণাটকে পালিত হচ্ছে দু’দিনের শোক। শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। গতকাল টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হয়, বিমানটিতে আগুন জ্বলছে। তা নিভিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরম্ন করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাদের একজন পুড়ে মারা যাওয়া একটি শিশুর মৃতদেহ কোলে করে পাহাড় বেয়ে উপরে উঠে আসছেন। ম্যাঙ্গালোর বিমানবন্দরে (পুরনো নাম বাজপে) বৃষ্টিসহ খারাপ আবহাওয়ার কারণে দৃশ্যমান এলাকার পালস্না কম থাকার জন্যই এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। তবে বিমান থেকে বস্নাক বক্স পাওয়ার পর তা নিয়ে তদনত্ম না করে চূড়ানত্মভাবে নেপথ্যের কারণ নিশ্চিত করে কেউই জানাতে পারছেন না। ম্যাঙ্গালোরের আনত্মর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন তৈরি রানওয়েতে বিমানটি অবতরণের কথা ছিল। পাহাড়ের কোলে বিমানবন্দরটির অবস্থান হওয়ায় সেখানে বিমানের নামা-ওঠা রীতিমতো কষ্টকর। তাছাড়া গত দু’দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। জানা গেছে, বিমানে নবজাতক ৪টি শিশুসহ মোট আরোহী ছিলেন ১৬৯ জন। এর মধ্যে ছিলেন ৬ জন বিমানকর্মী। যে ৮ জন বিমানের ভাঙা জানালার কাচের ফাঁক গলে বাইরে লাফিয়ে পড়েছিলেন তাদের স্থানীয় মানুষের সহায়তায় হাত-পা ভাঙা অবস্থায় ম্যাঙ্গালোরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিএস আচারিয়া এটিকে বৃহত্তম বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নিহতদের পরিবারপ্রতি ২ লাখ রুপি এবং আহতদের পরিবারপ্রতি ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। বিমান পরিবহন মন্ত্রী প্রফুল প্যাটেল গতকালই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওদিকে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিএস আচারিয়া, ডিজিপি অজয় কুমার সিংকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে তাদেরকে বহনকারী হেলিকপ্টার খারাপ আবহাওয়ার জন্য হাসান এলাকার একটি স্টেডিয়ামে জরম্নরি অবতরণ করে। আইনমন্ত্রী বিরাপ্প মইলি দুর্ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর তদনত্ম করা হবে। ইউপিএ সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল তা এই দুর্ঘটনার খবর জানার পরই বাতিল করা হয়েছে। জানা গেছে, বিমানের রাশিয়ান পাইলট এফ গস্নুসিভা দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তেও কোন এসওএস পাঠাননি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...