কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ১৮ লাখ টাকা লোপাট!

স্টাফ রিপোর্টার কুমিল্লাঃ
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের প্রায় ১৮ লাখ টাকার হদিস নেই। কলেজের অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষা কমিটির তদন্ত রিপোর্টে এই ১৮ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি। এ টাকা কলেজের সদ্যবিদায়ী অধ্যক্ষ কাজী আবু তাহেরের সাড়ে ৮ মাস দায়িত্ব পালনকালে লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বছর ১৭ এপ্রিল সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সহযোগী অধ্যাপক আজহারুল হককে আহ্বায়ক, সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জামালউদ্দিন ও সহকারী অধ্যাপক এ বি এম শহীদউল্লাহকে সদস্য
করে ৩ সদস্যের অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। ১২ মে অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষা কমিটির তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। কমিটি গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে এ বছর ৩০ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে ৮ মাস সময়ের হিসাব-নিকাশ ও আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ১০০ টাকার হিসাব খুঁজে পায়নি। কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি ফরম, ভর্তি ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, মাধ্যমিক পরীক্ষার ছাত্রীদের ফরম পূরণের টাকা, পরীক্ষা তহবিলের টাকা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানোর জন্য টাকা, মাস্টার্স শেষ বর্ষের বিষয় অধিভুক্ত ফি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমার টাকা থেকে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই আবু তাহের যখন অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন তখন কলেজের তহবিল ছিল ২৭ লাখ ৫২ হাজার ৩৪০ টাকা। গত ৩০ মার্চ তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন খাত থেকে কলেজের আয় হয় প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। আর দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার সময় তিনি তহবিলে রেখে গেছেন ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৭ টাকা। সব মিলিয়ে তিনি খরচ দেখিয়েছেন ৫২ লাখ ৯৮ হাজার ৯১৩ টাকা। কিন্তু এর মধ্যে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যায়নি।
এ বছর ২১ মার্চ মহিলা কলেজের কেন্দ্রীয় তহবিলের আটটি খাতে ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩০ টাকার হিসাবে ব্যাপক অসঙ্গতি ও গরমিল খুঁজে পেয়েছে নিরীক্ষা কমিটি। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের বিধান লঙ্ঘন করে কলেজের ব্যবস্থাপনা ফি হিসেবে পাঁচটি খাতে বণ্টন করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১০০ টাকা। একই কাজে দুবার ব্যয় সমন্বয় করেও টাকা লোপাট করা হয়েছে। এছাড়া কলেজ লাইব্রেরিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বই ক্রয় বাবদ ব্যয় দেখানো হলেও তালিকা অনুযায়ী বই পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ইন্দুভূষণ ভৌমিক জানান, আমি এ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালে আমাকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর আমাকে ঢাকা ইডেন কলেজে বদলি করা হয়। আমি যাওয়ার সময় কলেজ অধ্যক্ষ কাজী আবু তাহেরকে কলেজ ফান্ডের ২৮ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিয়ে যাই। পরে মহিলা কলেজে আবার ভাইস প্রিন্সিপাল হয়ে ফিরে এসে ১০ লাখ টাকার হিসাব বুঝে পাইনি। অথচ কলেজ ফান্ড আরো সমৃদ্ধ হওয়ার কথা ছিল। কেননা, অনার্সে প্রথম বর্ষে ভর্তি এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ বাবদ অনেক টাকা জমা হওয়ার কথা। কিন্ত দুঃখের বিষয়, এখন কলেজের ১৯টি ফান্ড প্রায় শূন্য। কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম অর্থের অভাবে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এ প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সহকারি হিসাবরক্ষক আবদুল হান্নানের যোগসাজশে কলেজের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ অভিযোগের বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, যারা ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন তারা কেউই আমার সঙ্গে কথা বলেননি। এটি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসাব সহকারী মো. আবদুল হান্নান বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি আমাকে ডেকেছিল। সেখানে আমি বলেছি অধ্যক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ খরচ করা হয়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...