চান্দিনায় দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে জিপিএ-৫ পেয়েছে চার মেধাবী

মাসুমুর রহমান মাসুদ ,স্টাফ রিপোর্টার :
তাহমিনা:
7
এক বছর বয়সে মায়ের মৃত্যু। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন মারা গেছেন বাবা। চাচার অভাবের সংসারে লেখাপড়ার অদম্য বাসনা নিয়ে বেড়ে ওঠে তাহমিনা। প্রতিকূল অবস্থায় দারিদ্র্য জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে তাহমিনা আক্তার। সে চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। ভবিষ্যৎ লেখাপড়া অনিশ্চিত তবুও বড় হয়ে সে ডাক্তার হতে চায়। সাংবাদিকদের কাছে আক্ষেপ করে তাহমিনা বলেন, আমার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা পূরণ হবে কিনা জানিনা। তাহমিনা বাড়েরা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগমের একমাত্র মেয়ে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে।
জুয়েল:
8
টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ বহন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে জুয়েল আহমেদ শান্ত। সে বড়গোবিন্দপুর গ্রামের ভূমিহীন সিএনজি চালক হাবিবুর রহমানের বড় ছেলে। বড়গোবিন্দপুর আলীমিয়া ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে অংশগ্রহণ করে। সে পঞ্চম শ্রেণী ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়েছে। ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হতে চায়। দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সংসারের ভরণ পোষণ চালানোই কঠিন সিএনজি চালক হাবিবুর রহমানের। বর্তমানে জুয়েলের উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কাউছার:
4
রিক্সা চালিয়ে পড়ালেখার ব্যয় ভার বহন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে করতলা গ্রামের ভূমিহীন রিক্সা চালক নূরুল ইসলামের বড় ছেলে মো. কাউছার আহাম্মেদ। সে ভোরমকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্র। ফলাফলের দিনও সে চট্টগ্রামে রিক্সা চালিয়ে উপার্জন করেছে। আর্থিক সঙ্কটে সে ভবিষ্যতে আর লেখা পড়া করতে পারবে কিনা তা এখন অনিশ্চিত। ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে পরিবারের ভরণ পোষণ চালানোই রিক্সা চালক নূরুল ইসলামের পক্ষে অসম্ভব। এরই মধ্যে ছেলের লেখা পড়ার জন্য বাড়তি খরচ তার পক্ষে মোটেই সম্ভব ছিল না। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না পারার খবর পেয়ে চান্দিনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহায়তায় তার ফরম ফিলাপ করা হয়।
হাজেরা:
6
পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই স্কুল পড়–য়া। একমাত্র উপার্জন কারী বাবা। তিন ভাই বোনের পড়ালেখার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব। এমন প্রতিকূল অবস্থায় টিউশনি করে পড়ালেখার ব্যয় ভার বহনকরে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাইজখার গ্রামের ভূমিহীন রিক্সা চালক মো. খলিলুর রহমানের বড় মেয়ে হাজেরা আক্তার। সে চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের এ.এম.এফ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। বড় হয়ে সে ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু আর্থিক সঙ্কটে সে ভবিষ্যতে আর লেখা পড়া করতে পারবে কিনা তা এখন অনিশ্চিত। জিপিএ-৫ পেলেও মেয়ের ভবিষ্যৎ লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে হাজেরার বাবা-মা। কেননা, বিজ্ঞান বিভাগে লেখা পড়া ব্যয়বহুল। সংসারের তিনবেলার আহার যোগাতেই বাবাকে হিমশিম খেতে হয়। মো. খলিলুর রহমান জানান, ২ মেয়ে, ১ ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে পরিবারের ভরণ পোষণ চালানোই তার পক্ষে অসম্ভব। এরই মধ্যে মেয়ের লেখা পড়ার জন্য বাড়তি খরচ তার পক্ষে মোটেই সম্ভব ছিল না। তাই টিউশনি করে লেখাপড়ার ব্যয় ভার বহন করেছে হাজেরা আক্তার।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...