তিতাসে খাসজমি বন্দোবস্ত ঘটনায় সাংবাদিক নির্যাতন : ইউএনওর অপসারণ দাবী

নাজমুল করিম ফারুক তিতাস থেকে :
তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে খাসজমি বন্দোবস্ত ঘটনার জের ধরে দুষ্করকারী কর্তৃক দুই সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে ইউএনও অপসারণ ও দুস্করকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে সে সম্পর্কে ইউএনও ও আহতরা একে অপরকে দোষারোপ করে চলেছে। ঘটনার মূলহোতার হুমকির মুখে সাংবাদিকরা প্রাণনাশের ভয়ে বাড়ী যেতে পারছেন না। অনেকের অভিমত ইউএনওকে অপসারণ না করলে ঘটনার রেশ থেকেই যাবে।
উক্ত ঘটনায় সম্পৃক্ত বিভিন্ন লোকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, মজিদপুর ইউনিয়নে শাহপুর মৌজার ১নং খাস খতিয়ানে ১৪৩৯ দাগে ৮৫ শতক ভূমি থেকে ২০০৬ সালে শাহপুর স্থানীয় ঈদগাহের নামে ২৩ শতক এবং একই গ্রামের সাংবাদিক আনিছুর রহমান, জালাল ও দেলোয়ার হোসেনের নামে ২৩ শতক ভূমি কবলিয়ত রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। বাকী ৩৯ শতক জনসাধারণে জন্য রাস্তা হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঈদগাহ ও উপর তিনজনকে বন্দোবস্ত দেওয়ার পর বাস্তবে দেখা যায়, উক্ত স্থানে যে পরিমাণ জায়গা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে প্রকৃত পক্ষে সেখানে সে পরিমাণ জায়গা নেই। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগো, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৌখিকভাবে ঈদগাহের নামে ২০ শতক ও আনিছুর রহমান, জালাল ও দেলোয়ারের নামে ১৭ শতক ভূমি ভাগ করে দেয়।
বর্তমানে ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি ঈদগাহের সীমানা অতিক্রম করে মাটি ভরাট করায় আনিছুর রহমান, জালাল ও দেলোয়ার দাবীকৃত জায়গা উদ্ধারের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র নিকট আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলার একটি সভা ডেকে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তাৎক্ষণিক উক্ত দাগে বাস্তবে কত শতাংশ জায়গা আছে তা দেখার জন্য সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তা অদৃশ্যভাবে থেমে যায়। এ ব্যাপারে তিতাস উপজেলার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দৈনিক রূপসী বাংলাকে জানান, সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভূমিটি মাপার জন্য দিন তারিখ ধার্য্য করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করলে ইউএনও স্যার যেতে মানা করেন এবং বলেন তা মিমাংসার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে গত ১৭ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূনরায় উক্ত ভূমি পরিদর্শনসহ উভয় পক্ষের সাথে আলাপ করতে গিয়ে জন্ম হয় নতুন ঘটনার।
১৭ মে সোমবার ঘটনার সম্পর্কে আহত আনিছের বড় ভাই দৈনিক ইনকিলাবের কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন মোল্লা জানান, আমাদের কোন নোটিশ না দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বন্দোবস্তকৃত জায়গা পরিদর্শনে আসেন এবং আমার ছোট ভাই দৈনিক খবর পত্রিকার তিতাস প্রতিনিধি আনিছুর রহমানকে ডেকে ঘরের বাহিরে আনেন। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলামে সামনে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আলী আকবর বাহিনী আনিছের উপর হামলা চালায়। তিনি আরো জানান, আমার ভাগিনা দৈনিক ডেসটিনির তিতাস প্রতিনিধি কবির হোসেন তাকে বাঁচালে গেলে সন্ত্রাসীরা তার উপরও চড়াও হয়ে মারধর করে। পরবর্তীতে আহতদের তিতাস স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। মামলা সম্পর্কে তিনি জানান, আমি অভিযোগপত্র দাখিল করেছি থানা পুলিশ অভিযোগপত্রটি তিন দিন পর নথির্ভূক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে আমার ভাই ও ভাগিনা। বিভিন্নভাবে তারা হুমকি দিয়ে আসছে বাড়ীতে আসলে তাদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে। ১৭ মে ঘটনার সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম দৈনিক রূপসী বাংলাকে বলেন, আমার উপস্থিতিতে কোন মারামারি হয়নি। তবে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর সাংবাদিক কবির আমাকে ফোন করে বলেন, আলী আকবর বাহিনীর সন্ত্রাসীরা আমার মাথা ফাঁটিয়ে ফেলেছে। তার কিছুক্ষণ পর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল ফয়সল অভিযোগপত্র সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেন। অভিযোগপত্র সম্পর্কে ওসি আবুল ফয়সল জানান, শাহপুরের ঘটনায় উভয়পক্ষই থানায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে আমি অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছি এবং তা তদন্ত করে দেখেছি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে কোন মারামারি হয়নি তবে ইউএনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর কথা কাটিকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। তবে তিতাস থানায় আজ ২০ মে জসিম উদ্দিনের অভিযোগপত্রটি নথির্ভূক্ত করা হয়েছে যাহার নাম্বার ০৮।
এদিকে ১৮ মে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় প্রায় ১৫-২০ জন লোক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অপসারণের দাবীতে তিতাস উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে উপস্থিত হয় যা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ ব্যাপারে ইউএনও আমিনুল ইসলাম জানান, ১৮ মে উপজেলা পরিষদের কোন ধরণের লোক সমাগম এবং আমাকে অপসারণের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল হয়নি। উক্ত ঘটনা সম্পর্কে মজিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিয়া সরকার জানান, দীর্ঘদিনের জটিলতা অবসানের জন্য তা উপজেলায় একটি সভা ডেকে তা উত্থাপন করা হয় সে মোতাবেক সার্ভেয়ারকে দায়িত্বও দেওয়া হয়। কিন্তু কি কারণে তা থেমে যায় তা আমার জানা নেই। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এ সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমস্যাটি সমাধান করতে পারবেনা বলেই তিনি ফাইলটি জেলায় প্রেরণ করেন কিন্তু পুনরায় কেন সে আবার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য অগ্রসর হলেন সে প্রশ্নের জবাব কে দেবে? এ সম্পর্কে উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, বন্দোবস্তকৃত জমি নিয়ে সমস্যা আছে আমি জানি কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসারে নির্দেশে ও উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। ইউএনওকে অপসারণের দাবীতে মিছিল হয়েছে কিনা তা আমি জানি না।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...