দুর্নীতিবাজদের আর সময় দেয়া যায় না : খালেদা জিয়া

D17 স্টাফ রিপোর্টারঃ
বুধবার বরিশালে বিএনপির মহাসমাবেশে চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটের এ সরকারকে আর সময় দেয়া যায় না। আন্দোলন করে এদের তাড়াতে হবে। তাই আগামী ১৯ মে ঢাকার পল্টন ময়দানের মহাসমাবেশ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সারোয়ার। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জে. (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, সারওয়ারী রহমান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহজাহান ওমর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
সরকারের ব্যর্থতায় গণবিস্ফোরণ এখন সময়ের ব্যাপার উল্লেখ করে মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, দুর্নীতি-দলীয়করণ ও তাঁবেদারি বন্ধ না করলে গণবিস্ফোরণ আসন্ন।
তিনি আরো বলেন, এ দেশে আজ বিদেশি সেনা আনার চক্রান্ত চলছে। দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র বানানোর পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। এজন্য বিডিআর ধ্বংস করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত এখন অরক্ষিত। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এখন হুমকির মুখে। এ সরকার বিনা টেন্ডারে কাজ দেয়ার জন্য বিদ্যুতের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তারা তাদের এ অপচেষ্টায় সম্পৃক্ত হতে চাচ্ছে না। তারা বিষয়টিকে অবৈধ বলেই জানে। এ ধরনের কাজ করলে মামলা হবে। এই অবৈধ প্রস্তাবে স্বাক্ষর না করার জন্য তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে অথচ তাদের গণতন্ত্রের নমুনা হচ্ছে বিএনপি কোনো সমাবেশ ডাকলে তারা হামলা করে তা বানচাল করতে চায়। সমাবেশ ব্যর্থ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে। আজকের সমাবেশ বানচাল করতেও অনেক প্রক্রিয়া করেছে। এর কারণ হচ্ছে তারা জনগণকে ভয় পায়। একই কারণে টেলিভিশন চ্যানেলে তার জনসভা সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সরকারের ১৬ মাসে কোনো উন্নয়ন হয়েছে কিনা জানতে চেয়ে তিনি বলেন, দেশে কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরিশালেও হয়নি; বরং বরিশালে তাদের সময় অনেক কাজ হয়েছে। এ সময় তিনি তার সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের আন্দোলনের ফসল অবৈধ সরকার বরিশালের উন্নয়ন চায়নি বলেই এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আটকে দিয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো প্রতিষ্ঠান গড়তে পারে না, কেবল ভাঙতে পারে। তারাই বঙ্গভবনে অক্সিজেন বন্ধের হুমকি দিয়েছিল।
খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্র্তী দেশ গড়ার জন্য আসা সব সাহায্য আওয়ামী লীগ নেতারা লুটপাট করেছিল। সেটা দেখে শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই তাদের চোর বলে অ্যাখায়িত করেছিলেন। ফলে এখনো সে চোরের খনি থেকে চোর বেরুচ্ছে। এ চোরদের হাতে দেশ ও জনগণের জানমাল নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন, সীমান্তে বিএসএফ প্রতিদিন বাংলাদেশিদের হত্যা করছে, লুটপাট ও জমি দখল করছে। সরকার কোনো প্রতিবাদ করছে না। সীমান্তরক্ষী বলতে কিছু নেই, সীমান্তও খোলা। ফলে অবাধে চোরাচালান ও ভারতীয়রা লুটপাট চালাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সঙ্কটের জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, ১৯৯৬-০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও উৎপাদন করেনি। তারা ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় গ্রিডে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়েছে। তাদের নেয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশে বিদ্যুৎ সঙ্কট থাকত না।
তিনি বলেন, মইন-ফখরুদ্দীনের ষড়যন্ত্র ছিল বিএনপিকে ধ্বংস করে ১০-১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা। তবে দেশ পরিচালনায় অভিজ্ঞতা না থাকা, বিদেশিদের ওয়াদা পূরণ করতে তারা দুই বছরে এ দেশের সর্বনাশ করেছে। দেশকে ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের ধরে অর্থ আদায় ও নির্যাতন করেছে। আমাদের নামে এখনো মামলা ঝুলছে।
২০০৮ সালের নির্বাচনকে সাজানো-পাতানো উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে থেকেই ফল সাজানো ছিল। দেশের স্বার্থে তারা ওই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। গণতান্ত্রিক সরকারের আশায় অংশ নিলেও এখন দেখছেন যে, সেই আওয়ামী লীগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমান সরকার তাদের পথ অনুসরণ করছে। বিশেষ করে তারা বিচার বিভাগকে পঙ্গু করেছে। সেদিন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আইনজীবী মহাসমাবেশে আক্ষেপ করে বলেছেন, তার ৫০ বছরের ওকালতি জীবনে এ ধরনের পরিস্থিতি আর দেখেননি। তিনি আদালতে ওয়ান-ইলেভেনের যে ভূত ঘোরাফেরা করছে তা তাড়াতে মিলাদ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। খালেদা জিয়া বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের আসল ভূত সরকারেই। তাদের তো আর ঝাড়-ফুঁক দিয়ে তাড়ানো যাবে না, তাড়াতে হবে আন্দোলনের মাধ্যমে। তাহলেই দেশে শান্তি ফিরে আসবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...