তিতাসে অবৈধ উচ্ছেদের প্রতিবাদে কড়িকান্দি বাজার ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ ও সাংবাদিক সম্মেলন

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি বাজারে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের ঘোষণার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এক ব্যবসায়ী।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি বাজারে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের ঘোষণার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এক ব্যবসায়ী।
নাজমুল করিম ফারুক তিতাস থেকে :
০৪ মে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম অবৈধভাবে উচ্ছেদের জন্য নোটিশ ও মাইকিং করার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীগণ দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের করেন। সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী হোসেন মোল্লা, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ডাঃ কামাল হোসেন, সাহিদুল ইসলাম ও শাহনাজ বেগম প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, উপজেলার কোথাও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে তিতাস উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম কড়িকান্দি বাজারে দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রায় তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙ্গে ফেলার জন্য নোটিশ ও মাইকিং করে ঘোষণা দেন। বক্তারা বলেন, উক্ত বাজারে অবৈধভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালালে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং বেকার হয়ে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। ব্যবসায়ীরা কয়েক দফা প্রশাসনের সাথে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখার অনুরোধ করলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অদৃশ্য ইশারায় অবৈধভাবে স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে ফেলার জন্য ব্যক্তিগতভাবে লেখালেখি করেন এবং কঠোর পরিকল্পনা নেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও মনগড়া সিদ্ধান্ত। বর্তমান সরকার প্রতি ঘরে ঘরে একজন করে কর্মসংস্থানের কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করলেও একমাত্র তিতাস উপজেলার প্রশাসনের বৈরী মনোভাবে প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান মালিক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে বলে তারা বলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তার পূর্বে গত রবিবার ও সোমবার ব্যবসায়ীরা পৃথক পৃথক ভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম তিতাসে যোগদান করার পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানাহ অভিযোগ উঠে। ফলে তিনি এখানকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষের কাছে বির্তকিত হয়ে উঠেন।
উল্লেখ্য, ওয়ান ইলেভেনের পর দেশের এক ক্লান্তিলগ্নে যখন ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে তখন সারা দেশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে ঐ বছর ১ ফেব্রুয়ারি দড়িকান্দি, শিবপুর, মৌটুপী, বন্দরামপুর, কড়িকান্দি বাজার, হোমনা গৌরীপুর রাস্তার দু’পাশের ৪০০ ফুট জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। একই বছর দ্বিতীয় দফা উচ্ছেদ চালানো হয় ১৩ মার্চ বাতাকান্দি বাজারে। ঐ দিন বাতাকান্দি বাজারের মাছ বাজার, বাঁশ বাজারসহ আনাচে কানাচে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বাজারটিকে তছনছ করে দেয় প্রশাসন।
২০০৮ সালে কোন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো না হলেও ২০০৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে গৌরীপুর হোমনা সড়ক সংলগ্ন কড়িকান্দি বাজারে। এ সময় প্রায় শতাধিক দোকান ভেঙ্গে ফেলে। একই দিন গাজীপুর ও বাতাকান্দি বাজারে উপস্থিত হয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অবৈধ স্থাপনা নিজ উদ্যোগে গুড়িয়ে নিতে নির্দেশ দেন। পরদিন ১০ ফেব্র“য়ারি গাজীপুর ও বাতাকান্দি বাজারে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এতগুলো উচ্ছেদের ক্ষতি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কেটে উঠতে না উঠতেই স্থানীয় প্রাশসনের বৈরী আচরণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...