স্বাস্থ্য খাতে ৩২ হাজার শূন্য পদ পূরণ করা হচ্ছে : চৌদ্দগ্রামে স্বাস্থ্য মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :
গুণগতমান সম্পূন্ন ঔষধ তৈরী, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়াস নিয়ে যাত্রা শুরু হলো নতুন ঔষধ কোম্পানি জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. ফ.ম রুহুল হক শুক্রবার সকালে কারখানা প্রঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে এ কারখানার উদ্বোধন করতে গিয়ে বলেছেন স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সরকার দেশের স্বাস্থ্য খাতে ৩২ হাজার শূন্য পদ পূরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে দেশের জন্য হুমকি হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটিতে উপনিত হয়েছে। এটা আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। দেশের উন্নয়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। তিনি জনসংখ্যার বিস্ফোরণ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে তোলার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান। জনতা ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায়, সর্বাধুনিক ও সর্বোচ্চ মান-নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় ঘটিয়ে জেএমআই কর্তৃকপক্ষ ঢাকার অদূরে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই অত্যাধুনিক ঔষধ কারখানা।
শুক্রবার সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রাজেন্দপুর এলাকায় জেএমআই ফার্মা নিলিটেডের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রী অধ্যাপক আ.ফ.ম রুহুল হক এ কথা বলে। জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মুজিবুল হক মুজিব এমপি, কুমিল্লা- ৮ আসনের সংষদ সদস্য নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জোবেদা খাতুন পারুল, স্বাস্থ্য অধিপ্দরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালখ আব্দুল কাইয়ূম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল কালাম আজাদ, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী সেলিম, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম হাজারী, জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান পাটোয়ারী ও জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের চেয়ারম্যান জাবেদ ইকবাল পাঠান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক জামাল হোসানই, পুলিশ সুপার সফিকুল ইসলাম প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে স্বাস্থ্যখাতে ৩২ হাজার পদ খালি রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শূন্য এই পদগুলো পূরণে পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি স্থানীয় হাসপাতাল, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জনগনের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, জেএমআই ফার্মা লিমিটেড বর্তমানে ২৭টি বিভিন্ন প্রকারের ঔষধ তৈরি করছে। এখানে ঔষধ তৈরি করছে। এখানে ঔষধ শিল্পের উন্নতি হলে চৌদ্দগ্রামসহ সমগ্র দেশের উন্নতি হবে। মন্ত্রী স্থানীয় ডায়াবেটিকস হাসপাতালের জন্য নগদ ৫ লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদে জেএমআই বাংলা কোম্পানি গত দশ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে গুণগত মানসম্পন্ন ডিসপোসেবল ও অটো-ডিজএবল সিরিঞ্জ এবং সার্জিক্যাল আইটেম উৎপাদন ও দেশে-বিদেশে বাজারজাত করে উন্নত স্বাস্থ্য সেবায় সহায়তা করে আসছে। গুণগত মানসম্পন্ন ঔষধ উৎপাদন এবং স্বল্পমূল্যে তা বাজারজাত করার মাধ্যমে আপামর জনতা উন্নত স্বাস্থ্য সেবায় সহায়তা করার মহান প্রয়াস নিয়ে আমরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ মান-নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় ঘটিয়ে ঔষধ কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঔষধ উৎপাদন ও রফতানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আমাদের বিদেশী ক্রেতারাও ডিসপোসেবল ও অটো ডিজএবল সিরিঞ্জ এবং সার্জিক্যাল আইটেমের পাশাপাশি ঔষধ আমদানি করতে চাচ্ছে। এ কারণেই আমরা দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঔষধ রপ্তানি কার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এ কারখানা স্থাপন করেছি। বর্তমানে এ কারখানয় ২৫০ জনবল কাজ করছে। অচিরেই এ কারখানর জনবল ৮০০ তে গিয়ে পৌঁছবে। পূর্ণোদ্যেমে এ কারখা চালু হলে এ কারখায় ২০০০ এরও বেশী দক্ষ-অদক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে বার্ষিক ৩০ কোটি পিছ ট্যাবলেট, ৪০ লাখ পিস ক্যাপসুল (এন্টিবায়োটিক), ৩০ কোটি পিছ ক্যাপসুল (নন-এন্টিবায়োটিক), ৩০ লাখ বোতল তরল সিরাপ এবং ৩০ লাখ বোতল ড্রাই সিরাপ। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ২৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকার মত। জেএমআই ফার্মার মূল লক্ষ হচ্ছে পূর্বসূরীর উচ্চ গুনগত মানসম্পন্ন সিরিঞ্জ ও সার্জিক্যাল আইটেমের মত উচ্চ গুনগত মানসম্পন্ন ঔষধ উৎপাদন। এ কারণেই কোম্পানির সেস্লাগান নির্ধারণ করা হচ্ছে। ‘এক্সিলেন্স ইনহেরিটেড’। এ লক্ষ অর্জনের জন্য জেএমআই ফার্মা তৈরী করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রণীত সিজিএমপি গাইড লাইন অনুযায়ী ঔষধ তৈরীর কারখানা, সেখানে রয়েছে পেনিসিনিল (৩৬০০ বর্গফুট), স্পোলোস্পেরিন (৩৬০০ বর্গফুট) ও জেনারেল পোডাক্ট (১২০০০ বর্গফুট) এর জন্য আলাদা আলাদা উৎপাদন ভবন। উৎপাদন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য স্থাপন করা রয়েছে এইচভিএসি সিস্টেম এবং সেপারেট এয়ার হ্যান্ডলিং সিন্টেম।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...