শারমিনের আহাজারী শোনার কেউ নেই : মরে গিয়ে প্রমাণ করল গরীবের ভালবাসার মূল্য নেই এবং নেই কোন বিচার

বশির আহাম্মদ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া থেকে :
বলেছিলাম গরীবের ভালবাসা নেই…………. আমি গরীব বলে কোন মূল্য নেই এবং সমাজে কোন বিচার নাই …… সমাজের কাছে অনুরোধ ……… আর যেন আমার মত কেউ বিচার না পাইয়া মরে না যায়…… তার বিচার যেন আল্লাহ করে। এই কথাগুলো কোন কবি সাহিত্যিকের নয়, এগুলো সমাজের একটি বঞ্চিত মেয়ের আহাজারি। সে কথাগুলো মুখ খুলে কাউকে বলেনি। মৃত্যুর পূর্বে কাগজে লিখে গেছে সে কথাগুলো। আর হ্যাঁ সে ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ এপ্রিল ২০১০ইং দিবাগত রাত্রে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার শ্যামপুর কোনাপাড়া গ্রামের ইদ্রিছ মিয়ার বাড়ীতে। আর যে মেয়েটির চিঠিতে একথাগুলো পাওয়া যায় তার নাম শারমিন আক্তার। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সে ছোট বেলা থেকেই মামার বাড়ী শ্যামপুর গ্রামে বাস করছে। তার জন্মের পূর্বেই তার মা আয়শা বেগম তালাকপ্রাপ্ত হয়। পিতার মুখ কখনো দেখেনি শারমিন। তাই সে পিতার নাম লেখার সময় নামের পূর্বে মৃত লিখত। সে মামার বাড়ী থেকে লেখাপড়া করত। শারমিন পড়াশুনা করা অবস্থায় পাশের বাড়ীর আবদুল বারেক মিয়ার ছেলে দুলাল দোকানদারের সাথে এক পর্যায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দুলালের একটি মুদি দোকান আছে তার বাড়ীর সামনে রাস্তার পাশে। মৃত্যুর সময় লেখা চিঠির ভাষ্য মতে শারমিন প্রথমে দুলালের সাথে প্রেম করতে রাজি হয়নি। কারণ দুলাল ধনীর ছেলে আর শারমিন গরীবের মেয়ে। পরে দুলাল তাকে বারবার বিরক্ত করে এবং বিয়ের আশ্বাস দেয়। ফলে শারমিন সরল বিশ্বাসে দুলালের ভালবাসার স্বীকৃতি দেয়। উক্ত গ্রামের আবদু মিয়ার ছেলে নিজাম জানায় যে, ভালবাসা চলাকালীন সময়ে কিছুদিন পূর্বে শারমিনকে গভীর রাতে দোকানে এসে দুলালের সাথে দেখা করার জন্য খবর দেয়। এই খরব পেয়ে শারমিন সময়মত দুলালের সাথে দেখা করতে আসে। দুলালের দোকানের ভেতর দুইজনের কথা চালাকালীন স্থানীয় লোকজন ব্যাপারটি টের পেয়ে হাতেনাতে তাদেরকে আটক করে এবং দুলাল ও শারমিনের স্বজ্ঞানের স্বীকৃতি নিয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং দুলালের পরিবারের সবার উপস্থিতিতে ৩,০০,০০০/- টাকা দেন মোহরে দাবী রেখে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক পরের দিন বিবাহের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু দুলাল প্রথমে স্বীকৃতি দিয়ে বিবাহ করলেও বাড়ীতে নিয়ে শারমিনকে অত্যাচার শুরু করে। সে বলে আমি তোকে বিয়ে করেছি মুখ বাঁচাবার জন্য, আমি তোকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেব না। তোকে তালাক দেব। অপর দিকে দুলালের পরিবারের সবাই শারমিনের প্রতি চালাতে থাকে অমানুষিক নির্যাতন। ৩ দিন পর শারমিনকে দুলাল ফেলে যায় তার মামা ইদ্রিস মিয়ার বাড়ীতে। দুলালের ভগ্নিপতি চাঁনখোলা গ্রামের জাহের মিয়া ইদ্রিসের বাড়ীতে এসে শারমিনকে অস্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে। মামা ইদ্রিছ মিয়া উপায় অন্তর না পেয়ে অনেক চেষ্টা করে শ্যামপুর গ্রামের সুলতান সর্দার এর মধ্যস্থতায় শালিশের ব্যবস্থা করে। উক্ত শালিস চলাকালে দুলালের বক্তব্য নেয়ার সময় দুলাল ঘোষনা দেয় আমি শারমিনকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছি। এই কথা শুনে শারমিন তৎক্ষনাৎ অজ্ঞান হয়ে যায়। আরো অভিযোগ পাওয়া যায় দুলালের কাছে তালাকের ডকুমেন্ট চাইলে সে বলে যে, আমার কোন ডকুমেন্ট লাগবে না। আইন আমার কথায় চলে। টাকা দিলে সব মিলে। সময়মত টের পাবেন। তখন শালীসে উপস্থিত সর্দাররা বিচার করতে অপারগতা প্রকাশ করে। আরো অভিযোগ পাওয়া যায় দুলালের ভগ্নিপতি ও ভাইয়েরা উপস্থিত দরবারের সবার সামনে শারমিনকে গালাগালি করে। ফলে দরবার ভেঙ্গে যাওয়ার পরে ঐদিন রাতে শারমিন লজ্জায় ও ক্ষোভে একটি চিঠি লিখে রেখে ঘরের আড়ের সাথে পরিহিত ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। এব্যাপারে কসবা থানায় শারমিনের মামা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং-জিআর ৯৮/২০১০ইং তারিখ-১৪/০৪/২০১০ইং। শারমিনের মা আয়শা বেগম অভিযোগ করেন যে, পুলিশ টাকা খেয়ে আসামীদেরকে গ্রেফতার করছে না। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শারমিনের পরিবারকে মামলা তোলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধম্কি দিচ্ছে। এব্যাপারে কসবা থানার ওসি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সাথে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সে ব্যক্তিগত ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে কোন কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...