কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী সেবা ব্যাহত দালালদের কাছে ডাক্তার ও রোগীরা অসহায়

hospital
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা থেকে :
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগ বৃহত্তর কুমিল্লার সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ ও ব্যস্ততম সেবা দানকারী একটি বিভাগ। এখানে প্রতিদিন শত শত রোগী সেবা নিতে আসে সুস্থ্যতার জন্য। আর অপরদিকে জরুরী বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে রাত দিন। জরুরী সেবা প্রদানের জন্য প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা করে তথা বছরে ৩৬৫দিন খোলা থাকে। এখানে সবচেয়ে বেশী সেবা নিতে আসে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত রোগীরা এবং জরুরী প্রয়োজনে প্রসূতি মায়েরা যেমন, একলাম্পসিয়ায় আক্রান্ত রোগী সহ জরুরী ডেলীভারির মায়েরা। এছাড়া অন্যান্য রোগীরাও সেবা নিতে আসে প্রতিদিন। হাসপাতালের হিসাব মতে দৈনিক কমপক্ষে ৩০০ থেকে ৫০০ রোগী এই জরুরী বিভাগে সেবা নিতে আসেন। কিন্তু অসহায় মানুষের এই আশ্রয় স্থলটি এখন দালালদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দালালদের খপ্পরে পরে রোগীরা হচ্ছে সর্বহারা। দালালরা রোগী ভর্তির সময় অতি দ্রুত চিকিৎসা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রথমে কিছু ঔষধ বাকীতে প্রদান করে এবং কিছু দূর্নীতি পরায়ন কর্মচারী ও কর্মকর্তার সহায়তায় হাসপাতালে সীট পাইয়ে দেয়ার নামে হাতিয়ে নেয় অনেক টাকা। কিন্তু এই সীট রোগীরা বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। আর যে ঔষধ দালালরা সরবরাহ করে তার জন্য রোগীদের কাছ থেকে আদায় করে চড়া মূল্য। এরকম আবদুল মান্নান নামক বুড়িচং থেকে সেবা নিতে আসা এক রোগী অভিযোগ করেন যে, এখানে দালালরা তাকে এপেন্ডিক্স এর ব্যথার চিকিৎসার নামে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অথচ পরে জানতে পারে যে এখানে চিকিৎসা করতে হাসপাতালে কোন টাকা দিতে হয় না। এরকম আরো বহু উদাহরণ পাওয়া যাবে হাসপাতালে আসলে প্রতিদিন। স্থানীয় লোকজন ও রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, একটি ৪০/৫০ জনের দালাল চক্র সর্বক্ষণ হাসপাতালের প্রদান ফটক ও জরুরী বিভাগের সামনে ঘুরাঘুরি করে। যখনই রোগীরা আসে তখনই তারা রোগীদের প্রতি সাহায্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার ভান করে তাদেরকে কন্ট্রক্ট করে, পরে অসৎ ও দূর্নীতি পরায়ন কর্মচারীদের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যে সীট পাইয়ে দেয়ার মাধ্যমে প্রচুর টাকা আদায় করে। অপর দিকে ভর্তির পর সকল ঔষধ দালালরা বাকীতে সরবরাহ করে পরে চড়া মূল্য আদায় করে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কর্তব্যরত এক ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, দালাল চক্র খুবই শক্তিশালী এবং ক্ষমতাসীন দলের সাথে তাদের যোগসাজস আছে। তাদের কিছু বললে হাসপাতাল থেকে বের হলে ডাক্তার ও কর্মচারীদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। তাই তারাও ভয়ে কিছু বলতে সাহস করে না। এব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এর সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাঁর ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...