কুমিল্লার ফলের বাজার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে

Fruits shawkat
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা থেকে :
কুমিল্লার বিভিন্ন ফলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গ্রীষ্মের মৌসুমী ফলে বাজার ভরপুর। এবারের ফলমূল সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। গ্রীষ্মকালীন ফলমূলের দাম বিগত সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে ফলের উপর মানুষের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ফলের দাম অনেক বাড়িয়েছে। গতকাল কুমিল্লার বেশ কয়েকটি বাজারে দেখা গেছে, ফলমূলের প্রচুর দাম হওয়া সত্ত্বেও ক্রেতাগণ অনিচ্ছাকৃতভাবে কিনছে।
বাজারে এসেছে মৌসুমী ফল লিচু, তবে দাম অনেক বেশী। প্রতি একশ’ লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা থেকে ১৬০/১৭০টাকা। জানা গেছে, বোম্বাই, মাদ্রাজি জাতের লিচু বাজারে আসতে আরো কয়েক সপ্তাহ লাগবে। গতকাল চকবাজার বাজারের ফল বিক্রেতা বাবুল বলেন, বাজারে এখন আসতে শুরু করেছে লিচু। লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা থেকে ১৭০ টাকায়,পাইকারি মূল্য শ প্রতি ১৩৫ টাকা। ১৫ দিন পর লিচু প্রতি একশ’তে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমে যাবে। রাজগঞ্জ বাজারের ফল বিক্রেতা কামাল বলেন, অন্য জাতের লিচু বাজারে আসতে এখনো ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। এই ফল বিক্রেতা বলেন, এখন ঠাকুরগাঁও ও রংপুর থেকে লিচু আসছে। দিনাজপুরের লিচু এখনো বাজারে আসেনি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, লিচু চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হওয়াতে লিচু যেমন ঠিকমতো রসালো হয়নি তেমনি অতি রোদের জন্য জ্বলে গেছে। গতকাল বাজারে লিচু কিনতে আসা ক্রেতা বাবুল বলেন, দাম যেমন বেশী তেমনি লিচু মিষ্টিও নয়। বছরের প্রথম ফল তাই ছেলেমেয়েদের জন্য কিনছি। রাজশাহীর আম এখনো বাজারে না আসলেও ইতিমধ্যে বাজারে আছে দেশি আম। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় ‘হিমসাগর’ আম। সাতক্ষীরার আম কিছুটা টক হওয়ায় ভারতীয় ‘হিমসাগরের’ চাহিদা বেশী বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। রাজগঞ্জ বাজারের ফল ব্যবসায়ী কামাল ও সুলতান বলেন, ভারতীয় আম ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহীর ‘হিমসাগর’ আম আসতে আরো মাসখানেক লাগবে বলে এই ব্যবসায়ীরা জানান। কাচাঁ আম বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকায়। বাজারে মৌসুমী ফল কাঁঠাল আসলেও দাম বেশী। বর্তমানে বাজারে চট্টগ্রামের পাকা কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়। ময়মনসিংহের কাঁঠাল এখনো বাজারে পুরোপুরি আসেনি। নিউমার্কেট বাজারে ইন্ডিয়ান কাঁঠাল ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চকবাজারে ইন্ডিয়ান কাঁঠাল ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজগঞ্জ বাজারে বাঙ্গী বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা থেকে ৫০/৬০ টাকায়। তবে ব্যবসায়ীরা জানান,আগামী ১ মাসের মধ্যে বাঙ্গীর দাম আরো কমে যাবে। অন্যান্য মৌসুমী ফলের মধ্যে মাঝারি আকারের প্রতি পিস আনারস বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় আর ১ হালি আনারস বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।বাজারে এখন ইন্ডিয়ান আনারস পাওয়া যাচ্ছে। কান্দিরপাড় ও রাজগঞ্জ বাজারে খুব অল্প সংখ্যক জায়গায় কয়েকজন বিক্রেতাকে পেয়ারার ঝুড়ি নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। বাজারে দু’ধরনের তরমুজ দেখা যাচ্ছে। তরমুজের দাম বিভিন্ন বাজারে বিভিন্ন রকম। কান্দিরপাড়ের নিউমার্কেটে নাটোরের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে ছোটগুলোর পিস ১০০ থেকে ১২০ টাকা,আর বড়গুলোর পিস ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।এক সপ্তাহ আগে তরমুজের পিস প্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহের কারনে তরমুজের দাম আরো বেড়ে যাবে।কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে এখন বরিশাল,খুলনা,নাটোর ও ভোলা থেকে আগত তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন বাজারে এখন ঢাকা ও যশোরের বেল পাওয়া যাচ্ছে। প্রচন্ড গরমের কারনে শরবত খাওয়ার জন্য বাজারে এখন বেলের প্রচুর চাহিদা। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে বেলের দাম।১ সপ্তাহ আগে বেলের প্রতি পিস ১৫ টাকা,আর হালি ছিল ৬০ টাকা।বেলের প্রচুর চাহিদার সুযোগে দাম বেড়ে হয়েছে পিস ৩০ টাকা আর হালি ১০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বেলের দাম আরো বেড়ে যাবে। কুমিল্লার রাজগঞ্জ ও শাসনগাছার বাজার গুলোতে নরসিংদি ও যশোরের বিভিন্ন জাতের কলা পাওয়া যাচ্ছে। এই বাজার গুলোতে বাংলা কলার কুড়ি ৪০ টাকা,সাগরকলা ৬০ টাকা আর চাম্পা কলার কুড়ি ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া বাজার গুলোতে আপেলের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আপেল এখন কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর চায়না নাশপাতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।যা গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা বেশি। কমলা হালি প্রতি ৬০ টাকা আর মিশর ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত মালটা হালি প্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মালটার দামও গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্ডিয়ান আনার প্রতি কেজি এখন ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩ দিন আগে এর মূল্য ছিল ৫০০ টাকা।আঙ্গুরের বাজারও এখন উত্তপ্ত। ব্যবসায়ীরা আশংকা করছেন, আঙ্গুরের দাম আরো বাড়তে পারে। কুমিল্লায় গরমে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ডাবের ক্রেতার সংখ্যাও দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। ডাব ক্রয় করতে গিয়ে দেখা যায় ছোট ধরনের একটি ডাব ২০ টাকা, একটু বড় ডাব ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করছে বিক্রেতারা। কুমিল্লার লাকসাম রোড,চকবাজার ও রাজগঞ্জ এলাকায় ডাব কিনতে পাওয়া যায়। শহরের বাহার মার্কেট,টাউনহল,মধুমিতা হল ও রাজগঞ্জ ট্রাফিক মোড়ের সামনে আখের রস প্রতি গ্লাস ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যেটা আগে ৫ টাকায় বিক্রি হতো।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...