মুরাদনগর থানার ওসির যোগসাজসে আ’লীগ নেতার অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ

মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা :
কুমিলার মুরাদনগর থানার ওসি আমিরুল আলমের যোগসাজসে কুমিলা জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল হাকিম মাষ্টার বিনা অপরাধে উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার হাজী ফিরোজ মিয়ার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ করলে বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় চলছে।
জানা যায়, দৌলতপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার হাজী ফিরোজ মিয়া গত ১৭ এপ্রিল শনিবার একই গ্রামের নজরুল তোরনের নিকট চা-দোকান দিয়ে জিবিকা নির্বাহ করার জন্য একটি ঘর তৈরীর কাজ শুরু করেন। মুরাদনগর থানার ওসি আমিরুল আলম ঐদিন দুপুর অনুমান ১২ টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কোন প্রকার জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই ঘর তোলার ৩ জন লেবার (একই গ্রামের শহীদ মাওলানার ছেলে শাহাবুদ্দীন (২০), মুরাদনগর গ্রামের সূরুজ ভূইয়ার ছেলে ফারুক (৪২), দিঘীর পাড় গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আক্কাসকে (২২) ধরে থানায় নিয়ে আসেন। ওই মেম্বার বিষয়টি জানার জন্য বিকেলে থানায় গেলে ওসি আমিরুল আলম তাঁকে নজরুল তোরনের সৌন্দর্য্য নষ্টের আখ্যা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। এতে সে প্রতিবাদ করলে লেবারদের বের করে তাঁকে থানা হাজতে ঢ়ুকিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করেন। পরে ওই এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হাকিম মাষ্টার সন্ধ্যায় থানা হাজতে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করলে তিনি করুন অবস্থার বর্ণনা দেন। তখন তাকে ছাড়াতে ৫০ হাজার টাকা লাগবে বলে দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে ওই মেম্বার এত টাকা দেয়ার সামর্থ নেই জানালে ২৫ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাবে রাজি হন। পরে তিনি থানার সেন্টিকে বলেন যে, ওসি সাহেব বলেছে তাকে (হাজী ফিরোজ মিয়াকে) বের করে চেম্বারে নেয়ার জন্য। চেম্বার থেকে হাজী ফিরোজ মিয়া তার ছেলে সাহাব উদ্দিনকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য খবর দেয়া হয়। রাত অনুমান ৯টায় ওসি আমিরুল আলমের উপস্থিতিতে আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল হাকিম মাস্টারের হাতে ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন। এ সময় একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে সাবেক মেম্বার হাজী ফিরোজ মিয়াকে ছেড়ে দেন। তখন এ ঘটনা কারো নিকট প্রকাশ করলে তাঁর চরম ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। সোমবার তিনি ন্যায় বিচার পাওয়ার আবেদন জানিয়ে কুমিলার পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ করেন। এ ছাড়াও বিষয়টির সদয় অবগতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, ডিআইজিপি, এআইজি (সিকিউরিটি সেল), উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি/সম্পাদক নিকট অনুলিপি প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে কুমিলার পুলিশ সুপার সফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টির ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর বলা যাবে ঘটনাটি সঠিক কতটুকু। সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-বি) মোহাম্মদ আয়ুব বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগ কারীকে স্বাক্ষী প্রমান নিয়ে তাঁর অফিসে আসার পরামর্শ দেন বলে জানান। এ ঘটনার সাথে জড়িত কুমিলা জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আবদুল হাকিম মাস্টার জানান, টাকা পয়সা নেয়ার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না, তবে তিনি ওসিকে অনুরোধ করেছেন তাকে (হাজী ফিরোজ মিয়াকে) ছেড়ে দেয়ার জন্য। মুরদানগর থানার ওসি আমিরুল আলম জানান, হাজী ফিরোজ মিয়ার কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেয়াতো দুরের কথা তাঁর সাথে আমার দেখাই হয়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...