ভোলা-৩ আসনের দুই প্রার্থীকে সতর্ক করে চিঠি দেবে নির্বাচন কমিশন

Bangladesh_election-jpg-150
স্টাফ রিপোর্টার :
লালমোহন উপজেলায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও বিরোধীদল বিএনপির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহমেদকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার ভোলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ চিঠি পাঠানো হবে। তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা সম্বনয়কের মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছে সে চিঠি পৌঁছে দেবেন। নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর জন্যে দুই প্রার্থীকে সতর্ক করতে চিঠি দেওয়া হবে। কোনো ধরনের আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটানোর জন্যই অনুরোধ থাকবে আমাদের।”
তিনি জানান, প্রথমবার সতর্ক করে দেওয়ার পরও ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে চিঠিতে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জেল-জরিমানাসহ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে ইসির। আগামী ২৪ এপ্রিল ভোলা-৩ আসনে উপনির্বাচন হবে।
আগামীকাল সোমবার দুই প্রার্থীকে সতর্ক করে ভোলা-৩ নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইন শাখা চিঠি পাঠাবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা দলের সমন্বয়কের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীদের আচরণ বিধি মেনে চলার অনুরোধ জানাবে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন তোফায়েল আহমেদ এবং বিএনপি প্রার্থীর সমন্বয়ক নাজিমউদ্দীন আলম।
শেষ মুহূর্তে ভোলা-৩ নির্বাচনী এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হতে পারে-এমন ইঙ্গিত দিলেন নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে কোনো ধরনের চান্স দিতে চাই না। কেউই নির্বাচন কমিশনের যেনো দোষ দিতে না পারে- সব কিছু পর্যবেক্ষণের পর সে ব্যবস্থাই নেওয়া হতে পারে।”
সেনা মোতায়েন করা হবে কিনা জানতে চাইলে সাখাওয়াত বলেন, “দেখা যাক না! এখনো পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলাবাহিনী রয়েছে। নির্বাচনী এলাকা শান্ত। আরো কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করবো আমরা। এরপর প্রয়োজনে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবো।” বিএনপি শুরু থেকেই ভোলায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছিল। এমনকি তা নাহলে নির্বাচন বর্জনেরও হুমকি দিয়ে আসছে দলটি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট না হলে নির্বাচনের ফল বাতিল করা হবে। এমনকি নির্বাচনের আগে সহিংস ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন বাতিল করা হবে বলে জানান তিনি।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ আসনে বিজয় হন আওয়ামী লীগের মো. জসিম উদ্দিন। তিনি সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর পেয়েছিলেন। বাধ্যতামূলক অবসরের পর নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচন করায় তার প্রার্থিতা নিয়ে আদালতে অভিযোগ করেন পরাজিত প্রার্থী বিএনপির হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। আদালত জসিমের প্রার্থিতা বাতিল করলে নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...