দেবিদ্বারে কবরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে লাশঃ এলাকায় তোলপাড়ঃ মাদকাসক্ত ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ

ফখরুল ইসলাম সাগর,দেবিদ্বার থেকে :
দাফনের কয়েক ঘন্টা পরই অনেকটা সন্ত্রাসী কায়দায় কবরের একাংশ গর্ত করে ভেতরে কেরসিন ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে নুরুল ইসলাম (৬০) নামের এক ব্যক্তির লাশ। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামে। ওই বর্বরোচিত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ ওই মৃত ব্যক্তির বড় ছেলে শফিক শাহ (৩০) কে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান জেলার মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি গ্রামের বিআরডির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী নুরুল ইসলাম (৬০) দীর্ঘ দিন যাবৎ দেবিদ্বার উপজেলা সদরের মোহনা আবাসিক এলাকায় ভাড়াটে বাসায় পরিবার নিয়ে বাস করতেন। নানা কারনে ওই পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছিল। ৩ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে শফিক শাহ একজন মাদকাসক্ত। গত শুক্রবার নুরুল ইসলাম উপজেলা সদরের পুরানবাজার এলাকায় মেয়ের জামাতা ফখরুল ইসলামের বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর দুপুরে মৃত্যু বরণ করেন । পরে তার দাফনের জন্য দেবিদ্বার এসএ সরকারী কলেজের পাশের কবরস্থানে কবর খনন করা হলেও কবরের স্থান নিয়ে মতবিরোধ থাকায় সেখানে তাকে দাফন করা যায়নি। পরে তার মেয়ের জামাতা ফখরুল ইসলাম উদ্যোগ নিয়ে তার (জামাতার) গ্রামের বাড়ি বারুর গ্রামের আকিলমান্দের বাড়ির কবরস্থানে কবর খনন করে রাত ১১ টায় শ্বশুরের লাশ দাফন করেন। কিন্তু লাশ দাফনের কয়েক ঘন্টা পরই শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে দুস্কৃতকারীরা ওই কবরের একাংশের মাটি খুঁড়ে বাঁশ ও চাটাই সরিয়ে কবরে কেরসিন ঢেলে লাশে আগুন ধরিয়ে দেয়। শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন কবর থেকে ধোঁয়া ওঠা দেখে কবরস্থানে দিয়ে দেখে আগুনে লাশ জ্বলছে। মুহুর্তের মধ্যে এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তা,পুলিশ, সাংবাদিকসহ শত শত জনতা ভীড় জমায়। প্রত্যদর্শীরা জানান আগুনের কারনে লাশের কাফনের কাপড় পুড়ে গিয়ে লাশের শরীরের বিভিন্ন অংশও পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে ভোর থেকে বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্থানীয় গ্রামবাসী ছাড়াও আশের পাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা কবরস্থানে ভীড় জমায়। ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুনুর রশিদ ভূইয়া এবং থানার এসআই শাহ কামাল হোসেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান কবরে আগুন দিয়ে লাশ জ্বালিয়ে দেয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ও ঘৃন্যতম ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে ,ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশের এসআই শাহ কামাল হোসেন জানান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ব্যক্তির ছেলে শফিক শাহকে আটক করা হয়েছে, তবে ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান আটককৃত শফিক শাহ একজন মাদকাসক্ত, বাবার সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল না, বাবার সাথে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো, তাই স্থানীয়দের সন্দেহের তীর এখন ওই গুনধর ছেলের দিকেই। স্থানীয় অপর একটি সূত্র জানায় লাশ দাফনের পরও ওই ছেলে কবরস্থানের আশে পাশে ছিল। এদিকে ওই মৃত ব্যক্তির জামাতা ফখরুল ইসলাম জানান আমার গ্রামে আমার শ্বশুরের লাশ জ্বালিয়ে দেয়ার মতো কোন শক্র ছিল না,তাই এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...