চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মী নিহত : বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট ডেকেছে ছাত্রলীগ

ctg news
স্টাফ রিপোর্টার :
বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পাস সংলগ্ন গ্রামের যুবকদের হামলায় আহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী মো. আসাদুজ্জামানের মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট ডেকেছে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনটি। আসাদকে শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ছাত্রলীগকর্মীরা চমেকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে। সেখানেই ধর্মঘটের ঘোষণা দেন ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন।
পুলিশ জানায়, বাংলা বর্ষবরণের দিন স্থানীয়দের সঙ্গে ছাত্রদের কথাকাটাকাটির জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র, এলাকাবাসী ও পুলিশ ত্রিমুখী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তখন ছাত্রলীগকর্মীরা একজোট হয়ে পাল্টা হামলা চালায়। রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলতে থাকে এ সংঘর্ষ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. আসাদ, ওই ঘটনায় আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও চার ছাত্র। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।
একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আসাদের বাড়ী রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বিটি গ্রামে। তার বাবার নাম তাজুল ইসলাম খান।
আসাদের সঙ্গী রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মীর হোসেন মিরাজ বলেন, “স্টেশন চত্বরে আড্ডা দেয়ার সময় বহিরাগত কিছু লোক অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা পালিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে পারলেও আসাদুজ্জামান আসতে পারেনি।” আসাদসহ তার বন্ধুরা সবাই ছাত্রলীগকর্মী। তারা ক্যাম্পাসে ফিরে ঘটনাটি জানালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা একজোট হয়ে স্টেশন চত্বর এলাকায় গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় আসাদকে উদ্ধার করে। এরপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের মূল ফটক থেকে কয়েকশ গজ দূরে ১ নম্বর রেল গেট এলাকায় গিয়ে বেশ কিছু দোকানপাট ভাংচুর করে বলে হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রশীদ সাংবাদিকদের জানান। এসময় তখন এলাকাবাসীও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষ বেঁধে যায়, যা রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত চলে।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় গুলির শব্দ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। এরপর ছাত্ররা ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। তবে সেখান থেকে ছাত্রলীগের এক নেতাসহ পাঁচ ছাত্রকে কিরিচ ও রামদাসহ গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তা রশিদ জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপসম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, সংগঠনের কর্মী আক্তারুল হক, রাসেল বড়য়া, শান্তনমহাজন ও মামুন। তাদের শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গ্রামবাসী শুক্রবার সকাল থেকে হাটহাজারী সড়ক থেকে ক্যাম্পামসমুখী সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করেছে তারা। ফলে ক্যাম্পাসবাসী ওই সড়ক দিয়ে বের হতে পারছে না।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...