কুমিল্লা পৌরসভার আড়াই কোটি টাকার কাজ ভাগবাটোয়ারা

স্টাফ রিপোর্টার :
কুমিল্লা পৌরসভা উন্নয়নের প্রায় আড়াই কোটি টাকার টেন্ডারের কাজ ভাগ-ভাটোয়ারার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায়, প্রকৃত ও সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কুমিল্লা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার উন্নয়নের ৪১টি গ্রুপে রাস্তাঘাট, ড্রেন, কালভার্ট উন্নয়ন, মেরামত, বৈদ্যুতিক বাল্ব ক্রয় ইত্যাদি বাবদ ২ কোটি ২৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৮ টাকার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল্লাহ জানান, ঢাকার দৈনিক খবর, বাংলাদেশ টুডে ও স্থানীয় দৈনিক শিরোনামে এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে ২৮ মার্চ থেকে সিডিউল বিক্রি শুরু হয়।
তিনি আরও জানান, ৪১টি কাজের মধ্যে ৩৮টি গ্রুপে পৌরসভার ড্রেন, রাস্তাঘাট মেরামত, রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ, দোকানঘর মেরামত বাবদ ১ কোটি ৯৩ লাখ ৪১ হাজার ১৮৫ টাকা ও বাকি ৩ গ্রুপের মধ্যে দুটি হলো গভীর নলকূপ বাবদ ২৭ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫৮ টাকা ও বৈদ্যুতিক এনার্জি বাল্ব ক্রয় বাবদ ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৩২৫ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত পৌরসভা ব্যতীত গণপূর্ত অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সওজ, এলজিইডি, পুলিশ সুপারসহ ৮টি অফিসে সিডিউল বিক্রি শুরু হয়েছে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল্লাহ জানান। পরের দিন ১৩ এপ্রিল টেন্ডার বাক্স খুলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ার কথা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট উল্লিখিত অঙ্কের কাজের টেন্ডার বাগিয়ে নিতে কয়েকদিন ধরে তত্পর রয়েছে। এলজিইডি অফিসে এ কাজের সিডিউল বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে বলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নুরুল্লাহ জানালেও পৌরসভার ওই কাজের কোনো সিডিউল বিক্রির জন্য পায়নি বলে এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়। এ বিষয়ে ফের পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নুরুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২৮ মার্চ থেকে সিডিউল বিক্রি শুরু হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল এলজিইডি অফিসে প্রথমে ৭৬টি ও পরে আরও ৬টিসহ মোট ৮২টি সিডিউল বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে এবং শুক্লা নামের এক কর্মচারী তা রিসিভ করে রাখেন। এদিকে গণপূর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়েজুল আলম ফারুকীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ঢাকায় আছি। পৌরসভার সিডিউল বিক্রির বিষয়ে অফিসে যোগাযোগ করুন। তারপর দুপুর ১টায় গণপূর্ত অফিসে গিয়ে সিডিউল বিক্রয়কারী ক্যাশিয়ারকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
১৩ এপ্রিল টেন্ডার বাক্স খুলে সর্বনিম্ন দরপত্রদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ার কথা থাকলেও শহরের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এরই মধ্যে এ কাজের টেন্ডার ভাগ-ভাটোয়ারার কাজ সম্পন্ন করেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নুরুল্লাহর সঙ্গে ফোনে আলাপকালে তিনিও এ ধরনের কথা শুনেছেন বলে জানান। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে কুমিল্লা পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে হোন্ডা ও সিএনজি আরোহী চিহ্নিত টেন্ডারবাজদের আনাগোনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...