চান্দিনায় বৈদ্যুতিক লোডশেডিংয়ে হুমকির মুখে বোরো’র ফলন

মাসুমুর রহমান মাসুদ,স্টাফ রিপোর্টার :
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে হুমকির মুখে পড়েছে বোরো’র ফলন। প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘন্টা লোডশেডিং হয়। ফলে জমিতে পর্যাপ্ত পানি সেচ দিতে পারছেনা কৃষকরা। ডিজেল চালিত সেচ পাম্প এলাকাগুলোর ফলন কিছুটা ভাল হলেও বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প এলাকার চিত্র ভিন্ন। এ বছর উপজেলায় ১০ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নিয়ে ১০ হাজার ৩৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়। মৌসুমের শুরুতে ঘনকুয়াশায় কোল্ড ইনজুরিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় চড়া মূল্যে বোরো ধান চাষ করা হলেও শেষ মুহূর্তে লোডশেডিং আর অনাবৃষ্টির কারণে দুশ্চিন্তা ও ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে কৃষকরা। এদিকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, চাহিদার তুলনা বিদ্যুৎ প্রাপ্তি এক তৃতীয়াংশ বলেই ওই লোডশেডিং হচ্ছে। অপরদিকে সেচ পাম্প মালিকদের সাথে প্রায়ই পানিসেচ দেয়া নিয়ে কৃষকদের বাকবিতন্ডা হচ্ছে।
উপজেলার কচুয়ারগ্রামের চাষী ময়নাল হোসেন জানান, লোডশেডিং এর কারণে জমিতে ঠিকমত পানিসেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, জমি ফেঁটে গেছে। ফলন খারাপ হওয়ার সম্ভবনাই বেশি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের ভূইয়া জানান, এখন বোরো’র ফলনের সময়। এ সময় পর্যাপ্ত পানিসেচ দিতে না পারলে ফলন বিপর্যয় হতে পারে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের পানি সেচের সমস্যা দেখেছি। তবে, ডিজেল চালিত পানির পাম্পগু এলাকায় ফলন ভাল হয়েছে।
লোডশেডিংয়ের বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার আবদুর রশিদ কৃষকদের পানিসেচ সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, প্রতিদিন ৭৮ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমরা ২৭ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। তবে, সেচ পাম্প মালিকরা অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন তৈরী করায় পানিসেচ দিতে বেশি সমস্যা হচ্ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...