যত্রতত্র ঘর-বাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণ: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি, কুমিলার লাকসামে আশংকাজনক হারে আবাদী জমি হ্রাস পাচ্ছে

-mat-laksam
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিলা থেকে:
কুমিলার লাকসাম উপজেলা যত্রতত্রে নতুন নতুন বাড়ি-ঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে এখানকার আবাদী জমি আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। গত ক’বছর থেকে ফসলী জমিতে বাড়ি-ঘর ও অন্যান্য স্থাপনা নিমাণের যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ৫/১০ বছর আগের লাকসাম আর বর্তমানের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নবাব ফয়জুন্নেছার স্মৃতি বিজড়িত ডাকাতিয়া নদী বিধৌত লাকসামে আগে ফসল কাটার ধুম পড়ে যেতো। কিন্তু হায়! কালের আবর্তে আজ সবই স্বপ্নে রূপ নিয়েছে। এখন আর চোখে পড়েনা ফসলের সেই বিশাল মাঠ। জমি চাষে এখন হালের বলদের বদলে চলছে কলের নাঙ্গল। কৃষকের সেই সাঁজ সকালে নাঙ্গল-জোয়াল কাঁধে নিয়ে মাঠে যেতে হয়না। কৃষানীকেও ভোরে উঠে পান্তা ভাত দিতে হয়না কৃষককে। গোবর সারের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃত্রিম সার। যেখানে বছরে উৎপাদিত হতো ৩/৪টি ফসল সে স্থানে গড়ে উঠেছে বিশাল অট্টালিকা। কমে যাচ্ছে আবাদী জমি।
লাকসাম উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ১৫৬.৫২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের লাকসামে বর্তমানে আবাদী জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১০ হেক্টরে। তম্মধ্যে ১ ফসলী জমির পরিমাণ ৮৫৯ হেক্টর, ২ ফসলী জমির পরিমাণ ৩,৯০৯ হেক্টর, ৩ ফসলী জমির পরিমাণ ৬,০৮২ হেক্টর ও ৪ ফসলী জমির পরিমাণ মাত্র ১৬০ হেক্টর। তম্মধ্যে উঁচু জমি ৭২৫ হেক্টর, মাঝারি উঁচু জমি ৯,১৬৫ হেক্টর, নিচু জমি ১,১২০ হেক্টর। এবার বোরো আবাদ হয়েছে ৯,৮৯৭ হেক্টর জমিতে। রোপা আমন লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭,০৫০ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৬,৭১০ হেক্টর। চলতি অর্থ বছরে গমের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ১৫ হেক্টর, আলু লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৩৫ হেক্টর, মিষ্টি আলু লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪০ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৪৫ হেক্টর, ভূট্টা লক্ষ্যমাত্রা ৫ হেক্টর থাকলেও আবাদ হয়নি, সরিষা লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩০ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৩২ হেক্টর, মসুর লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৫ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ১ হেক্টর, মাসকলাই লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২০ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ১৫ হেক্টর, মুগ ডাল লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ হেক্টর কিন্তু আবাদ হয়নি, লক্ষ্যমাত্রা না থাকলেও ছোলা আবাদ হয়েছে .৫০ হেক্টর জমিতে, পিঁয়াজ লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১০ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ২ হেক্টর, মরিচ লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩০ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ২০ হেক্টর, আখ লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৮ হেক্টর জমিতে।
১ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে আউশ আবাদ হয়েছে ৪,১৯২ হেক্টরে, বোরো ৯,৮৫০ হেক্টরে, আমন ৭০৫ হেক্টরে, বোনা আমন ১,৬৫০ হেক্টরে। গম উৎপাদিত হয়েছে ২০ হেক্টরে, আলু ৪০ হেক্টর, মিষ্টি আলু ৩৫ হেক্টর, ভূট্টা ১ হেক্টরে, সরিষা ৩০ হেক্টরে, শীতকালীন মরিচ ৩০ হেক্টরে, গ্রাষ্মকালীম মরিচ ৫ হেক্টরে, মাসকলাই ২৩ হেক্টরে, ধনিয়া ২৫ হেক্টরে, আখ ১৩ হেক্টরে, শীতকালীন শাক-সবজি ২৬০ হেক্টরে, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি ২শ’ হেক্টরে, তিল ৩ হেক্টর, পাট ১ হেক্টর জমিতে।
লাকসাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ছারওয়ার জাহান আবাদী জমির হ্রাসের বর্তমান হারকে সহনীয় বললেও তার অফিস চলতি ২০০৯-২০১০ ও গত ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরের আবাদী জমির উপরোক্ত হিসাব ছাড়া বিগত দিনের কোনো হিসাব দিতে পারেনি। উলেখিত তথ্যানুযায়ী আবাদী জমি যে হারে কমছে তাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়বে বলে অভিজ্ঞমহলের ধারনা।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...