নাঙ্গলকোটে হামলায় মাহফিল ভন্ডুল: এলাকার সর্বত্র নিন্দার ঝড়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিলা থেকে :
কুমিলার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকারা নুরে মদিনা ফোরকানিয়া দরবার শরীফ মাদ্রাসায় আয়োজিত বার্ষিক পবিত্র ঈসালে সোয়াব মাহফিল ও হযরত বড় পীর সৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) স্মরণে অনুষ্ঠেয় আজিমুশ্বান যিকির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল চলাকালীন সময়ে স্থানীয় মৌকারা দারুচ্ছুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসার কতিপয় ছাত্রদের বাধা ও উশৃঙ্খল আচরনে ভন্ডুল হয়ে যায় নুরে মদিনার মাহফিল। পরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জান-মাল বিনষ্টের আশংকায় মাহফিলের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মুফতি হযরত মাওলানা ছোলাইমান হোসাইনী মাহফিল সমাপ্তি ঘোষনা করেন। এতে তার আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। গত ২৮ মার্চ এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মাওলানা ছোলাইমান সাহেব বিগত ২০০৫ সাল থেকে তার বাড়ির সামনে নিজ জায়গাতে তার ব্যক্তি গত অর্থ এবং সর্ব সাধারনের সার্বিক সহযোগিতায় নুরে মদিনা ফোরকানিয়া দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠিত করে দ্বীন ইসলামের তথা এলাকার ছোট ছেলে মেয়েদের পবিত্র আরশ আজিমের কোরানে কারিম, দোয়া দুরদ মাসলা মাসায়েল, নামায শিক্ষার ও ইসলামিক তাহাজীব তামাদ্দুনিক শিক্ষা দান অব্যাহত রেখেছেন। তার এই প্রতিষ্ঠান থেকে এই পর্যন্ত বহু ছাত্র ছাত্রী ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষার্জন করেছে। তার এই প্রতিষ্ঠানের প্রশংসনীয় কার্যক্রমে এলাকাবাসী সন্তুষ্ট। এছাড়া মুফতি ছোলাইমান সাহেব প্রতি ইংরেজী মাসের ১ম তারিখ নিয়ম মত তার মরহুম মাতা পিতা মুরুব্বিয়ান বিশেষ করে মৌকারার মরহুম পীর সাহেব হযরত মাওঃ ওলি উল্লাহ (রঃ) এর জন্য দোয়া মুনাজাত করে থাকে। এই ভাবে বিগত কয়েকা বছর অতিবাহিত হয়। আর তার ধারা বাহিকতায় গত ২৮ মার্চ হযরত বড় পীর সাহেব আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) পবিত্র ও ফাতেহা ইয়াজদাহোম দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এক আজিমুশ্বান ওয়াজ মাহফিল । এ জন্য ২/৩ সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি চলে এবং যথারীতি আমন্ত্রীত ওলায় কেরামের শুভাগমন উপলক্ষে ঐদিন বেলা ৩টায় থেকে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ঘন্টা খানিক চলার পর পাশ্ববর্তী মৌকারা ফাজিল মাদ্রাসার একদল ছাত্র মিছিল সহকারে মাহফিলস্থলে এসে নানা বিশৃঙ্খলাসহ অশোভন আচরন করে মাহফিল বন্দের জোর তাকিদ দেয়। এ সময় উশৃঙ্খল ছাত্ররা মৌকারার মরহুম পীর সাহেবের ছেলে এবং উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ নিজাম উদ্দিনকেও নাজেহাল করে। তাদের এ বিশৃঙ্খল ও পেশী শক্তি আচরনে নুরে মদিনার প্রতিষ্ঠাতা মুফতি ছোলাইমান এবং মাইক অপারেটর ঝাটিয়া পাড়া বাজারের মনির হোসেন বিব্রত হন। তারা এ ব্যাপারে তাদেরকে প্রশ্ন করা হলে তারা জোরালো কন্ঠে জানিয়ে দেয় এখানে কোন মাহফিল চলবেনা। এ সময় মৌকারা মাদ্রাসার ছাত্র কামরুল হাসান পিতা মৌলভী আলী আক্কাছ , মহি উদ্দিন পিতা আবদুল মান্নান, শাহাদাত হোসেন (আলিম ১ম বর্ষ) গং চেঁচামেচি করে মাইক ও পেন্ডেল ভাংচুরের ধমক দেয় এমনকি মুফতি ছোলাইমানকেক প্রাণ নাশের হুমকি দেয় এবং মৌকারা মাদ্রাসা ও দরবারের পাশে কেন এই প্রতিষ্ঠান? মাওলানা ছোলাইমানের অভিযোগে আরো জানা গেছে, এই ছাত্ররা এ প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে। তিনি ছাত্রদের তান্ডব লীলা ও শক্তি প্রদর্শনের জন্য মোকারা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। এদিকে মাওলানা ছোলাইমানের মাহফিল বন্ধ করার জন্য ব্যবহৃত ছাত্র ও ইন্দনদাতা কুচক্রী মহলের প্রতি এলাকাবাসী তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সকলে মৌকারা দরবার ও মাদ্রসার ছাত্র শিক্ষকের এহেন হিংসামুলক আচরনের তীব্র সমালোচনা করে যাচ্ছে। মাওলানা ছোলাইমান দুঃখ ক্ষোভের সাথে জানান- তার অনুষ্ঠিত মাহফিলে ওয়াজ করার জন্য আলহাজ্ব হযরত মাওঃ বাহা উদ্দিন মৌকারা, মাও ঃ নিজামুদ্দিন আজাদী তিলিপ, মাও ঃ আবুল কাসেম নুরী বি-বাড়ীয়াসহ বহু ওলামায়ে কেরামদের আমন্ত্রন জানানো হয়। মাহফিলে এ পর্যন্ত ৩০/৩২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। তবে তার এ মাহফিল ভন্ডুল হওয়ার কারণে তিনি খুব মর্মাহত ও হতাশ হয়ে পড়েন। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক কয়েক জন ছাত্র কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাহফিলে বাধা দিতে এসেছে বলে জানা গেছে। এদিকে মাওলানা ছোলাইমানের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তিনি এ দুষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয় নিবেন। হযরত বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) পবিত্র ফাতেমা ইয়াজদাহোম মাহফিল ভন্ডুলকারীদের বিরুদ্ধে সমগ্র নাঙ্গলকোট উপজেলার নিন্দাবাদ এর ঝড় উঠেছে। তারা এটাকে মৌকারা দরবার শরীফের কতৃপক্ষের প্রতিহিংসা মূলক আচরন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা এ ধরনের হীন কান্ড থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...