বুড়িচং থানার ওসি আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্ণীতির অভিযোগ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছ থেকে মাসে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ঘুঁষ আদায়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী :
চোরাচালান রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বুড়িচংয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )নিজেই অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অপরাধীদের সাথে আতাঁতের মাধ্যমে পাবলিক ক্যাশিয়ার নিযুক্ত করে এবং চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের সাথে পার্টনার হয়ে অবৈধ টাকা উপার্জন করছেন বলে বুড়িচং ভুক্তভোগী লোকজন অভিযোগ করেছেন।
তিন পাবলিক ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে চাঁদা আদায় :
পাবলিক ক্যাশিয়ার শংকুচাইল গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম,পশ্চিম শিং গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল ওহাব ও ময়নামতির আজাদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের নিকট থেকে টোকেন সিষ্টেমে প্রতি মাসে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বুড়িচংয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি ) বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়,শংকুচাইল, উত্তর গ্রাম, পাচোড়া, চড়ানল, ফকিরবাজার, রাজাপুর রেলষ্টেশন, বারেশ্বর সহ ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকাসহ প্রায় ১০টি চোরাকারবারী ক্রাইম স্পট, আঃন্তজেলা মাদক চোরাকারবারী সিন্ডিকেট হতে চুক্তিভিত্তিক প্রতিমাসে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায় করে বুড়িচংয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি )পাবলিক ক্যাশিয়ার রবিউল ইসলাম।কংশনগর, গোমতী নদীর সংলগ্ন বাহেরচর, পশ্চিম শিং, ভারেল্লা বাজার আন্তঃজেলা মাদক চোরাকারবারী সিন্ডিকেট থেকে চুক্তিমাফিক প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করে পাবলিক ক্যাশিয়ার পশ্চিম শিংয়ের আবদুল খালেক ।ময়নামতি, সাবের বাজার, ক্যান্টনম্যান্ট, রামপুর, জগতপুর, নাজিরাবাজার, নিমসার চোরাকারবারী মাদক ও বিভিন্ন ক্রাইম স্পট সিন্ডিকেট হতে প্রতিমাসে ৮৫ হাজার টাকা চুক্তিভিত্তিক আদায় করে পাবলিক ক্যাশিয়ার ময়নামতির আজাদ।এইভাবে বুড়িচংয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান খান তিন পাবলিক ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে প্রতিমাসে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকে।
আন্তঃজেলা মাদক ও চোরাকারবারী অপরাধী চক্রের সাথে ওসির ঘনিষ্ঠতা :
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,রাতের আঁধারে আন্তঃজেলা মাদক ও চোরাকারবারী অপরাধী চক্র বারশ্বের গ্রামের মানিক ও ফরিদ, চড়ানল গ্রামের হুমায়ুন মেম্বার ও নুরুল ইসলাম, শংকুচাইল গ্রামের রবিউল, শাহ আলম, শরীফ মিজান, গোবিন্দপুরের জামাল, নাজির বাজারের গণি, আব্বাস, জুবায়ের ও আবুল হাসেম শান্ত, জগতপুরের আবদুল লতিফ, আবুল কাসেম, অহিদ ও শাহ আলম, আরাগ-আনন্দপুরের হুমায়ুন, কংশনগরের বাবুল, জলিল ও নুরু, পশ্চিম শিং এর নজির, হারুন, শিপন ও বাবুল, পাচোরার তোহিদ, মীরপুরের মন্তাজ, ময়নামতি আজাদ, আকাবপুরের মামুন,নয়াকান্তার মনিরুল ইসলাস ভূইয়া, কোরপাই এলাকার শাহিন, হারুন, কোরপাই পুরাতন পোষ্টঅফিস সংলগ্ন এলাকার মুহুরীর ছেলে জাকির, শাকিব, কোরপাই নয়াকান্তা কাজী বাড়ীর জাহাঙ্গীর, কবির আজাদ সহ আরো অনেকে ওসির বাসায় আনাগোনা করে থাকে এবং লেনদেন কাজটি রাতের অন্ধকারেই করে থাকে। থানা এলাকার আকাবপুর গ্রামের প্রধান চোরাকাবারী সিন্ডিকেট মামুন আজাদের ব্যবসায় ওসি নিজে পার্টনার হয়ে গোপনে ব্যবসা করে অবৈধ টাকা আয় করছেন । তার সাথে কেউ কথা বললে তিনি নিজেকে সত্য ও দক্ষ অফিসার বুঝাতে চেষ্টা করেন। অথচ তিনি রাতের আধারে অপরাধী চক্রের জোগসাজসে এসব অপকর্ম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
মামলা রুজু, চার্জশীট ও ফাইনাল রির্পোট প্রদান নিয়ন্ত্রন করে দালাল সিন্ডিকেট :
তাছাড়া ওসি আনিস মামলা রুজু, চার্জশীট ও ফাইনাল রির্পোট প্রদানের জন্য তার নিয়োগকৃত ৪ সদস্যের একটি দালাল সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে পুলিশের চাকুরীবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে অবৈধ রোজগার করছেন। উক্ত সিন্ডিকেট এর মধ্যে রয়েছে সেকেন্ড অফিসার, ভূয়া নামধারী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক দলীয় ক্যাডার খোরশেদ আলম এবং নজরুল মুহুরী। মুহুরী নজরুলের হাতের লেখা ছাড়া মামলা এজাহার গ্রহণ করা এবং সিন্ডিকেটের সদস্যের কথা মতো মামলা রুজু, চার্জসীট ফাইনাল রির্পোট প্রদান করে। অসহায় জনগণ অভিযোগ জানাতে গেলে ওসি কৌশলে সিন্ডিকেটের সদস্য খোরশেদ এর নিকট পাঠায়। খোরশেদ মামলা রুজুর কন্ট্রাক করে নজরুল মুহুরীর কাছে নিয়ে যায় এবং সেই মতে এজাহার লিখে খোরশেদ ওসির নিকট নিয়ে যায়। কন্ট্রাক অনুযায়ী উৎকোচ দিয়ে মামলা রুজু করা হয়। মামলা রুজু করতে সিন্ডিকেট ১৫/২০ হাজার টাকা নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে থাকে। এখানে উল্লেখ্য, ফটকা ওসি আনিস থানায় বসে কথিত সাংবাদিক খোরশেদ আলমকে নিয়ে তার চেম্বারে সার্বক্ষণিক আড্ডায় লিপ্ত থাকে। বুড়িচং থানা এলাকায় ওসি’র প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রিত ধান্ধাবাজ সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি লাভ করে। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। উল্লেখ্য, ধান্ধাবাজ ওসি আনিস মার্চ/০৯-এ যোগদানের পর আন্তঃজেলা চোরাকারবারী অপরাধী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ উপার্জনের পাশাপাশি নিমসার, কালাকচুয়ার, সাদকপুর, জগতপুর, পশ্চিম শিং জুয়ার বোর্ড থেকে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা আদায় করে থাকে। চোরাচালান প্রতিরোধের স্বার্থে বুড়িচং থানা পুলিশকে সর্বজনগ্রাহ্য করতে পিআরবি’র বিধি মোতাবেক জরুরী ভিত্তিতে ওসি কাম-চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের রূপকার আনিসুর রহমান খানকে রেঞ্জের বাইরে বদলীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় শাস্তি প্রদানের দাবী করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বুড়িচং ভুক্তভোগী জনসাধারণ ।এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে বুড়িচং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) আনিসুর রহমান খান জানান, এসব অভিযোগ সত্য নয়।কোন চোরাচালান সিন্ডিকেটের সাথে আমার সর্ম্পক নেই।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...