তিতাসে অতি দরিদ্র কর্মসংস্থান প্রকল্পের শ্রমিক হিসাব যথাসময়ে জমা দিচ্ছেন না প্রকল্পের সভাপতিরা

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার তিতাস উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের আওতায় ৪০ দিনের অতি দরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রতিদিনের শ্রমিক হিসাব যথাসময়ে অফিসে জমা দিচ্ছেন না প্রকল্পের সভাপতি অর্থ্যাৎ টেগ অফিসারগণ। ফলে প্রতিদিনের প্রকৃত শ্রমিক সংখ্যা নিয়ে বির্তকের সৃষ্টি হচ্ছে এবং তদারকি কমিটির ব্যক্তিগণ হিমশিম খাচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১০০ দিনের সৃজনশীল কর্মসূচি চালু করা হলে কাজের মান নিয়ে বির্তকের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ৬০ দিন কর্মসূচি পরিচালনা করার পর সরকার প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকার অতি দরিদ্র কর্মসংস্থান নামে অবশিষ্ট ৪০ দিনের কর্মসূচি হাতে নেয়। উক্ত কর্মসূচীর আওতায় তিতাস উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ২২৬৯ জন শ্রমিক ১২০ টাকা হারে প্রতিদিন সাতঘন্টা কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। কর্মসূচীকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে স্থানীয় এমপিকে প্রধান উপদেষ্টা, উপজেলা চেয়ারম্যানকে উপদেষ্টা, উপজেলা নির্বাহী অফিসাকে সভাপতি, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারকে সদস্য সচিব, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়, টেগ অফিসার (সকল), ইউপি চেয়ারম্যান (সকল), গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে উপজেলা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের টেগ অফিসারকে সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যানকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি কমিটি গঠন করা হয়। বিশেষ করে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে একটি কর্মশালাসহ একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সাতানীতে ২০৪ জন, জগতপুরে ২৭০ জন, বলরামপুরে ২৬৫ জন, কড়িকান্দিতে ২৫০ জন, কলাকান্দিতে ১৯৫ জন, ভিটিকান্দিতে ৩০০ জন, নারান্দিয়াতে ২২৩ জন, জিয়ারকান্দিতে ২২২ জন ও মজিদপুরে ৩৪০ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও শ্রমিক স্বল্পতার কারণে প্রতিদিন সকাল ১০টার মধ্যে কাজে নিযুক্ত শ্রমিক সংখ্যা উপজেলা বাস্তবায়ন অফিস সহকারীর নিকট মোবাইলে জানানোর কথা থাকলেও গতকাল ৩০ মার্চ মঙ্গলবার সরেজমিনে অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে বলরামপুর ১৭৮ জন ও কড়িকান্দিতে ১৬৬ জন শ্রমিকের তথ্য অফিসে জমা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নারান্দিয়া ইউনিয়নের টেগ অফিসার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মীরাজুল আশরেকীনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সরাসরি যোগাযোগের কথা বলে ফোনটি বন্ধ করে দেন। জগতপুর ইউনিয়নের টেগ অফিসার উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কলাকান্দি ইউনিয়নের টেগ অফিসার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করলে তিনি তাৎক্ষণিক বিকাল ৪.৩০ মিনিটে রিপোর্ট জমা দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি প্রকল্পের উপজেলা সভাপতি ইউএনও এবং সদস্য সচিব পিআইও-সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল বাসারের সাথে ফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করলেও উভয়ে ফোন রিসিভ করেননি।
একাধিক ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করলে তারা প্রতিদিন সকাল ১০টার মধ্যে টেগ অফিসারগণ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি কমিটির সদস্য উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মাষ্টার বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান না করায় সঠিকভাবে তদারকি করা যাচ্ছে না। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অফিস সহকারী আবুল কাসেম জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুখীকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সবাইকে জানাইতে যাতে প্রতিদিন সকাল ১০টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...