রাজনীতিমুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় : নোটিশ বোর্ডে ছাত্র ফ্রন্টের পোষ্টার, আইন ভঙ্গ করে ছাত্রলীগের মিছিল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে লাগানো ছাত্রফ্রন্টের পোষ্টার।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে লাগানো ছাত্রফ্রন্টের পোষ্টার।
কামরুল হাসান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় :
রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নোটিশ বোর্ডে লাগানো হয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের রজতজয়ন্তির পোষ্টার। প্রতিদিনই এই নোটিশ বোর্ডে রেজিস্ট্রার, তথ্য কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত অনেক গ্রুরুত্বপূর্ন বিজ্ঞপ্তি লাগানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ন বিজ্ঞপ্তিগুলোর উপরে লাগানো এ পোষ্টারটি গত এ সপ্তাহ ধরে সবার নজরে পড়ছে। প্রতিনিয়ত প্রশাসনের নজরে পড়লেও অজ্ঞাত কারনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্টারটিকে সড়াচ্ছে না। আইন ভঙ্গ করে ক্যাম্পসে চলছে ছাত্যলীগের মিছিল। প্রশাসন এক্ষেত্রেও নিরব ভূমিকাই পালন করছে।
জানা যায়, রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত হিসেবে ২০০৭ সালের ২৮ মে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। ১ম বছর ভালভাবে কাটলেও সরকার পরিবর্তনের পর আইন এবং ভর্তির সময় রাজনীতি না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া অঙ্গিকারণামা ভঙ্গ করে শুরু হয় অবাধ রাজনীতি চর্চা। শর্ত ভঙ্গকারীদের শাস্তি তো দুরের কথা বরং রাজনীতির নেতৃত্ব দেন সাবেক ভিসি ড. জেহাদুল করিম ও কতিপয় শিক্ষক কর্মকর্তা। ক্যাম্পাসে শুরু হয় ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। শিক্ষক কর্মকর্তা নিয়োগে করা হয় ব্যাপক দলীয়করণ। ২০০৯ সালে ৪ টি রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত হয় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকে ৬ মাসেরও বেশী সময়। রাজনৈতিক স্বার্থসংস্লিষ্ট আন্দোলনের মুখে গত ১২ নভেম্বর বিদায় নিতে হয় সাবেক ভিসি ড জেহাদুল করিমকে। ২৪ নভেম্বর নতুন ভিসি ড.আমির হোসেন খান দায়িত্ব গ্রহনের পর শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ক্যাম্পাসে সকল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে মিছিল, মিটিং ও পোষ্টারিং নিষিদ্ধ করেন। এ মর্মে গত ২৪ ডিসেম্বর প্রক্টর ড.আবু জাফর স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। নিষেধাজ্ঞ সত্ত্বেও প্রশাসনিক ভবনের নোটিশ বোর্ডে লাগানো হয় ছাত্রফ্রন্টের পোষ্টার। নিষেধাজ্ঞাও অমান্য করে ছাত্রলীগ ২১ ফেব্রুয়ারী ক্যাম্পসে মিছিল বের করে। পরবর্তীতে প্রক্টর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সতর্ক করে দেন। কিন্তু ২৯ মার্চ নবীণ মিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ আবারো আপত্তিকর স্লোগানে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এ সময় ছাত্রলীগের ব্যনার ছিনিয়ে নিতে চাইলে ব্যাপক বাক্কিতন্ডার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সহকারী প্রক্টর রাশিদুল ইসলাম শেখ ও তোফায়েল হোসেন মজুমদারের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ স্থানীয় গ্রুপের মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে তুললেও রহস্যজনক কারনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরব রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রক্টর ড. অবু জাফর ব্যস্ত থাকায় সহকারী প্রক্টর তোফায়েল হোসেন মজুমদার জানান, নোটিশ বোর্ডে রাজনৈতিক সংগঠনের পোষ্টার প্রক্টরিয়াল বডির নজরে পড়ে নাই, আর প্রক্টরিয়াল বডির তো আরো কাজ আছে। যদি নোটিশ বোর্ডে পোষ্টার লাগানো হয়ে থাকে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বলা হবে পোষ্টারটি ছিড়ে ফেলার জন্য।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...