নানা সংকটের মধ্য দিয়ে ২৯ মার্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু

gfhgfghjkj এম আহসান হাবীব, কুবি প্রতিনিধিঃ
ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষক স্বল্পতা, সেশনজট, আবাসন ও পরিবহনের অপ্রতুলতাসহ নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে আগামী ২৯ মার্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর প্রথম বর্ষ-প্রথম সেমিস্টারের সকল বিভাগের ক্লাস শুরু হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আমির হোসেন খানের সভাপতিত্বে গত সোমবার একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানা গেছে । ইতিমধ্যেই দেশের সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতদিন যাবত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এবং সঠিক কোন ঘোষণা কিংবা দিক নির্দেশনা না দেওয়ায় ক্লাস শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভূগছিল নবীন ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকগন। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মূলত শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকটের কারনেই চতুর্থ ব্যাচের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরুতে বিলম্ব করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, ২০০৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ২০০৮ সালের ২৮ মে থেকে ১৭ জন শিক্ষক ও ৩০০ ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরম্ভ হয়। কিন্তু শুরু থেকেই নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার ফলশ্রুতিতে বারবার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক সংকট এবং রাজনৈতিক ছাত্র কলহে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেশনজটে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। প্রতিটি নতুন ব্যাচ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সাথে সাথে শিক্ষক ও ক্লাসরুমের সংকটও তীব্র হতে থাকে। তিনটি ব্যাচে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১ হাজার ১ শত ৭৬ জন। চতুর্থ ব্যাচে এবার নতুন ভর্তি করা হয়েছে প্রায় ৫২০ জন । সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬ শত ৯৬ জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য শিক্ষক আছেন মাত্র ৩১ জন। এদের মধ্যে অধ্যাপক নেই একজনও। সহযোগী অধ্যাপক আছেন তিন জন, সহকারী অধ্যাপক পাঁচ জন এবং বাকি সবাই প্রভাষক। এর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে মাত্র দুই জন এবং অর্থনীতি, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও মার্কেটিং বিভাগে মাত্র তিন জন করে শিক্ষক রয়েছেন। গণিত ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সকল শিক্ষকগনই হচ্ছেন প্রভাষক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার নতুন চালু হওয়া নৃবিজ্ঞান বিভাগে তিন জন প্রভাষক, বাংলা বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুই জন প্রভাষক এবং ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগে দুই জন প্রভাষক নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের জন্য মাত্র একটি করে ক্লাসরুম রয়েছে যা কোনভাবেই চারটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট নয়। কোন বিভাগেরই স্বতন্ত্র কোন সেমিনার কিংবা হলরুম নেই। ক্লাসরুম ও শিক্ষকের তীব্র সংকটের কারণে বর্তমানে শিক্ষকদেরকে বাড়তি শ্রম দিয়ে দুই শিফটে ক্লাস নিচ্ছেন। কোন কোন সময় একটি ব্যাচের ক্লাস শেষ হলে অন্য আরেকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে কয়েকটি বিভাগে একই সেমিস্টারের কোন কোন কোর্সের ক্লাসই চালু করা সম্ভব হয়নি। এ ধরনের নানা প্রতিকূলতার কারণে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার প্রায় দুই মাস পর চতুর্থ ব্যাচের ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে চরম শিক্ষক সংকটের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘদিন যাবত দুই সিনিয়র শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে রাখার ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এতে করে শিক্ষক সংকট তীব্রতর হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনের সময় ভিসির কক্ষে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিন শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন ভিসিবিরোধী শিক্ষকগন। এই অভিযোগে নতুন ভিসি ড. আমির হোসেন খান যোগদানের পর এই শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম এম শরিফুল করিম সুমন এবং মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন সরকারকে গত ১৫ ডিসেম্বর বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর দুই দফায় তাদের ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হলেও কবে নাগাদ তারা ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবেন কেউই তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। এদিকে এ ধরনের বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক বিলম্বে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ব্যাচের ক্লাস। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক সকলের দাবি, যে করেই হোক অনতিবিলম্বে যাবতীয় সমস্যা ও সংকটের যথোপযুক্ত সমাধান করে শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাজীবন সুনিশ্চিত করা হোক। এ সকল বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কামাল উদ্দিন ভূইয়া বলেন, আগামী ১৮ মার্চ শিক্ষক নিয়োগের সাক্ষাতকার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বারবার সার্কুলার দিয়েও সিনিয়র শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। দুই শিক্ষকের বাধ্যতামূলক ছুটির বিষয়ে তিনি আগামী সিন্ডিকেট মিটিংয়ের প্রতি ঈঙ্গিত করে বলেন, অতি শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...