রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের বেতনভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে

BANGLADSH
এস জে উজ্জ্বল :
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্য এবং সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের বেতনভাতা প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। বর্তমান বেতনের সঙ্গে শতকরা ৮৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধির এ প্রস্তাব করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
মন্ত্রী সংসদ সদস্যদের বেতনভাতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা ও সমাজে এর প্রভাব তুলে বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের বেতন বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বেতনের সঙ্গে অন্যান্য ভাতাও কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেয়ার ফলে অগ্নিমূল্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। মন্ত্রী ও এমপিসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা তাদের বেতনভাতা বাড়িয়ে নিয়েছেন ঠিকই কিন্তু জনগণ তাদের কাছ থেকে কতটুকু সেবা পাচ্ছে, সেটাও দেখতে হবে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ–র আহমদ বলেন, মন্ত্রী ও এমপিদের বেতনভাতাদিকে মূলত সম্মানী হিসেবেই দেখা হয়। তারা জনগণের সেবা করেন, জনগণের অর্থ থেকে তাদের সম্মানী দেয়া হয়। কিন্তু এখন এটা ইচ্ছেমতো আদায় করে নেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেতনের সঙ্গে সঙ্গে ভাতাও কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। কাজেই তাদের বেতনভাতাও বাড়াতে হবে, এটাই স্বাভাবিক কথা। মন্ত্রী ও এমপিদের সংখ্যা মাত্র কয়েকজন। তাদের এ ক’জনের বেতনভাতা বাড়ার ফলে বাজারে একটি অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হবে। জনগণের আয় আগে যা ছিল, এখনও তা-ই রয়েছে। ফলে সাধারণ জনগণকেই এর খেসারত দিতে হবে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী এখন থেকে রাষ্ট্রপতি বেতন পাবেন ৬১ হাজার ২০০ টাকা। তার আগের বেতন ছিল ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর বেতন ৩২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেতন ৩০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা এবং স্পিকারের বেতন ৩১ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৫৭ হাজার ২০০ ও ডেপুটি স্পিকারের বেতন ২৯ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫৩ হাজার ১০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও মন্ত্রীদের বেতন ২৯ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ১০০, প্রতিমন্ত্রীর ২৬ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৪৭ হাজার ৮০০, উপমন্ত্রীর বেতন ২৪ হাজার ৬৫০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ১৫০, সংসদ সদস্যদের সম্মানী ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৭ হাজার ৫০০, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মূল বেতন ২৯ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫৩ হাজার ১০০ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের বেতন ২৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। সংসদ উপনেতার বেতন ২৯ হাজার থেকে ৫৩ হাজার, চিফ হুইপের ২৯ হাজার থেকে ৫৩ হাজার, হুইপদের ২৬ হাজার থেকে ৪৯ হাজার ৪১০ টাকা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যদের এ বেতনভাতা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ৬টি আইনও সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, মন্ত্রীরা সরকারি বাসায় বসবাস করলে দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র পেয়ে থাকেন। এখন তা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকার আসবাবপত্র দেয়ার বিধান করা হয়েছে। বর্তমানে একজন মন্ত্রী সরকারি বাসায় না থাকলে প্রতি মাসে বাসা ভাড়া বাবদ ২৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। তা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবদুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, এবারই প্রথম সংসদ সদস্যদের বেতনভাতার সঙ্গে যানবাহন ভাতা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার মাসিক খরচ ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নিয়ামক ভাতা ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার এবং টেলিফোন বিল ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সংসদ সদস্যদের দৈনিক ভাতা ২০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। ভ্রমণভাতা প্রতি কিলোমিটার ৬ টাকা থেকে ১০ টাকা করা হয়েছে। চিকিত্সাসহ অন্যসব ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার অফিস খরচও ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা সম্মানীসহ মোট ৩৪ হাজার ২০০ টাকা পান। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বেতনভাতা বৃদ্ধির ফলে সব মিলিয়ে তারা মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাবেন। এর বাইরে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি মাসে আরও ৪০ হাজার টাকা পাবেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...