কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট চরমে : নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু হচ্ছে না

কামরুল হাসান, কুবি থেকেঃ
সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের। আবাসন সমস্যা, পরিবহন সমস্যা, শিক্ষক সংকট, ক্লাসরুম সংকটসহ একের পর এক সমস্যা লেগেই আছে নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। এবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারন করেছে। শিক্ষক এবং ক্লাসরুম সংকটের কারনে নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু করতে পাড়ছে না কর্তৃপক্ষ। কবে ক্লাস পরীক্ষা শুরু হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে দিন কাটছে নবীন শিক্ষার্থীদের। সব বিভাগেই পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় ক্লাস চলছে ঢিমেতালে। ফলে সেশনজটে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। রয়েছে ক্লাস রুমের তীব্র সংকট। ক্লাস রুম সংকটের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস হয় দুই শিফ্টে। প্রতি বিভাগের জন্য রয়েছে ১টি ক্লাসরুম ও একটি হলরুম। কিন্তু ৪টি ব্যাচের জন্য তা যথেষ্ট নয়। কোন-কোন সময় একটি ব্যাচের ক্লাস শেষ হলে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়।
শিক্ষার্থী ও বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগে ৪টি ব্যাচের মোট ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছে মাত্র ৩ জন। তার মধ্যে বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন সরকারকে গত ৩ মাস ধরে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা হয়েছে। বাকী ২ জন প্রভাষক দিয়েই চলছে ৩টি ব্যাচের ক্লাস পরীক্ষা। বাধ্য হয়েই তাদেরকে সপ্তাহে দু-তিনটি ক্লাস করেই চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। হতাশায় মাঝেই দিন কাটছে শিক্ষার্থীদের। ১ম ব্যাচের ছাত্র আজহার জানায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষের ফলে ২য় সেমিস্টার শেষ হতে এক বছর লেগেছে। এখন শিক্ষক সংকটের ফলে ক্লাস নিয়মিত হচ্ছে না, ৩য় সেমিস্টারও কি ১বছরে শেষ করব? এদিকে ভর্তির প্রায় এক মাস পরও ৪র্থ ব্যাচের ক্লাস এখনো শুরু করতে পারেনি।
ব্যবস্থাপনা বিভাগেও রয়েছে ৩ জন শিক্ষক। গত তিন মাস ধরে ২য় ব্যাচের ৩য় সেমিস্টারে পাঁচটি কের্সের মধ্যে চারটি কোর্সের ক্লাস চলছে। এগুলোর সিলেবাস প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু শিক্ষক সংকটের ফলে অর্থনীতি কোর্সটি এখনো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
অর্থনীতি, লোকপ্রশাসন, ইংরেজী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগেও রয়েছে একই সমস্যা। শিক্ষক সংকটের ফলে সকল বিভাগেই নতুন ব্যাচের ক্লাস চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্র মিনহাজ জানায়, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের কবে ক্লাস শুরু হবে এখনো জানায়নি, ফলে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।
খুব তারাতারি এ সকল সমস্যার সমাধান না করলে আরও প্রকট আকার ধারন করবে বলে মনে করছে সাধারন শিক্ষার্থীরা।
এত সমস্যার কথা শুনে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী নবনির্মিত ৩টি আবাসিক হলের উদ্বোধন করতে এসে আশার বাণী শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড.আলাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন, আবাসনসহ সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাষ দেন। কিন্তু আশ্বাষের বাণী শুনেই সন্তুষ্ট নয় শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবী বাস্তবেই এ সকল সমস্যার সমাধান করা হোক।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কামাল উদ্দিন ভুইয়া জানান, নতুন ৩টি বিভাগে ৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। খুব তারাতারিই সকল বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরুর ব্যাপারে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না, ভিসি স্যার বলতে পারবে। ভিসি ড. আমির হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ সম্পর্কে কথা বলেননি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...