তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত

tareque rahman
এস জে উজ্জ্বল :
পৃথক দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো এবং গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। চাঁদাবাজি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান তালুকদার এ নির্দেশ দেন। এ মামলায় বাকি পাঁচ আসামি হলেন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, কামরুজ্জামান, মাহবুবুল আলম, ওয়াবদুল খন্দকার ও আজিজুল করিম। অন্য আসামি মানিকুর রহমান আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এ মামলায় ২০০৭ সালের ২৬ এপ্রিল তারেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি হাইকোর্ট থেকে একই বছরের ২ ডিসেম্বর জামিন পান। ২০০৮ সালে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন আদালত। ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। জামিনে থাকা অবস্থায় নিম্ন আদালতে গড় হাজির থাকার কারণে তারেকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে শাহবাগ থানায় খায়রুল বাশার নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় সোমবার তারেকের হাজিরার দিন ছিল। তারেক হাজির না হওয়ায় এবং তার পক্ষে কোনো সময়ের আবেদন না করায় মহানগর হাকিম মেহেদি হাসান তালুকদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। তারেক বর্তমানে লন্ডনে চিকিত্সাধীন আছেন
চাঁদাবাজির মামলায় তারেককে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে মহানগর হাকিম আদালত। কর ফাঁকির মামলায় কোকোর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে মহানগর সিনিয়র জজ আদালত।
আয়কর ফাঁকির মামলায় কোকোর বিরুদ্ধে ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ৫২ লাখ টাকা আয় গোপন করার সত্যতা খুঁজে পেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মামলাটি করে। এনবিআরের পক্ষে উপ-কর কমিশনার শাহীন আখতার ঢাকা মহানগর সিনিয়র জজ এএনএম বশিরউল্লার আদালতে মামলাটি করেন। আদালত কোকোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ জারি করেছেন। আগামী ১১ মার্চ গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি নিয়ে কোকো বর্তমানে থাইল্যান্ড রয়েছেন।
আয়কর ফাঁকির অন্য একটি মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটলের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার পৃথক দুটি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
চাঁদাবাজির একটি মামলায় তারেক ছাড়াও তার বন্ধু গিয়াস আল মামুনসহ অপর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী পটলের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে ২৭ লাখ টাকার বেশি আয় গোপন করার অভিযোগে একই আদালতে উপ-কর কমিশনার মিজানুর রহমান মামলা করেন। আদালত ১০ মার্চ গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এর আগে সকালে এনবিআরের বোর্ডসভায় ওই দুটি মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা গেছে, এনবিআর আরও দুই ভিআইপির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলা করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। তারা হলেন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন মামুন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান। তারা বিপুল আয় গোপন করে কর ফাঁকি দিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। শিগগির তাদের বিরুদ্ধেও কর ফাঁকির মামলা করা হবে। এছাড়া সরকার-বিরোধী দলসহ আরও বেশ ক’জন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের কর ফাঁকির তদন্ত চলছে।
সাড়ে ১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। সে মামলায় গতকাল তারেকের হাজিরার দিন ছিল। তার পক্ষে সময়ের আবেদন না থাকায় মহানগর হাকিম মেহেদি হাসান তালুকদার গ্রেফতারি পরোয়ানার নির্দেশ দেন। তারেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনসহ অন্য পাঁচ আসামির বিরুদ্ধেও একই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...