রাঙামাটির সংঘর্ষে সেনাবাহিনী ও বসতিস্থাপনকারী বাঙালিরা দায়ী : সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার :
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটি’ দাবি জানায়, রাঙামাটির বাঘাইহাটে স�প্রতি সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সেনাবাহিনী ও বসতিস্থাপনকারী বাঙালিরা দায়ী, সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন ‘সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটি’র আহ্বায়ক জ্ঞানেন্দু চাকমা।
সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে বাঘাইহাটে ‘সেনা’ ও ‘সেটলার’র হামলার প্রতিবাদ ও ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
এতে দাবি করা হয়, ১৯ ফেব্রুয়ারি গুচ্ছগ্রাম বা নোয়াপাড়ায় সেনা সদস্যরা প্রথমে গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপরই ‘সেটলাররা’ বাড়িঘরে আগুন লাগায় ও লুটপাট চালায়।
২০ ফেব্রুয়ারি বাঘাইহাট সেনা জোন থেকে মাইকিং করে হামলার উদ্দেশ্যে ‘সেটলারদের’ জড়ো করে এবং পাহাড়িদের গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় বলেও দাবি করা হয়।
হামলায় ১১টি পাহাড়ি গ্রাম, দুইটি বৌদ্ধ বিহার, একটি গির্জাসহ পাঁচশ’র বেশি বাড়িঘর পুড়ে গেছে বলে সম্মেলনে দাবি করেন কমিটির আহ্বায়ক জ্ঞানেন্দু চাকমা। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও সরকারিভাবে তদন্ত কমিটি গঠন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটির ছয়টি দাবি হলো- হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, পুড়ে যাওয়া বৌদ্ধবিহার ও গির্জা সরকারি খরচে পুনর্র্নিমাণ, আটক পাহাড়িদের মুক্তিদান ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বাঘাইহাট থেকে সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার ও বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের অন্যত্র পুনর্বাসন এবং ভূমি দখল বন্ধ ও বেদখল ভূমি ফেরত দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত বুদ্ধপতি চাকমার মেয়ে লেজহুলি চাকমা (সুমিতা), সাজেক নারী সমাজের সদস্য সচিব নিরূপা চাকমা, জ্যোতিলাল কার্বারী, চিত্তরঞ্জন কার্বারী প্রমুখ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...