বিডিআর হত্যাকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের কয়েকজনের উস্কানি ছিল : বিএনপি

bnp
এস জে উজ্জ্বল :
পিলখানার বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের কয়েকজনের উস্কানি ছিল বলে অভিযোগ করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলটির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং তার দলের কয়েকজন ওই ট্র্যাজিডির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তিনি চশমা পরে টর্চলাইট দিয়ে বিদ্রোহের উস্কানিদাতা খুঁজছেন।
পিলখানা ট্র্যাজিডি ডাল-ভাতের কারণে হয়নি, আওয়ামী লীগই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগ করে তারা বলেন, বিডিআর ও সেনাবহিনীকে দুর্বল করে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতেই পিলখানা ট্র্যাজিডি ঘটানো হয়েছে। এটা একটি বিদেশি ষড়যন্ত্র। যারা স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না তারাই এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আর এতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা পরোক্ষ শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী, সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ, শেখ সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি যারা রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছিল, এ সরকার তাদের বিচার না করলেও এদেশের মাটিতে বিচার একদিন হবেই।
বৃহস্পতিবার পিলখানায় ট্র্যাজিডি স্মরণে বিএনপি আয়োজিত এক স্মরণসভায় তারা এ অভিযোগ করেন।
বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মইনুল ইসলামের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপি নেতারা বলেন, তিনি (ডিজি) বিচারক হয়ে আগেই বলে দিচ্ছেন ডাল-ভাতের কারণেই ওই বিদ্রোহ হয়েছে। আবার প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা বলছেন, ওই সহিংস ঘটনার উস্কানিদাতাদের ছাড় দেওয়া হবে না। বিডিআর ডিজি এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, অনেক ফাঁক দেখা যাচ্ছে। এ ফাঁক কাকে দিয়ে পূরণ করবেন জানি না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর দলের নেতারা এ ঘটনায় উস্কানি দিয়েছেন তা কি তিনি দেখতে পাননি? কে উস্কানিদাতা তা প্রধানমন্ত্রী চশমা পরে টর্চলাইট দিয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। উদোর পি-ি বুধর ঘাড়ে চাপিয়ে কিছুদিন পার পাওয়া গেলেও সবসময় সম্ভব নয়।
মোশাররফ বলেন, বিদ্রোহ দমনে কেন নির্দেশ দেয়া হয়নি, খুনিদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেন কেন, তিন বাহিনীর প্রধানকে কেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, কার নির্দেশে রাতে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়া হয়, এতো নিরাপত্তা থাকার পরও কীভাবে দশ হাজার জওয়ান পালিয়ে গেল এরকম অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো জাতি জানতে পারেনি।
জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ওই স্মরণসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ, বিডিআর-এর সাবেক মহাপরিচালক আ.ল.ম ফজলুর রহমান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক।
হান্নান শাহ বলেন, দেশকে চোরাচালানের বাজার হিসেবে ব্যবহার করতে বিডিআর ও সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করা হয়। এটা ছিল পুরোপুরি একটি ষড়যন্ত্র। সবক’টি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের উচ্চমহলে ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য জানিয়েছে; কিন্তু রাজনৈতিক সমাধান দেয়ার নামে প্রধানমন্ত্রী কোনো উদ্যোগ নেননি।
তিনি বলেন, কিছু জওয়ান অস্ত্রহাতে ‘জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে স্লোগান দিয়েছে। তারা কারা? তারা সেনা কর্মকর্তাদের খুনি। পিলখানা হত্যাকা- একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই ষড়যন্ত্র হয়েছে। আর এ ষড়যন্ত্রকারী প্রধানমন্ত্রী ও তার এমপি-মন্ত্রীরা।
দেশকে অকার্যকর করতেই বিডিআর হত্যাকা- ঘটেছে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, মাত্র একটি ঘটনা পাল্টে দিল আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। ১৫ কোটি মানুষের ৩০ কোটি হাতকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজে লাগাতে হবে।
শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীরা আগে থেকেই বিডিআর জওয়ানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন, সেহেতু পুরো ঘটনা প্রধানমন্ত্রীরও অবহিত থাকার কথা। মদতদাতাদের বিচারের কথা বলা হচ্ছে। নানক-আজমদের মদতের কথা তো সবার কাছে স্পষ্ট। তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো ঘটনাই প্রধানমন্ত্রী জানতে পারবেন।
বিডিআরের সাবেক ডিজি আ.ল.ম ফজলুর রহমান বলেন, ভারতকে যারা বন্ধু ভাবেন তারা ভাবতে পারেন। কিন্তু ভারত আসলে আমাদের বন্ধু নয়। আমাদের সামরিক শক্তির বহর সম্পর্কে ভারতের কোনো ধারণা নেই। আমাদের শক্তি ১৫ কোটি মানুষের হাত। এ শক্তিকে সামান্য সেনাবাহিনী দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। ভারতকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশ ধ্বংস হবে না, কিন্তু ভারত খুব শিগগিরই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...