বাকশালী শাসনের জন্যই ২১ বছর আ’লীগ প্রত্যাখ্যাত ছিল : বিএনপি

1_6
স্টাফ রিপোর্টার :
জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়ে বিএনপি নেতারা বলেছেন, সরকার অবিলম্বে বাকশালী নীতি পরিহার না করলে বিএনপি প্রতিবাদ সমাবেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুর্বার আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে, যা সরকার সামাল দিতে পারবে না। সরকারকে ১৯৭২-৭৫-এর বাকশালী শাসনের পর জনগণ কর্তৃক ২১ বছর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়ার পরামর্শ দেন তারা।
বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে বিএনপি এ সমাবেশের আয়োজন করে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, মিজানুর রহমান মিনু, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দীন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, যুবদল সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শিরিন সুলতানা প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি।
নিজেদের অপকর্মের ফল থেকে শিক্ষা নিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত আপনার পিতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান যে অপকর্ম করেছিলেন, সেই অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে জনগণ আওয়ামী লীগকে ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে রেখেছিল। আপনারা ওখান থেকে শিক্ষা নিন। বিএনপিকে শিক্ষা দিতে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী দলকে দমাতে কালো আইন জারি করেছিল। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতা চিরস্থায়ী হয়নি।
জিয়াউর রহমানের ডিএনএ টেস্ট করতে সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনার জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের মন্ত্রিপরিষদের ডিএনএ টেস্ট করতে হবে—তারা বাংলাদেশের মন্ত্রী না, ভারতের মন্ত্রী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান সামরিক শাসন জারি করেননি। সামরিক শাসন জারি করেছিলেন শেখ মুজিবের বন্ধু খন্দকার মোশতাক। আদালত কী বললো এটা শোনার সময় জনগণের নেই। জনগণের নেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা রেখেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। আর এজন্য জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের ‘ভয়ের কারণ’ উল্লেখ করে গয়েশ্বর রায় বলেন, প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্র করে সরকার জিয়াউর রহমানকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
সরকার আন্তর্জাতিক চক্রান্তে পা দিয়ে বাকশালী শাসনের পথে এগুচ্ছে অভিযোগ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ না করায় সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। বিএনপির মিছিল-সমাবেশে সাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে এবং বিএনপিকে ধ্বংস করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন, সারাদেশে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার-নির্যাতন ও বিএনপির মিছিলে পুলিশি হামলার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। এজন্য দেশের জনগণ আতঙ্কিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের পরবর্তী সময়ে একই আদলে জনগণ আতঙ্কে ছিল। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে এ আতঙ্ক দূর করবে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দিনবদল আর ডিজিটাল বাংলাদেশের নামে সরকার নামবদল ও লাশের বাংলাদেশ গড়েছে। খুনের বাংলাদেশ গড়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারির মিছিল থেকে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অবিলম্বে তাদের মুক্তি না দিলে দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যা শেখ হাসিনার সরকার সামাল দিতে পারবে না। বিএনপিকে শিক্ষা দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনার বাবা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি, আপনিও শিক্ষা নিচ্ছেন না। বাবার পথে হাঁটবেন না বলে শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গ্রেফতার, নির্যাতন, কারাগারে বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যার দৃষ্টান্ত কারও জন্য ভালো হবে না।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানা সমালোচনা করে আমানউল্লাহ আমান বলেন, জনগণের কাছে দেয়া কোনো ওয়াদাই আপনি পূরণ করতে পারছেন না। তাহলে এখনও ক্ষমতায় আছেন কেন? তিনি বলেন, বাকশাল কায়েমের স্বপ্ন আপনার স্বপ্নই থেকে যাবে।
জাতীয় সংসদ ও রাজপথে কোথাও আপস করা হবে না উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জনগণের বাঁচার ইস্যুতে জাতীয়তাবাদী শক্তির আপস করার কোনো সুযোগ নেই।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...