যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান একুশে পালিত

এম আহসান হাবীব, কুবি:
যথাযোগ্য মযার্দায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পালিত হলো মহান একুশে তথা আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস । একুশের এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র-শিক্ষক সবার কন্ঠে ও চেতনায় বিশেষভাবে ধ্বনিত হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি। তারা বলেন , ভাষা আন্দোলনের মাধ্যেমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ বপিত হয় । কিন্তু এই স্বাধীনতার অর্জনকে কলংকিত করেছিল দেশবিরোধী অপশক্তি রাজাকার-আলবদর এবং স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর খুনিরা । ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হলেও এখনো যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদরদের বিচার হয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারকে অবশ্যই বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রস্তাবিত স্থানে মহান একুশে উদ্যাপনের নিমিত্তে অস্থায়ীভাবে নির্মিত হয় একটি ডামি শহীদ মিনার। অস্থায়ী এই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে জাতির মহান সন্তান ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহরেই দল বেঁধে হাজির হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। রাতের আঁধারকে ভেদ করে জেগে ওঠে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির প্রতি নতুন প্রজন্মের একান্ত ভালবাসার অনির্বাণ দীপ্তি। সবার চোখেই যেন ভেসে ওঠেছে আগামীর সোনালী স্বপ্ন, সবারই কামনা ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এ সময় ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান, ট্রেজারার ড. গোপাল চন্দ্র সেন, কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট জাকির ছায়াদ উল্লাহ খান, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট কাজী জাহিদুর রহমান, নবাব ফয়জুন্নেসা হলের পে মোহাম্মদ সোলায়মান ও শামিমুল ইসলাম, শিক্ষকমন্ডলী, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিন্টেম্স বিভাগের পে চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চন্দ্র দেব ও ছাত্র-শিক্ষকগন, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পে চেয়ারম্যান কাজী জাহিদুর রহমান ও ছাত্র-শিক্ষকগন, মার্কেটিং বিভাগের পে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলায়মান ও ছাত্র-শিক্ষকগন, ম্যনেজমেন্ট বিভাগের পে চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ও ছাত্র-শিক্ষকগন, ইংরেজি বিভাগের পে চেয়ারম্যার ড. মোঃ আবু জাফর ও ছাত্র-শিক্ষকগন, অর্থনীতি বিভাগের পে চেয়ারম্যান জাকির ছায়াদ উল্লাহ খান ও ছাত্র-শিক্ষকগন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকবৃন্দ, কর্মকর্তাবৃন্দ, কর্মচারীগন, বিএনসিসি-কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট, স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, ধুমকেতু সাংস্কৃতিক সংগঠন, রকর্স্টাস এবং ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।
এদিকে ফুল দেয়া শেষে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি এবং শিক্ষকবৃন্দের উপস্থিতিতেই ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নামে পরিচালিত ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্রুপ। মিছিলটি কয়েকবার পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করলেও প্রক্টরিয়াল বডিসহ প্রশাসনের সকলেই নীরব ভূমিকা পালন করেন। কেউ কেউ পাশে দাঁড়িয়ে থেকে মিছিল পর্যবেণ করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোঃ আবু জাফরের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তারা মিছিল করে নি, একুশকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিয়েছে। তিনি পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান। তবে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকায় ছাত্রলীগের অপর গ্রুপ (শহর গ্রুপ), ছাত্রদল এবং সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...