দেবিদ্বারে স্কুল ছাত্র আলাউদ্দিনের হত্যাকারী ঘাতক তোফায়েল গ্রেফতার

দেবিদ্বারে গ্রেফতারকৃত ঘাতক তোফায়েল এর সাথে ওসি জাহেদুল ইসলামসহ অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য বৃন্দ।
দেবিদ্বারে গ্রেফতারকৃত ঘাতক তোফায়েল এর সাথে ওসি জাহেদুল ইসলামসহ অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য বৃন্দ।
দেবিদ্বার প্রিতিনিধঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় জয়পুর গ্রামের স্কুল ছাত্র আলাউদ্দিনের (১০) হত্যাকারী তোফায়েলকে শুক্রবার দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলার বেলটিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।
জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারী (শনিবার) স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলে সন্ধ্যায় আর বাড়ি ফিরেনি স্কুল ছাত্র আলাউদ্দিন। অনেক খোঁজা খোঁজির এক পর্যায় রাতে মোবাইল ফোনে জানানো হয় ওই ছাত্রকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১ ল টাকা দাবি করে ফোনটি রেখে দেয় অপহরণকারী। আলাউদ্দিনকে না পেয়ে ৩১ জানুয়ারী (রোববার) দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন তার অভিবাবকরা।

যে ভাবে আলাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়
তোফায়েলদের বাড়িতে ঘুড়তে যায় ওই দিন সকালে স্কুল ছাত্র আলাউদ্দিন। ওই খানেই আলাউদ্দিনের সাথে দেখা হয় তোফায়েলের। তোফায়েল কৌশলে বাড়ির পাশে জঙ্গলের কাছে তেতুল পারবে বলে পাঠিয়ে দেয় আলাউদ্দিনকে, কয়েক মিনিট পরে সেখানে যায় ঘাতক তোফায়েল এবং আলাউদ্দিনকে গায়ের পোশাক খুলতে বলে। আলাউদ্দিন গায়ের পোশাক খুলার পর তার গেঞ্জি দিয়ে তোফায়েল গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যা করে স্কুল ছাত্র আলাউদ্দিনকে।
হত্যার পর লাশ যে ভাবে ঘুম করা হয়
আলাউদ্দিনকে হত্যার পর পাশের একটি ঘর্তে মাটির নিচে তার লাশ পুতে দেয় ঘাতক তোফায়েল এবং হাত মুখ দুয়ে পরিস্কার হয়ে বাড়ি আসার পথে মায়ের সামনে পড়ে যায় সে। কোথায় থেকে এসেছে মা জানতে চাইলে তোফায়েল পড়ে বলবো বলে দমক দেয় মাকে। ওই দিন রাতে আলাউদ্দিনের মাকে ফোন করে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ঘাতক তোফায়েল।

পুলিশ যেভাবে লাশ উদ্ধার করেছে
৩ জানুয়ারী (বুধবার) দুপুরে ওই স্কুল ছাত্র আলাউদ্দিনের লাশ তার বাড়ির পাশে একটি ডোবায় বাসতে দেখে এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন। ওই দিন বিকেলে তার বাবা আব্দুস ছালাম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশ যেভাবে হত্যাকারীকে সনাক্ত করেছে
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আলাউদ্দিনের মা তার কাছে মুক্তিপণ দাবিকারীর কন্ঠটি তোফায়েলের বলে জানান। আলাউদ্দিনের মায়ের স্বিকারোক্তি ও মোবাইল নম্বরের সুত্রধরে পুলিশ তোফায়েলের মা এবং বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তোফায়েলই হত্যা করেছে বলে তারা জানান।

গ্রেফতার অভিযান যেভাবে চালানো হয়
পুলিশ বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে খবর নিয়ে এবং ওই ঘাতক তোফায়েলের ব্যবহিত মোবাইল ফোন ট্রেকের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ, দিনাজপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় এক টানা ৯ দিনের অভিযানের পর জামালপুর সদর উপজেলার বেলটিয়া দরিপাড়া এলাকার দুলাল মিয়ার বাড়ি থেকে ঘাতক তোফায়েলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতার অভিযানে অংশনেয় যারা
এস.আই শাহ কামালের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেয় এস.আই মোঃ শহিদুল ইসলাম, কনেষ্টেবল গাউসেল আলম ও রেডাক্স মারমা।

ঘাতকের লোমহস্যকর জবানবন্ধী প্রদান
১৯ ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার) রাতে দেবিদ্বার থানা পুলিশের কাছে ১৬১ দারায় স্কুল ছাত্র আলাউদ্দিনকে হত্যার বিষয়টি শিকার করে লোমহস্যকর জবানবন্ধী প্রদান করে ঘাতক তোফায়েল।

আদালতে ঘাতকের জবানবন্ধী
২০ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) দুপুরে কুমিল্লার জুডিশিয়ান ম্যাজিষ্ট্রেট জহির উদ্দিন আদালতে ১৬৪ দারায় জবানবন্ধী প্রদান করে হত্যার বিষয়টি স্বিকার করেছে।

দেবিদ্বারবাসীর অভিমত
দেবিদ্বারে স্কুল ছাত্র আলাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যার মুল রহস্য উদঘাটনসহ ঘাতকদের গ্রেফতার করায় উপজেলার বিভিন্ন পেশাজিবির মানুষ পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়।
এব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহেদুল ইসলাম জানান, তোফায়েলকে আগে থেকেই সন্ধেহ করে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে খবর নিয়ে মানিকগঞ্জ, দিনাজপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে সর্বশেষ জামালপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং মামলার রহস্য উদঘাটন করে তাকে আদালতে সোফর্দ করা হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...