মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হলেন বৌদ্ধ ধর্ম গুরু সংঘরাজ জ্যোতিপাল মহাথের

21
স্টাফ রিপোর্টার :
উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত বৌদ্ধ ধর্ম গুরু সংঘরাজ জ্যোতিপাল মহাথের এবছর (২০১০) মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হলেন। শনিবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই পদক বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে পদক বিতরণ করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব এম এ আজিজ।
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বরইগাঁও কনকচৈত্য বৌদ্ধ বিহার কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত পন্ডিত সংঘরাজ জ্যোতিপাল মহাথের মরণোত্তরসহ ১৫জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এ বছরের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। জ্যোতিপাল মহাথের এর পদক গ্রহণ করেন তাঁর সংঘরাজ জ্যোতিপাল মহাথের ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি শিলভদ্র মহাথের। এসময় বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লার সভাপতি অশোক বড়-য়াসহ অন্যান্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পদক প্রাপ্তদের প্রত্যেককে ১লক্ষ টাকার চেক , ৩ভরি ওজনের স্বর্ণ পদক এবং সনদ প্রদান করা হয়।
জ্যোতিপাল মহাথের ১৯১১ সালের ৫জানুয়ারি লাকসাম উপজেলার বরইগাঁও কেমতলী গ্রামে জš§ গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম চন্দ্র মণি সিংহ ও মাতার নাম দ্রৌপদী বালা সিংহ। চার ভাই বোনের মধ্যে সর্ব কনিষ্ট তিনি। তাঁর পারিবারিক নাম দ্বারিক মোহন সিংহ। ২০০২ সালের ১২ এপ্রিল ভারতের মুম্বাইয়ে একটি হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারকালে মৃত্যু বরণ করেন। একই বছরের ১৭ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়। তিনি মাত্র ১৫বছর বয়সে ১৯২৬ সালে তৎকালীন উপÑসংঘদায়ক গুণালংকার মহাথের কাছে স্বেচ্ছায় প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে শ্রামন্য ধর্মে দীক্ষা গহণ করেন। তিনি ১৯৩৪ সালে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিপিটক বিশারদ উপাধিসহ স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৩৮সালে ২৭বছর বয়সে চট্টগ্রাম জেলার হাটাইজারী থানার জোবরা বৌদ্ধ বিহারে ভিক্ষুত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৪৭সালে পৈতৃক নিবাস বরুইগাঁয়ের কেমতলী কনকচৈত্য বৌদ্ধ বিহারে আসেন। এখানে তিনি পালি পরিবেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অনাথ আশ্রম, কুটির শিল্প, সমবায়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। চার দশকের ও বেশি সময় তিনি এলাকার শিক্ষা বিস্তার ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেন। ১৯৪৯সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বিনা বেতনে স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয় হরি­র হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এর আগে ১৯৬৯ সালে তিনি বরইগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা বৌদ্ধ সমিতির সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২থেকে ১৯৭৬সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত ত্রিপিটক পাঠক ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তিনি ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এসময় তিনি আগরতলায় বিদেশী সাংবাদিকদেরকে পাক বাহিণীর গণহত্যার বীভৎস বিবরণ তুলে ধরেন। মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাগান্দীর সাথে সাক্ষাত করেন। ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন দেশ সফর করেন এবং পাকিস্তান সরকারের উপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । ১৯৫৫সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তার রচিত ১৬টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...