দুই বছরেও শুরু হয়নি নির্মাণ কাজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিত্তিপ্রস্তরই শহীদ মিনার

দুই বছর আগে স্থাপিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের  ভিত্তিপ্রস্তর - এম. আহসান হাবীব
দুই বছর আগে স্থাপিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর - এম. আহসান হাবীব
এম আহসান হাবীব, কুবি প্রতিনিধি :
ভাষা আন্দোলন থেকেই যে বাঙ্গালি জাতি তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা -এ কথা সর্বজন বিদিত। ভাষা শহীদদের যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৫২ সালেই ঢাকায় নির্মিত হয় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এরপর থেকে এ যাবত সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রত্যেকটি এলাকায় বিশেষত প্রতিটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসেই স্থাপিত হয়েছে অসংখ্য শহীদ মিনার। শহীদ মিনারগুলো বাঙ্গালি জাতিস্বত্তার অনন্য ত্যাগ ও সংগ্রামের নিদর্শন এবং প্রেরণার একান্ত উৎস। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতিষ্ঠার চার বছর অতিবাহিত হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোন শহীদ মিনার। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও শুরু হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ। শহীদ মিনার নির্মাণের নির্দিষ্ট স্থানটিতে নামফলক সম্বলিত একটি ভিত্তিপ্রস্তরই শুধু রয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ কোন দিনে এই ভিত্তিপ্রস্তরকে ঘিরেই ফুল দেয়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। আর তাই দুধের সাধ ঘোলে মিটানোর মত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভিত্তিপ্রস্তরই যেন শহীদ মিনার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা যায়, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ড. গোলাম মাওলা ২০০৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী অধ্যাপক হাশেম খানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের একটি মনোরম নকশাও প্রনয়ণ করা হয়। সে বছর কাঠ ও বোর্ড দিয়ে একটি ডামি শহীদ মিনার নির্মাণ করে প্রথমবারের মত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মহান একুশে উদ্যাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কোটবাড়ি এবং শহর এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বিশ্ববিদ্যারয়ের এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের ঘোষণা দেন তৎকালীন ভিসি। কিন্তু কিছু সুবিধাভোগী ও ক্ষমতালোভী শিক্ষক-কর্মকর্তার ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে ওই বছরের জুলাইতেই বিদায় নিতে হয় তাকে। পরবর্তীতে দুইজন ভিসি (একজন ভারপ্রাপ্তসহ) পরিবর্তন হলেও অজ্ঞাত কারণে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ আরম্ভ করা হয় নি। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়ে বর্তমানে ওএসডি কর্মকর্তা এবং সাবেক রেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমান মজুমদার জানান, “শহীদ মিনার স্থাপনের কাজ বাজেটে এমন কি প্রজেক্টেও ছিল না। তৎকালীন ভিসি আবেগের বশবর্তী হয়েই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।” তবে তৎকালীন ভিসি ড. গোলাম মাওলার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
এদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অতি শিগগিরই শহীদ মিনার চান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল প্রগতিশীল ও মুক্তমনা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার স্থাপনের দাবি জানিয়ে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র জিকরিয়া সিদ্দিকী জাকি বলেন, “ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার না থাকায় আমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারছি না।” ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র নয়ন দে বলেন, “ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কুমিল্লার একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবশ্যই শহীদ মিনার থাকা উচিত। আমরা প্রশাসনের নিকট দ্রুত শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরুর তীব্র দাবি জানাই।” আর মাত্র চার দিন পরেই উদযাপিত হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আগামীতে শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তরে নয়, পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনারেই ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শহীদ মিনার নির্মাণ কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া কুমিল্লা ওয়েবকে বলেন, “ভিসি স্যার এ বিষয়ে শীঘ্রই মিটিং কল করবেন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগেও প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। প্রকৌশলীসহ অন্যান্য লোকবল নিয়োগের পর কাজ শুরু করা হবে।” এ ব্যাপারে ভিসি প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান কুমিল্লা ওয়েবকে জানান, “প্রস্তাবনা না থাকায় চলতি বাজেটেও শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে না। তবে আগামী বাজেটে কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।”

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...