কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রোগী সাধারণ

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার :
চিকিৎসক, জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটের কারনে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসকের ২০টি পদের মধ্যে ১১টি পদই শূন্য রয়েছে। আবাসিক চিকিৎসকসহ চিকিৎসা কর্মকর্তা আছেন মাত্র ২ জন। এখানে সহকারী সার্জনের ৪টি পদের মধ্যে ৩টি পদই শূন্য রয়েছে ।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ চিকিৎসা কর্মকর্তার ২০টি পদ রয়েছে। তম্মধ্যে মেডিসিন, সার্জারি, এনেসথেসিয়া, অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞসহ ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসা কর্মকর্তার ৭টি পদের ৬টি পদই শূন্য। সূত্র আরো জানায়, হাসপাতালে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩শ’ রোগীর সেবা দেয়া হয়। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবদুল মজিদ, চিকিৎসা কর্মকর্তা আফইদা কোনোরকমে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের যে কোনো একজন অনুপস্থিত থাকলে অন্যকে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবিকার ১৫টি পদের মধ্যে ৬টি, স্বাস্থ্য সহকারী ২৮টি পদের মধ্যে ১৫টি, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৩টি পদের মধ্যে একটি, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৭টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য রয়েছে। ফার্মাসিষ্ট পদেও কেউ নেই। অফিস সহকারীর ৫টি পদের মধ্যে ৩টি শূন্য। প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষক, ল্যাবরেটরী, অপারেশান থিয়েটার এটেনডেন্ট ও ক্যাশিয়ার পদও শূন্য রয়েছে। ওয়ার্ডবয় পদে ৩ জনের মধ্যে আছে দু’জন। এম এল এস এস পদে ৪ জনের মধ্যে আছে দু’জন। ঝাড়ুদারের ৭টি পদের মধ্যে ৪টি পদই শূন্য। ফলে অধিকাংশ সময় পরিচ্ছন্নতার অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় থাকে। লাকসাম উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় মনোহরগঞ্জ উপজেলা এবং ৪টি ইউনিয়ন সংযুক্ত করা হয় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায়। নবগঠিত ওই ২ উপজেলায় এখনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ বা চালু হয়নি। ফলে ওই ২ উপজেলাসহ লাকসামের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ লোকের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। গত বছর ২৬শে ফেব্র“য়ারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সেবার মান বাড়েনি। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লাকসাম উপজেলার হামিরাবাগ গ্রাম থেকে আসা রোগী বিলকিস আক্তার (৪৬), ভাটবাড়িয়া গ্রাম থেকে আসা ফজিলতের নেছা (৪৮), বেতিহাটি গ্রাম থেকে আসা হাজেরা খাতুন (৪৫), ইছাপুরা থেকে আসা রমজান আলী (৫২) জানান, দু’দিন ধরে তারা পেটের পীড়ায় ভুগছেন কিন্তু ভিড়ের কারনে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেননি। নবগঠিত মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঠেঙ্গারবাম গ্রামের নার্গিস আক্তার (৩২) জানান, পেটের ব্যথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সামান্য কিছু ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়েছে। অন্য ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। মহিলা ওয়ার্ডের রোগী হতদরিদ্র ফুলমতি (৬২), জেসমিন (২৮) জানান, হাসাপতাল থেকে দেয়া ওষুধ ছাড়া বাইরে থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই চিকিৎসামত ওষুধ সেবন করতে না পারায় পেটের ব্যথাও ভাল হচ্ছে না। হাসপাতালে রয়েছে দু’টি এক্সরে মেশিন। তম্মধ্যে একটি সম্পূর্ণ অকেজো। অপরটি সচল থাকলেও রেডিওলোজিষ্ট নেই। ডেন্টাল ইউনিটটিও রয়েছে অকেজো। ৩টি অপারেশান থিয়েটার থাকলেও যন্ত্রপাতির অভাবে এগুলো এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি বিকল হয়ে পড়ে আছে প্রায় ৩ বছর ধরে। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকারে থাকতে হয় সকলকে। এখানে দু’টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অকেজো। অপরটিও অধিকাংশ সময় বিকল থাকে। এটি দিয়ে দূরে কোথাও রোগী নিয়ে আসা-যাওয়া করা যায় না।
হাসপাতালে নিরাপদ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। নলকূপের পানিতে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক। কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রোগী এবং রোগীর সঙ্গে আসা লোকজনকে বাধ্য হয়ে আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করতে হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুন নবী জানান, চিকিৎসক, জনবল, যন্ত্রপাতি সংকটসহ অন্যান্য সমস্যাদি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তিনি অবহিত করেছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...