গোমতীর পানি প্রবাহ সর্ব নিন্ম পর্যায়ে ৭ উপজেলার সেচ ব্যবস্থাপনা হুমকীর মুখে

কুমিলা গোমতী নদীতে পানি প্রবাহ  হ্রাস পেয়ে অধিকাংশ স্থানেই এখন হাটু পানি
কুমিলা গোমতী নদীতে পানি প্রবাহ হ্রাস পেয়ে অধিকাংশ স্থানেই এখন হাটু পানি
স্টাফ রিপোর্টার (কুমিল্লা) :
চৈত্র-বৈশাখ মাস এখনো শুরু হতে অনেক বাকী। কিন্তু এরই মধ্যে কুমিলা গোমতী নদীতে পানি প্রবাহ হ্রাস পেয়ে এখন সর্বনিন্ম পর্যায়ে রয়েছে।কুমিলার বুক চিড়ে বহমান এক সময়ের স্রোতস্বিনী সেই গোমতী এখন যেন একটি সংকীর্ন খাল।বর্ষাকালে ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে প্রায় প্রতি বছরই বাঁধ ভেঙ্গে কুমিলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও গ্রীম্মকাল শুরুর পূর্বেই পানি প্রবাহ অনেক কমে গিয়েছে। এতে জেলার ৭ উপজেলার সেচ ব্যবস্থাপনা চরম ঝুকির মুখে রয়েছে বলে জানাগেছে।
জানা যায় এক সময় দেশের অন্যতম মৎস্য আরোহনের ভান্ডার ছিল এ গোমতী। গোমতীকে ঘীরে নদী পথে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি গোমতী তীরের জেলে ছাড়াও স্বল্প আয় সম্পন্ন লোকজন নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো, তাদের অধিকাংশ এখন অন্য পেশায় নিয়োজিত,কেউবা বেকার। সুদীর্ঘ কাল যাবৎ গোমতী খনন না করায় শুধু মাত্র বর্ষাকালে ২/৩ সপ্তাহ পানি প্রবাহ বেশী থাকলেও বছরের অধিকাংশ সময়ই পানি প্রবাহ কম থাকে। কুমিলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলিক বিভাগের তথ্যানুয়ায়ী গত জানুয়ারি মাসে গোমতীতে ‘ওয়াটার রিডিং’ স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিন্ম পানি প্রবাহের হার ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৩৪ মিঃ মিঃ এবং ৭ দশমিক ০৫ মিঃ মিঃ। অর্থ বরাদ্দ না পাবার অজুহাত দেখিয়ে পাউবো গোমতী খনন না করলেও ফি-বছর গোমতী বাঁধ মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করলেও ওই বাঁধ রক্ষা ও তদারকীতে তাদের ভূমিকা নিয়েই এখন সচেতন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। গোমতীর প্রায় ৭০ কিঃ মিঃ প্রবাহ পথে জেলার আদর্শ সদর , বুড়িচং, ব্রাক্ষণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস এবং দাউদকান্দি উপজেলার একাংশ এলাকায় গোমতী থেকে পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ইরি বোরোসহ বিভিন্ন সেচ কাজে পানি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গোমতী বাঁধে ইনলেক্ট ট্রাকচারের মাধ্যমে পানি উভয় তীরের জমিতে নিয়ে কম খরচে সেচ দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে নদীর ভারতের অংশে কয়েকটি স্থানে সেচ প্রকল্পে অধিক পানি ব্যবহারের কারনে পানি প্রবাহ হ্রাস পেয়ে নদীতে নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি অধিকাংশ স্থানেই এখন হাটু পানি, জেগে উঠেছে অসংখ্য বালু চর। তাই নদীতে অতিরিক্ত পাইপ ফেলেও সেচ কাজে পানি উত্তোলণ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মেশিন মালিকরা। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাউবো’র একজন কর্মকর্তা জানান বিগত জোট সরকারে আমলে গোমতীকে রক্ষায় এর খননসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়নে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি,বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার জাতীয় সংসদে এ নিয়ে আলোচনা হলেও প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দে এখনো কোন অগ্রগতি নেই বলেও পাউবো সূত্রে জানাগেছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...