ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে এসএ গেমসের ফাইনালে বাংলাদেশ ফুটবল দল

12345
ক্রীড়া প্রতিবেদক :
শুক্রবার একাদশ সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের সেমিফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে এসএ গেমসের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল (পুরুষ)।
মাঠে নেমেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হন বাংলাদেশের জাহিদ হোসেন এমিলিরা। ৯ মিনিটেই বক্সের বাম দিক থিকে এমিলির জোরালো শট ভারতের গোলরক্ষক গারপ্রিত সিং কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। পরের মিনিটেই হানা দেন শাকিল। ভারতের গোলরক্ষক বাধা হয়ে দাঁড়ান এবারো। গোল করতে মরিয়া বাংলাদেশ খেলোয়াড়রা আক্রমণের পর আক্রমণ করে যায়। আর সেই আক্রমণ সামাল দিতেই ব্যস্ত থাকে ভারতের রক্ষণভাগ। স্বাগতিকদের আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত ভারতীয় দল পাল্টা হানা দিতে পেরেছে মাত্র কয়েকবার। ৩০ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে দূরপাল্লার শট নিলে আমিনুল বলের নিয়ন্ত্রণ হারান। কিন্তু পেছন থেকে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রেজা দলকে বিপদ মুক্ত করেন। প্রথমার্ধে কোনো পক্ষই গোল করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৫ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে সবুজের ক্রস ইউসুফ মাথা দিয়ে জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ডানদিকের পোস্টে লেগে বল চলে যায় সীমানার বাইরে। ৭৫ মিনিটে ভারতের পাল্টা আক্রমণ। ভিশাল কুমার রবীন্দ্রর লম্বা থ্রোকে জালের দিকে ঠেলে দেন জিজি লাল পেখুলা। কিন্তু বল লক্ষ্যে পৌঁছেনি।
৮৫ মিনিটে গোল ধরা দেয় বাংলাদেশের কাছে। আব্দুল বাতেন কোমল বক্সের মাথা থেকে গোলে কিক নিলে ভারতের গোলরক্ষক গারপ্রিত সিং ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুষি মেরে বল দূরে পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা বদলি খেলোয়াড় তৌহিদুল আলম সবুজ এক মুহূর্ত দেরি না করে ফিরতি বলে প্রচণ্ড শট নিয়ে নিশানা ভেদ করেন। তখনও মাটি থেকে উঠে দাঁড়াতে পারেননি ভরতের গোলরক্ষক। বাকি সময় সমতায় ফেরার মতো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি ভারতের খেলোয়াড়রা। উল্টো বাংলাদেশই চাপে রাখে তাদের। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠে স্টেডিয়াম।
খেলা শেষে উচ্ছসিত হয়ে ওঠেন কোচ জোরান জর্জেভিচ। বলেন, “আমরা মন-প্রাণ দিয়ে খেলে এই সাফল্য পেয়েছি। ছেলেরা দেশের জন্য সেরা খেলা খেলেছে। ফাইনালেও দর্শকদের মুখে এমন হাসি ফোঁটাতে চাই।” তবে ভারতেরও প্রশংসা না করে পারেননি জোরান। তিনি বলেন, “ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা বয়স ভিত্তিক দলগুলোকেও দেশের সেরা সেরা কোচ প্রশিক্ষণ দেন। এতে তারা ‘বেসিকে’ অনেকটা এগিয়ে থাকে।’
গোলদাতা বিকেএসপির ছেলে তৌহিদুল আলম সবুজ বলেন, “আমি যখন মাঠে নামি কোচ আমাকে বলেছিলেন, একটি গোল চাই ‘টাইগার’। আমি কথা রাখতে পেরেছি।” জাতীয় দলের হয়ে এখনো খেলা হয়নি সবুজের। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৬ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে এএফসি কাপ ফুটবলে খেলেছেন।
বাংলাদেশ গেমসে শেষবার ফাইনাল খেলেছে ১৯৯৯ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে। শিরোপাও জিতেছিল প্রথমবারের মতো। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর পর সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ পায়। কোচ সার্বিয়ার জোরান জর্জেভিচ শুধু সে কলঙ্কই মুছে দিলেন না, দলকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...