আবারো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়:নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল ও শোডাউন

CU-2
এম আহসান হাবীব, কুবি প্রতিনিধি :
রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রশাসনের উদাসীনতা ও নিরব ভূমিকায় আবারো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর তৎপরতা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় যে কোন সময়ে আবারো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ও সংঘাতের আশঙ্কা করছেন সাধারন ছাত্র-ছাত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল ও শোডাউন করেছে ছাত্রলীগ। বুধবার ছাত্রদল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে মোটর সাইকেল মহড়া দেয় এবং মিছিল করে। ছাত্রশিবিরও ক্যাম্পাসে অবস্থান মজবুত ও দল ভারি করতে গোপনে তাদের সক্রিয় কার্যক্রম চালাচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণদের সাক্ষাতকার চলাকালীন ছাত্রসংগঠনগুলো এই ব্যাপক শোডাউন ও মিছিল করে। ক্যাম্পাসে নিজেদের আধিপত্য নবাগতদের সামনে তুলে ধরতেই মিছিল ও শোডাউনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অনেকে অভিমত প্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর গত ২৭ ডিসেম্বর ক্যাম্পাস খোলা হয়। সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ২৪ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে সকল প্রকার মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ, পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমসহ যে কোন সংঘবদ্ধ কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা দিয়ে নোটিশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি। কিছুদিন এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়িত হলেও ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে শক্তি ও আধিপত্য প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় ছাত্রসংগঠনগুলো। ভর্তি পরীক্ষার দিন ছাত্রলীগের দুই গ্র“প ও ছাত্রদল ক্যাম্পাসসহ সবগুলো পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে ব্যানার টানানো, লিফলেট বিতরণ, শোডাউন, মোটর সাইকেল মহড়া এবং মিছিল করে। ছাত্রশিবির কৌশলে ‘এডভাইস’ গাইড ও ভর্তি তথ্য সহায়তার নামে পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে এ সকল কার্যক্রম চালায়। সকল দলের পক্ষেই বহিরাগতরা যাবতীয় কাজে অংশ নেয়। গত বুধবার থেকে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণদের সাক্ষাতকার শুরু হয়। এই সাক্ষাতকারের প্রথম দিনে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে শোডাউন করে এবং ছাত্রদল ক্যাম্পাসের সামনে মোটর সাইকেল মহড়া দেয় ও মিছিল করে। এছাড়া শিবিরের নেতাকর্মীরা ভর্তিচ্ছুদের সহায়তার নামে নবাগতদের নিজেদের দলে ভেড়ানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। গতকাল ছাত্রলীগ পুরো ক্যাম্পাসে শোডাউন করে এবং প্রধান ফটকের সামনে মিছিল করে। নিজেদের মিছিল ও শোডাউনে অংশগ্রহনের জন্য বুধবার রাতে আবাসিক হলের রুমে রুমে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতারা সাধারন ছাত্রদের নির্দেশ দিয়ে আসে বলে জানা যায়। যারা এতে অংশ নেবে না তাদের হলে থাকতে দেয়া হবে না বলেও শাসানো হয়। অন্যদিকে শিবির ও হলে তাদের অবস্থান সংগঠিত করছে। এমতাবস্থায় যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মিছিল ও শোডাউনের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা আলআমিন অর্নব জানান, আগের দিন ছাত্রদলের মোটর সাইকেল মহড়া ও মিছিলের বিরূদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে (মূল গেইটের সামনে) মিছিল করেছি। ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম চৌধুরী নোমান বলেন, প্রশাসন ও শিক্ষকদের একটি অংশ সব ক্ষেত্রে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন। ছাত্রলীগ ও শিবির ক্যাম্পাসে কাজ করছে বলেই আমরা কাজ করছি। শিবির নেতা ফয়সাল ক্যাম্পাসে তাদের কর্মকান্ডের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোন কাজ করছি না। সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর ড. আবু জাফর বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কোন ঘটনা ঘটেছে কি না আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রমাণিত হলে আমরা এর বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেব। বাস্তবতা যাই হোক সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা চান, বিশ্ববিদ্যালয় যেন আর বন্ধ না হয়ে যায়, সেশনজটের পরিধি যেন আর না বাড়ে। এজন্য তারা প্রশাসনের বলিষ্ঠ হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিভাবকমহল এবং কুমিল্লার সর্বস্তরের সুধীসমাজের সকলেরই দাবি, কারো ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আবারো যেন কোন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে যেন আবারো ক্রান্তিকালে পতিত হতে না হয়- এটাই সবার প্রাণের দাবি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...